পাতা:বিশ্বকোষ ষষ্ঠ খণ্ড.djvu/৫৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ख्रश्नांलीच्वं *स्8िऊ “তোমার যে কলেবর, জাছয়ে বৈকুণ্ঠস্থল, মন্দিরের উত্তরাংশে । যদি তব আজ্ঞা পাই, সেই মূৰ্ত্তি লই যাই, সেবা প্রকাশিব গৌড়দেশে ॥” তখন ভগবান ভক্তকে কৃপা করিয়া বলিয়াছিলেন— “অঙ্গিকার করিলু তোমায়। চলি যাহ একেশ্বর, লই মোর কলেবর, যেই স্থানে তব ইচ্ছা হয়।” (জগদীশচরিত্র ৮ ব) পরে জগদীশ পণ্ডিত জগন্নাথমৃত্তি আনিয়া জসোড়াগ্রামে স্থাপন করিলেন । জসোড়ার রাজা দেবসেবার জন্য জগদীশকে অনেক ভূমি দান করিলেন, এখানে পণ্ডিত পত্নী ও ভ্রাতাকে অনাইয়া বাস করিতে লাগিলেন । অল্প দিন পরেই মহেশ পণ্ডিতের বিবাহ হইল, তিনি শ্বশুরালয়ে গিয়া বাস করিলেন । ঘথাকালে জসোড়াগ্রামে জগদীশ পণ্ডিতের তিন পুত্র জম্মিল এক দিন চৈতন্তদেব নিত্যানন্দকে সঙ্গে করিয়া গৃহে আসিয়া উপস্থিত হইলেন । আনন্দদাস লিখিয়াছেন, এখানে চৈতন্যদেব পরমান্ন থাইতে ইচ্ছা করেন । জগদীশের গৃহিণী চৈতন্তের আগমনে আনন্দে বিহবল হইয়৷ রন্ধন করিতেছিলেন, সেই সময় মহাপ্রভু জগদীশকে বলিয়াছিলেন, “আমার বড়ই হাত জালা করিতেছে, তুমি রন্ধনশালায় গিয়া ঔষধ আন ।” জগদীশ রন্ধনশালায় আসিয়া দেখিলেন, দুখিনী দেবী কাঠির পরিবর্তে নিজ হস্ত দ্বারা পরমান্ন নাড়িতেছেন, তাহাতে তাহার ক্ৰক্ষেপ নাই । জগদীশ বুঝিলেন যে এই জন্যই মহাপ্রভুর হাতে জ্বালা করিতেছে । তিনি পত্নীকে ডাকিয়া বলিলেন, “তুমি হাত দিয়া রাধিতেছ, হাত যে পুড়িয়া যাইবে।” এতক্ষণ দুখিনীর জ্ঞান ছিল না। তিনি কিছু অপ্রস্তুত হইয়া হাত সরাইয়া লইলেন এবং কহিলেন, “আমার হাতে ত কিছুই লাগে নাই ।” জগদীশ কহিলেন, “তোমার লাগে নাই বটে, কিন্তু ভক্ত বৎসল মহাপ্রভুর হাত জালা করিতেছে ।” চৈতন্যদেব মহাপরিতোষে পরমান্ন ভোজন করিলেন । তখন পৌষ মাস, মিত্যানন্দ সেই অকালে জগদীশের নিকট আম খাইয়া পরম পরিতোষ লাভ করিলেন। এখানে উভয়ে কিছুদিন থাকিলেন । সেই সময়ে জগদীশের বিষ্ণুদ্বেষী তিন পুত্রের মৃত্যু হয় । চৈতন্যদেব ছুধিনীকে সাৰনা করিয়া চলিয়া আলিলেন । জগদীশ এক গৌরাঙ্গ মূৰ্ত্তি স্থাপন করিয়া তাহার পূজা করিতে লাগিলেন । সেই মূৰ্ত্তির নাম হুইল গৌরগোপাল। VI [ &&१ S 8 o' | জগদীশ পণ্ডিত o কৰি জানাদাল লিখিয়াছেন, সেই গৌরগোপাল মূৰ্ত্তি ছখিনী দেবীকে মা বলিয়া ডাকিতেন ও দেবী তাছাকে কোলে লইয়। স্তস্কপাল করাইতেন। চৈতম্ভদেৰ শাস্তিপুরে অদ্বৈতের গৃহে সেই কথা প্রকাশ করেন এবং স্বমূৰ্ত্তি দেখিৰার জল্প আর একবার জলোড়ায় আগমন করিলেন । চৈতন্যকে দেখিয়া ছখিনী দেবী গৌরগোপাল মূৰ্ত্তি লুকাইয়া রাখিলেন। নিত্যানন্দ ও চৈতন্যদেবের আহারের জন্ত দুইখানি আসন পাতা হইলে চৈতন্তদেব বলিলেন, “পণ্ডিত ! শুনিলাম এক ভাস্কর আসিয়া আমার মূৰ্ত্তি গড়িয়া গিয়াছে, তুমি তাহাকে আমি ভাবিয়া পূজা কর, সেই মূর্তিও নাকি দুখিনী দেবীকে মা বলিয়া ডাকে । তাহার জন্য একখানি আসন পাতিয়া দাও। তাতে আর আমাতে ভেদ নাই। সেই মূৰ্ত্তি বাহির করিয়া আন, আমরা তিনজনে একস্থানে ভোজন করিব।” জগদীশ গৌরগোপালমুর্তি বাহির করিলেন। নিত্যানন্দ সেই মূৰ্ত্তি দেখিয়া অবাক হইলেন। একবার চৈতন্তের দিকে চান, একবার মূৰ্ত্তি দেখেন । উভয়ে কোন প্রভেদ দেখিতে পাইলেন না । তিনজনের ভোগ হইল, জগদীশ শেষে প্রসাদ পাইলেন । তৎপরে চৈতন্ত্য ও নিত্যানন্দ নিদ্রিত হইলেন । নিত্যানন্দ নিদ্রাভঙ্গে দেখিলেন, গৌরগোপাল দুখিনীর কোলে থাকিয় মাতৃসম্বোধন ও স্তন্যপান করিতেছে । তদশনে নিত্যানন্দ আপনাকে ধন্তু মনে করিলেন । প্রভাত হইল, চৈতন্তদেবও দুখিনীকে “মা” সম্বোধন করিয়া কছিলেন, “তোমার গৃহে দুই গোঁর রহিয়াছে, এক গেীরের নীলাচলে যাইবার ইচ্ছা । একজনকে বিদায় দিন ।” গেীরের গমনের কথা শুনিয়া ছখিনী তৎক্ষণাৎ গৌরগোপালকে কোলে লইলেন । গেীর তাহার মনের ভাব বুঝিয়া মিষ্ট কথায় সন্তুষ্ট করিয়া নিত্যানন্দ সঙ্গে জসোড়া পরিত্যাগ করিলেন । ( জগদীশচ• ৮ ব: ) কিছু দিন পরে চৈতন্তদেব নীলাচলে আসিলেন, এখানে আসিয়া তিনি জগদীশকে ডাকিয়া পাঠাইলেন । জগদীশ নীলাচলে গিয়া চৈতন্তের চরণবন্দনা করিয়া নিজ গ্রামে ফিরিয়া আসেন । নীলাচলে গৌরচন্দ্র ভগবান আচাৰ্য্যকে বলিয়াছিলেন যে, তোমার পুত্র হইলে তাহার রঘুনাথ নাম রাখিবে এবং তাহার শিক্ষা ও দীক্ষার জন্য তাহাকে জগদীশ পণ্ডিতের নিকট রাখিয়া দিবে। তদনুসারে বৃদ্ধ জগদীশপণ্ডিত বিখ্যাত রঘুনাথাচার্য্যের গুরু হইয় তাহাকে রাধাকৃষ্ণ মস্ত্রে দীক্ষিত করেন । রঘুনাথাচাৰ্য্য দেখ । ] জগদীশপণ্ডিতের উক্ত তিন পুত্রের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ বয়সে এক পুত্র ও এক কন্স হইয়াছিল, সেই পুত্রের নাম রামভদ্র