পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অকা অকা [58] আকবরপুর। ২৪ চব্বিশপরগণার অন্তর্গত একটা পরগ- দেখিতে অধিক মলিন নয়, অধিক তাম্নবর্ণও নয়। শার নাম। মালদহেও আকবরপুর নামে একটা পরগণা আছে, তাহার স্থূল ক্ষেত্রফল ১৪০৭ বর্গমাইল। ঐ পর গণায় পচিশ ঘর জমিদার আছেন। উহার একদিকে গঙ্গা অন্যদিকে কালিনী নদী। তদ্ভিন্ন, কঙ্কর, গোবর গরৈয়া, ধৰ্ম্মদোলা, কন্ধা ও কাপ নামে কালিন্দীর কয়েকট শাখা এই পরগণার ভিতর আছে। বর্ষাকালে ঐ সকল নদী প্লাবিত হইয়া উঠে। ইহার প্রধান নগর হায়াতপুর। সুলতানগঞ্জ, হরিশ্চন্দ্রপুর, ভেগাল, ভলুকরাই, কেদারগঞ্জ, দেবীপুর এবং কমলপুর গ্রামে প্রতি সপ্তাহে হাট বসে। আকবরবন্দর। রঙ্গপুর জেলার অন্তর্গত একটী স্থানের নাম । ইহা তিস্তানদীর কূলে অবস্থিত । এখানে তামাকু ও পাটের বিলক্ষণ ক্রয় বিক্রয় হইয়া থাকে। অকবরশাহী। বীরভূম জেলার অন্তর্গত শানুরুল বা সুরু লের প্রাচীন নাম । [ সুরুল দেখ ] । অকবরাবাদ। মালদহের অন্তর্গত একটা পরগণার নাম। ১৪৩৮ বগমাইল বিস্তার । এই পরগণায় তিন ঘর জমিদার আছেন । এখানকার ভূমি উৰ্ব্বর, উত্তম শস্যাদি জন্মে ; জলবায়ুও স্বাস্থ্যকর। বর্তমান আগ্রা সহরের নামও আকবরীবাদ। প্রথমে যমুনার পরপারে সহর ছিল, অবশেষে আকবর সম্রাট যমুনার পশ্চিম কূলে এই নূতন নগর নিৰ্ম্মাণ করাইয়াছিলেন। প্রাচীন আগ্রার নিদর্শন অদ্যাপি বিদ্যমান রহিয়াছে । [ আগ্রা দেখ } । অকবা (ত্রি) ন কব্যতে বর্ণ্যতে । (বৈদিক শব্দ ) । যাহ। বর্ণনীয় নহে। অকষ্টবদ্ধ । নাস্তি কষ্টং কৃচ্ছ মতিচ্চুঃসহংযন্মাৎ তেন বন্ধম্। আক্রান্তং । অত্যন্ত কষ্টযুক্ত। অকস্মাৎ (অব্য) ন কন্মাৎ, আলুক । কস্মাৎ কিম্ শব্দের পঞ্চমীর এক বচনান্ত রূপ । হঠাৎ, সহসা, আগন্তুক, সপদি। বিন কারণে। পূৰ্ব্বলক্ষণ বিনা কোথা হইতে উপস্থিত হইল তাহার স্থিরতা নাই, ইহাই অকস্মাৎ শব্দের প্রকৃত অর্থ। * অকস্মাৎ বিপদ—অর্থাৎ এ বিপদ উপস্থিত হইবে পূৰ্ব্বে তাহার কোন লক্ষণ কেহই জানিতে পারে নাই । অক। আসামের উত্তর সীমবৰ্ত্তি-পৰ্ব্বতের অসভ্য জাতি বিশেষ। ইহাদের মুখ গোল ও চেপ্টা, নাক স্থল; চক্ষু অপেক্ষান্ধত ক্ষুদ্র ; গালের অস্থি উচ ; দেহ মধ্যমাকার; স্ত্রীলোকেরা মুত্র নহে; তাহাদের গঠনেরও লাবণ্য নাই। পৰ্ব্বতের উপর ভরণী নদীর জলোচ্ছাসের উদ্ধ ভাগে এই জাতির বাসস্থান । সেখানকার পথ অত্যন্ত দুৰ্গম ; তরাই হইতে উঠিতে হইলে প্রণাস্ত পরিচ্ছেদ হয়। অকাজাতি দুই প্রধান সম্প্রদায়ে বিভক্ত। এক সম্প্রদায়ের নাম হাজারী-কোয়াদ । এই শব্দের অর্থ—হাজার রন্ধনশালার খাদক । দ্বিতীয় সম্প্রদায়ের নাম—কুপচোর। কুপচোর শব্দে কাপাসক্ষেত্রের চোরকে বুঝায় । এই দুটা শব্দই আসামীভাষার অপভ্রংশ। পূৰ্ব্বে ইহার পৰ্ব্বতের নিম্নে আসিয়া জনপদের মধ্যে মহা উৎপাত করিত । ব্ৰহ্মপুত্রনদে নৌকা ও তীর্থযাত্রিদের দ্রব্যসামগ্রী লুটপাট করিয়া বেড়াইত । কৃষকদের ক্ষেত্র হইতে কাপাস ও শস্যাদি হরণ করিত, তজ্জন্য অকাদের দুই সম্প্রদায়ের এপ্রকার নাম হইয়াছে। অকাদের উত্তরে মিয়ী জাতি। তাহারাও অসভ্য । অকাদের সঙ্গে মিষ্ট্ৰী কন্যার আদান প্রদান চলে। মিৰ্ম্মীরা কখন পৰ্ব্বতের নিয়ে আসে না, কেবল আকার বিপদে পড়িলেই আত্মীয় স্বজনকে উদ্ধার করিবার জন্য তাহারা পৰ্ব্বত হইতে নামিয়া আসে। অকাদের সব্বসমেত ২৩০ ঘর পরিবার, মির্মীজাতির ৪০০ ঘর । অসভ্যাবস্থায় সকল জাতিই কেবল বাহা জগতে ঐশা শক্তি দেখিতে পায়। স্বাক্টর মধ্যে যাহা কিছু অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর, যাহা হইতে বিপদ ঘটিবার সম্ভাবনা,—দেবত। সেই থানে, সেহ ।সেই ঈশ্বরত্ব বিদ্যমান আছে । প্রাচীন ঋগ্বেদ হইতে আমরা ইহাই দেখিয়া আসিতেছি। অকারা পৰ্ব্বতে থাকে। পৰ্ব্বতের ভয়ঙ্কর,— উচ্চ চুড়া, কল্লোলিনী নদী, বন্যপশুপূর্ণ নিবিড় জঙ্গল, এই গুলিকেই তাহারা দেবতা বলিয়া মানে । ফুক্ষ, জঙ্গলের ও জলের দেবতা । যুদ্ধের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা— ফিরন ও সিমন। সতু, ক্ষেত্রের ও গৃহের দেবতা। অক। দের পুরোহিতের নাম দেবরী । দেবীকে পূজাদি কয়েকট দৈবক্রিয়া করিতে হয়। এক একটা কুটীরে জঙ্গলাদি দেবমূৰ্ত্তী স্থাপিত আছে । পুরোহিত সেই সকল দেবতার পুজা করেন। শস্য কাটিলে তিনি দেবতাদিগকে তাহার অগ্রভাগ উৎসর্গ করিয়া দেন । বিবাহের সময় আমাদের হাতে স্থত বাধিতে হয়। অকারা অসভ্য, কিন্তু তাহাদের মধ্যেও এই মঙ্গলাচরণটা প্রচলিত আছে। বিবাহের পূৰ্ব্বে পুরোহিত গিয়: বর