পাতা:বিশ্বকোষ ষষ্ঠ খণ্ড.djvu/৩৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ष्ट्रि ठल [ ७8२ ] চিলমুরী سید محمد حسیستتاح শিকার পাইলে উড়িতে উড়িতেই তাহা ভক্ষণ করিয়া ফেলে ও পুনৰ্ব্বার উড়িতে থাকে। ছো মারিবার সময় ইহার লম্ব ভাবে ভূতলে আইসে না, বৃত্তপথে অবতরণ করিয়া ভূভাগ স্পর্শ করে ও সেই বেগেই চলিয়া যায় । কোন কোন চিল জলে ছো মারিয়া মৎস্ত ধরে, অনেক সময় মৎস্ত ধরিতে গিয়া জলে ডুবিয়া যায়, পরে অনেক কষ্টে উপরে জাসিয়া উড়িয়া যায়। মৎস্ত ধরিবার স্থানে, কসাইখানার উপরে এবং বাজার প্রভৃতির নিকট যথায় পরিত্যক্ত খাদ্য ও জঞ্জালাদি প্রক্ষিপ্ত হয়, সেইখানে বহুসংখ্যক চিল উড়িতে দেখা যায়। জাহাজাদির উপরও বহুসংখ্যক চিল উড়িয়া থাকে, সেই জন্ত কোন বৈদেশিক নূতন ভারতবর্ষে অসিলে প্রথমেই দেথিতে পান বহুসংখ্যক চিল র্তাহার মস্তকের উপর উড়িতেছে ও মধ্যে মধ্যে জাহাজের পাটতনে প্রক্ষিপ্ত, অস্ত্রাদি আবর্জন বেগে তুলিয়া লইয়া যাইতেছে। শঙ্খচিলের বর্ণ তাম্রাভ লোহিত । ইহাদের গলদেশ শুভ্রবর্ণ। ডোমচিলের বর্ণ কৃষ্ণাভ ধূসর ও দেখিতে অতি কদৰ্য্য । পুরাণের মতে—ভগবতী এক সময় শঙ্খচিলের রূপ ধারণ করিয়াছিলেন, সেই জন্তই হউক, অথবা ইহার সুন্দর আকার দেখিয়াই হউক এদেশীয় অনেক লোক শঙ্খচিলকে বিশেষ সমাদর করে । রবিবারে এইরূপ অনেক লোক মৎস্ত ও অন্যান্ত খাদ্য লইয়া ছড়াইতে থাকে ও ঝাকে বীকে শঙ্খচিল আসিয়া উহা ভোজন করে। কোন কার্যোপলক্ষে যাত্রাকালে শঙ্খচিল দেখিলে উহারা বিশেষ শুভলক্ষণ মনে করে, এবং কার্য্যে সফলতা নিশ্চিত বলিয়া স্থির করে । বালকবালিকাগণও শৈশাবধি এইরূপ দেখিয়া শঙ্খচিলকে আদর করিতে শিক্ষণ করে। শঙ্খচিল দেখিতে পাইলে দল শুদ্ধ বালকবালিকার এই বলিয়া চীৎকার করে “শঙ্খচিলের ঘটী বাট । ডোম চিলকে কুড়লে কাটি ॥” দেখিতে পাওয়া যায় । এই চিল এদেশীয় কেহ মারে না এই জন্য ইহার অতিশয় নিৰ্ভীক । কলিকাতা প্রভৃতি সহরের ভিতর ইহাদের উপদ্রবে খাদ্যদ্রব্য, মৎস্ত, মাংসাদি অতি সাবধানে লইয়া যাইতে হয়। একটু অসাবধান হইলেই চিল বেগে এক - ঝাপ্টা দিয়া যথা সাধ্য লইয়া যায়। ইহারা অনেক সময় বালক বালিকার হস্ত হইতে মিষ্টান্ন কাড়িয়া লইয়া ভক্ষণ করে। অনেকের বিশ্বাস শঙ্খ চিল বিষ্ণুর বাহন ও গরুড়েরই রূপান্তর, ইংরাজগণ ইহাদিগকে ব্রাহ্মণ-চিল ( Brahmany kite ) নামে উল্লেখ করেন । শ্বেত ও কৃষ্ণবর্ণের আরও অনেক রকম চিল দেখিতে পাওয়া যায় । পৌষ, মাঘ মাসে ইহারা ডিম পাড়ে । উচ্চ বৃক্ষের শাখায়, মন্দির মেটালিকাদির চূড়ার বা পাহাড়াদির উপরে ইহার বালা নিৰ্ম্মাণ করে, একবারে দুই তিনটীর অধিক ডিম পাড়ে না। ছানা হইবার সময় বিশেষ সত্তর্কে যাস রক্ষা করে । ইহার অপরাপর পক্ষীর বাস হইতে স্থান লইয়া নিজের শাবকগণকে ভক্ষণ করাইয়া থাকে। হংস ও কুকুটাদির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাবক প্রায়ই ইহাদিগের গ্রাসে পতিত হয় । উড়িতে উড়িতে কিম্বা অন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর সহিত বিরোধ উপস্থিত হইলে ইহার একরূপ চি চি শব্দ করে। ঐ শব্দ প্রায় ক্ষে রবের সদৃশ। ইহাদের শব্দ হইতেই সম্ভবতঃ ইহাদিগের নাম চিল হইয়া থাকিবে । চিল অপেক্ষাকৃত উদ্ধভাগে উড়িতে পারে, ইহাদের দৃষ্টিও অতিশয় তীক্ষ। চিল (চিরশত্ৰজ) চিহ্মপক্ষী, চিল। চিলনদেব, নেপালের অন্তর্গত পাটন ও কীর্তিপুরের কএকটা মন্দির। প্রত্যেক স্থানে পাচটা করিয়া মন্দির অাছে । মধ্যস্থলের মন্দিরটা সৰ্ব্বোচ্চ । মন্দিরগুলির গঠন প্রণালীর অতিশয় পরিপাটী আছে। ইহার মধ্যে স্থাপিত বুদ্ধদেবের মুৰ্ত্তিগুলিও অতি সুন্দর । পাটনের মন্দির একটা পুষ্করিণীর পশ্চিমদিকে অবস্থিত । কিম্বদন্তী আছে যে, সম্রাট অশোক যখন এই মন্দিরটা নিৰ্ম্মাণ করেন, সরোবরটাও সেই সময়ে খনন করা হইয়াছিল । এই মন্দিরটার পূর্বদিকে একখানি প্রস্তর ফলকে লেখা আছে যে, মধ্যস্থিত চৈত্যটা এবং ইহার চারি কোণে অবস্থিত অপর চারিটা শেরিস্থ। নিবার মেগাপাল (Megapul) ১৩৫৭ খৃষ্টাব্দে উত্তমরূপে সংস্কার করেন। ১৬৯০ খৃষ্টাব্দে, ৮১০ জন বানহ (Banhras) একত্র হইয়া এই মন্দিরের অন্তর্গত একটা ধরম-ধাতুমণ্ডল নিৰ্ম্মাণ করে। ১৫০৯ খৃষ্টাব্দের পূৰ্ব্বে, কীৰ্ত্তিপুরের মন্দির সম্বন্ধে কিছু অবগত হওয়া যায় নাই । একখানি প্রস্তরফলক পাঠে জানা যায় যে, উক্ত অব্দে এই মন্দিরটর সংস্কার করা হয় এবং ইহার সঙ্গে সঙ্গে ইহাকে পরিবদ্ধিত করা হইয়াছিল । এই মনিটের অন্তর্গত একটা ধরম-ধাতুমণ্ডল এবং ইহার চারিদিকে “অষ্ট মঙ্গল” শব্দদ্বয় খোদিত আছে। ১৬৬৯ খৃষ্টাব্দে, বান্‌ছ জাতীয় দুই ভ্রাত ইহ নিৰ্ম্মাণ করিয়াছিল । মন্দিরের দক্ষিণপুৰ্ব্ব কোণে একটা ক্ষুদ্র দেবালয় আছে। ইহার ভিতরে বুদ্ধদেবের ত্রিমূৰ্ত্তি প্রতিষ্ঠিত। ১৬৭৩ খৃষ্টাব্দে রাজা শ্ৰীনিবাস মল্পের (Mali) রাজত্বকালে, বানহ কর্তৃক এই দেবালয়ট নিৰ্ম্মিত হয়। চিলপুত, বৃক্ষভেদ। চিলমুরী, বৃক্ষভেদ।