পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৪৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিধান (881 | অভিধান এরূপ শব্দের শক্তি বিশেষ। (তত্র সঙ্কেতিতাৰ্থস্ত বোধনাদ গ্রিমাভিধা। সাহিত্য দ০ । তাহাদের মধ্যে সঙ্কেতিত অৰ্থ বুঝাইয় দেয় বলিয়া অভিধা প্রধান )। অভিধান (ক্লী) অভিধা-ভাবে লুট, কথন। অভিধীয়তে কথাতে অনেন করণে লুট নাম। ধ্বনি । নিৰ্ঘোষ। শব্দের অর্থ প্রকাশক গ্রন্থ বিশেষ । ংস্কৃত ভাষায় অনেকগুলি অভিধান চলিত আছে । তাহার মধ্যে কতকগুলি পুস্তকেরই অধিক আদর। অমর সিংহ বিরচিত নানার্থবৰ্গযুক্ত নামলিঙ্গানুশাসন। এই পুস্তক সচরাচয় অমরকোষ নামে প্রসিদ্ধ। মহেশ্বরের বিরচিত বিশ্বপ্রকাশ । হেমচন্দ্রের বিরচিত অভিধানচিন্তামণি । হলায়ুধ প্রণীত রত্নাবলী । পুরুষোত্তম দেব বিরচিত ত্রিকাগুশেষ। র্তাহার রচিত আর একখানি পুস্তকের নাম হারাবলী। মেদিনীকার প্রণীত নানার্থশককোষ। অনেকার্থ ধ্বনিমঞ্জরী। মাতৃকা নিঘণ্ট । শাশ্বত । একাক্ষর কোষ। অব্যয় কোষ। কেশব রচিত কল্পদ্র কোস। ধরণী কোষ। উণাদি কোষ। শার্গব । এই সমস্ত অভিধানের মধ্যে অমরকোষই অধিক প্রাচীন । ইহা মহারাজ বিক্রমাদিত্যের সভাসদ অমর সিংহের বিরচিত। ইতিহাসে তিন জন বিক্রমাদিত্যের নাম পাওষা যায়। তন্মধ্যে যাহার নামে সংবৎ চলিয়: আসিতেছে, তিনিই প্রথম । খৃষ্ট পঞ্চম ও একাদশ শতাদিতে আরও দুই জন বিক্রমাদিত্য রাজা হইয়াছিলেন। অমর সিংহ তাহাদের মধ্যে কোন রাজার সভায় থাকিতেন, সে কথা বলা কঠিন। অমর বৌদ্ধ ছিলেন। প্রবাদ আছে, তাহার রচিত অনেক গুলি কাব্যও ছিল । খৃষ্ট পঞ্চম শতাবিতে ব্রাহ্মণের প্রবল হইয়া উঠিলে সমস্ত পুস্তক দগ্ধ করিয়া দিয়াছিলেন । সে সময়ে কেবল অভিধান খানি নষ্ট হর নাই । অমরকোষ তিন কাণ্ডে বিভক্ত, তৰ্জ্জন্য কেহ কেহ ইহাকে ত্রিকাগুও বলিয়া থাকেন। এই পুস্তকে প্রায় ১•,••• শক আছে। নানার্থ প্রকরণে শব্দগুলি সাজাইবার অন্ত কোন নিয়ম নাই, কেবল অস্ত্যবন ধরিয়া গ্রথিত হইয়াছে। ইহার আমুকূল্যে লিঙ্গ এবং শব্দের অর্থবোধ হয়। কিন্তু আমাদের দেশে পূৰ্ব্বে আদ্যবর্ণনানুক্রমে অভিধান রচনা করা হইত না, সে কারণ কোন শস্ব বাহির করিতে হইলে বিস্তর কষ্ট হয়। তদ্ভিন্ন আরও একটা দোষ আছে। অনেক স্থলে এক এক চল্পণের মধ্যে পৃথক পৃথক শব্দ ও তাহাঁদের অর্থ লিখিত হইয়াছে, অতএব কোন শব্দের কি অর্থ, ইহাও বুঝিয়া লইতে একটু বিবেচনা চাই । বোধ হয়, অমরকোষের পয় বিশ্বপ্রকাশ রচিত হইয়াছিল। এই পুস্তক সচরাচর কেবল বিশ্ব’ নামে প্রসিদ্ধ। মহেশ্বর, খৃষ্টের দ্বাদশ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন । বিশ্বপ্রকাশে একাক্ষর, দ্ব্যক্ষর, ত্র্যক্ষর ইত্যাদি প্রণালীতে শব্দ গ্রথিত হইয়াছে। অস্ত্য প্রত্যয়ামুসারে ইহার শব্ব সাজাইবার আর একটা প্রণালী দেখা যায়। যাহা হউক ইচ্ছা করিলে কোন শব্দই সহজে বাহির করা যায় না । হেমচন্দ্র ও খৃষ্টের দ্বাদশশতাব্দীতে প্রান্ধুভূত হইয়াছিলেন । কিন্তু ইনি মহেশ্বরের পরবর্তী লোক। হেমচন্দ্র অনেক স্থলে মহেশ্বরের প্রণালী অনুসারে শব্দ সংগ্ৰহ করিয়াছেন । হলায়ুধ গৌড়ের রাজা লক্ষ্মণসেনের সভায় বর্তমান ছিলেন । এ পরিচয় ভিনি নিজেই ব্রাহ্মণসৰ্ব্বস্বের প্রারম্ভে দিয়াছেন। প্রথম লক্ষ্মণসেন খৃষ্ট একাদশ শতাব্দীতে প্রাচুভূত হইয়াছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুমান হয়, হলায়ুধ প্রভৃতি পণ্ডিতগণ দ্বিতীয় লক্ষণসেনের সময়েই বর্তমান ছিলেন । পুরুষোত্তমদেব হলাযুধের বংশধর। তিনি খৃষ্ট ত্রয়োদশ শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন। তাহার রচিত ত্রিকাগুশেষ অমরমিংহের অভিধানের পরিশিষ্ট মাত্র । ইহা অমরকোষের প্রণালীতেই সঙ্কলিত হইয়াছে। ষে সকল শব সচরাচর অন্যত্র দেখা যায় না, পুরুষোত্তমের ত্রিকাগুশেষ সংগ্রহে তাহার কতক দৃষ্ট হয়। মেদিনিকার খৃষ্টের পঞ্চদশ শতাব্দীতে প্রাচুভূত হন। ইহার শবা সঙ্কলনের প্রণালী কতকটা বিশ্বপ্রকাশের মত ও কতকটা হেমচন্দ্রের নানার্থের মত। বোধ হয় মেদিনিকারের সমরে ভারতবর্ষের লোক জলপথে ব্রহ্মদেশে যাইতেন। তজ্জন্ত মঘের দেশ একটী দ্বীপ বলিয়া র্তাহাদের বিশ্বাস ছিল । মেদিনিকার লিখিয়াছেন,"মন্ধে৷ দ্বীপান্তরে’ । মঘদেশ দ্বীপান্তর বিশেষ। এই কোষ অনেক স্থলে বিশ্বপ্রকাশের অনুকরণ মাত্র। শাশ্বতের নানার্থ সমুচ্চয় অতি প্রাচীন পুস্তক। বোধ হয় ইহ৷ খৃষ্ট দ্বাদশ শতাব্দীতে সঙ্কলিত হইয়াছিল। নানার্থধ্বনিমঞ্জরী, মাতৃকাকোষ, একাক্ষরকোয, অব্যয়কোষ, উশাদিকোষ প্রভৃতি অভিধান গুলি অধিক দিনের রচিত নহে।