পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৫৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অযোধ্য। পারে । সরযুকূলে অনেক গুলি ঘাট, কিন্তু সকল গুলি বাধান নয়। রামবাট, ভরতঘাট, লক্ষ্মণঘাট, শক্রন্থেরঘাট, এই রূপ এক একটা ঘাটের এক একটা নাম। এ সকল ঘাটে পূৰ্ব্ব কৃতি কিছুই নাই। রামের ঘাটে এখন ধোবার কাপড় কাচিতেছে। গুপ্তঘাটে একটা স্বভৃঙ্গ আছে। পাণ্ডার বলে, ঐ মুড়ঙ্গ দিয়া রামচন্দ্র সরযু জলে প্রবেশ করিয়াছিলেন । স্বৰ্গঘাট পাকা করিয়া বঁাধান। উপরে মনোহর বৃক্ষশ্রেণী। যাত্রীরা এই থানে স্নান দান ও ভোজ্যাদি উৎসর্গ করেন । ঘর্ঘরা হইতে কিঞ্চিৎ উত্তরে কর্ণালগঞ্জের কাছে অগস্ত্য মুনির সমাধি স্থান । অযোধ্যায় সাত সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবের সাতটা মঠ আছে । প্রত্যেক মঠে এক এক জন মহাত্ম ও র্তাহাদের চেলা অবস্থিতি করেন । হনুমান গড়ে নিৰ্ব্বাণী সম্প্রদায়ের মঠ। এই সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবেরা চারি শ্রেণীতে বিভক্ত; যথা-কৃষ্ণদাসী তুলসীদাসী, মণিরামী এবং জানকীশরণদাসী। নিৰ্ব্বাণী আখড়ায় প্রায় ছয় শত চেলা আছে, তাহার মধ্যে প্রায় তিন শত চেল৷ সৰ্ব্বদা উপস্থিত থাকে । রামখাটে এবং গুপ্তঘাটে নিৰ্ম্মোহী সম্প্রদায় বৈষ্ণবদিগের আখড়। কথিত আছে,প্রায় দুই শত বৎসর অতীত হইল জয়পুর হইতে গোবিন্দদাস নামে জনৈক বৈরাগী কতকগুলি মিষ্কর ভূমি পাইয়া অযোধ্যার রামঘাটে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন । তাহার পর গুপ্তঘাটেও আর একটা আখড়া স্থাপিত হয়। বস্তি, মঙ্কপুর এবং খুর্দাবাদে এই সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবদের নিষ্কর ভূমি আছে। দিগম্বরী আর একটা সম্প্রদায়ের বৈষ্ণব। প্রায় দুই শত বৎসর অতীত হইল শ্ৰীবলরাম দাস অযোধ্যায় .আসিয়৷ এই মঠ সংস্থাপন করেন। এই আখড়ায় ১৪ । ১৫ জনের অধিক চেলা থাকে না । ইহাদেরও নিষ্কর ভূমি আছে। বুজা-উ-দৌলার শাসনকালে দয়ারাম নামে জনৈক ব্যক্তি চিত্ৰকুট হইতে আসিয়া থাকী সম্প্রদায় বৈষ্ণবদের আখড়া স্থাপন করেন। প্রবাদ আছে, লক্ষ্মণ বনে যাইবার সময়ে সৰ্ব্বাঙ্গে ভষ্ম মাখিয়া রামের অনুগমন করিয়াছিলেন । তাই খাকী বৈরাগীরা সৰ্ব্বাঙ্গে ভষ্ম মাথিয় থাকে। এই আখড়ায় প্রায় ১৮০ জন চেল। আছে। তাছার মধ্যে প্রায় ৫ জন চেলা সৰ্ব্বদা উপ [¢२९ ] আয়োধ্যা স্থিত থাকে । মহামিৰ্ব্বাণী সম্প্রদায়ের আখড়াও মুজা-উ-দৌলার শাসনকালে স্থাপিত হয়। পুরুষোত্তম দাস মহান্ত কোটাবন্দী হইতে আসিয়া এই আখড়া স্থাপন করেন। এই আখড়ায় প্রায় পচিশজন চেলা আছে। তাহারা কিলেই প্রায় তীর্থ ভ্রমণ করিয়া বেড়ায়। " - মন্সর আলিখার শাসনকালে রতিরাম নামে জনৈক মহাস্তু জয়পুর হইতে আসিয়া সন্তোষী সম্প্রদায়ের মঠ স্থাপন করেন। কিন্তু দুই জন মহান্তের পরে বৈরাগীর। এই স্থান পরিত্যাগ করিয়া গেলেন, আখড়াও ভাঙ্গিয়া গেল । তাহার পর নিধিসিংহ নামক জনৈক ধনবান ব্যক্তি পুরাতন মঠের স্থান নির্দিষ্ট করিয়া একটা মন্দির স্থাপন করিলেন। অবশেষে কুশলদাস নামে জনৈক সন্তোষী সম্প্রদায়ের বৈষ্ণব আসিয়া একটা অশোক বৃক্ষের মুলে বাস করিতেন। সেই খানেই তাহার মৃত্যু হয়। মহাস্তেয় মৃত্যু হইলে রামকৃষ্ণ তথায় বর্তমান মন্দির নিৰ্ম্মাণ করাইয়া দিয়াছেন । সুজা-উ-দৌলার শাসন কালে শ্ৰীবীরমল দাস কোট। হইতে আসিয়া নিরালম্বী সম্প্রদায়ের মঠ স্থাপন করেন। কিন্তু কিছু দিন পরে এই আখড়া পরিত্যক্ত হইয়াছিল। তাহার পর নৃসিংহ দাস নামে আর এক জন বৈরাগী আসিয়া বর্তমান মন্দির সংস্থাপন করেন। অযোধ্যা পুরী স্থাপিত হইলে পর এখানে অনেক

রাজবিপ্লব ও ধৰ্ম্মবিপ্লব হইরা গিয়াছে। উপরে বিক্রমাজিৎ রাজার বিষয় কথিত হইয়াছে। শুনিতে পাওয়া যায়, তিনি নাকি আশি বৎসর অমোধ্যায় রাজত্ব করিরাছিলেন। পরে সমুদ্র পাল নামক জনৈক যোগী অভিচার মন্ত্রদ্বারা তাহার প্রাণাত্মাকে উড়াইয়া দিলেন। প্রাণবায়ু দেহ ছাড়িয়া গেল, তখন সিদ্ধযোগী সেই মুতশরীয়ে নিজে প্রবেশ করিলেন। এই যোগীর সপ্তম পুরুষ পৰ্য্যস্ত নাকি অযোধ্যায় রাজত্ব করিয়ছিলেন । কিন্তু তাছাদের রাজত্বকাল যে রূপ নির্দিষ্ট হইয়াছে তাহ আদৌ বিশ্বাস করা যায় না। প্রবাদ আছে, ছয় শততেতাল্লিশ বৎসর পর্য্যস্ত অযোধ্যায় সমুদ্র পালদিগের আধিপত্য ছিল। অতএব হিসাব করিলে প্রত্যেক রাজার রাজত্বকাল ৯১ বৎসরেরও অধিক হইয়া পড়ে । - * , কোশলের মধ্যে শ্রাবস্তী স্থায় একটা প্রাচীন গ্রসিদ্ধ । স্থান । ইক্ষাকু হইতে অষ্টম পুরুধ পরে যুবৰাধের পুত্র