পাতা:বিশ্বকোষ ষষ্ঠ খণ্ড.djvu/৬৯৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


खझशिश् == হইয়াছিঙ্গেৰ, কিন্তু তীর ফরুখশিয়ার সৈয়দ-পরিচালিত মরাঠাদিগের জয়ে অন্তঃপুরে গিয়া লুকাইলেন। সেই বিপত্তিকালে জয়সিংহ বায়বাৰ সম্রাটুকে বলিয়া পাঠাইলেন, “আপনি বাহির হইয় আপনার সৈন্যদিগের সমক্ষে প্রকাশ করুন যে সৈয়দদ্বয় রাজদ্রোহী, তাহ হইলে আপনার কোনরূপ বিপদ হইবে না, সকলেই আপনার সাহায্য করিতে প্রস্তুত, আমিও প্রাণ দিয়া আপনার সাহায্য করিৰ।” কিন্তু ভীরু ফরুশিয়ার ছিতৈষী জয়সিংহের কথায় কর্ণপাত করিলেন না, শেষে অস্তঃপুরেই दसौँ श्हेप्टेशन । তৎপরে মহম্মদশাহ সম্রাটু হইলেন । র্তাহার আধিপত্যকালে প্রথমে জয়সিংহ রাজনৈতিক সংস্রব ত্যাগ করিয়া জ্যোভিষের চর্চ জারম্ভ করেন। কি যুরোপীয় কি দেশীয় সকল প্রাচীন ও অপ্রাচীন বৈজ্ঞানিক জ্যোতিগ্রস্থ সংগ্ৰছ করিয়া পাঠ করিতে লাগিলেন । র্তাহার সহিত ম্যামুএল নামক একজন পর্তুগীজ পাদরীর সাক্ষাৎ হয়। অম্বররাজ যুরোপে জ্যোতিৰ্ব্বিস্কার কতদূর উন্নতি হইয়াছে, জানিবার জন্তু সেই পাদরীর সহিত কএকজন বিশ্বস্ত লোককে পর্ব গালের অধীশ্বর এমাহুএলের সভায় প্রেরণ করেন। পর্তুগালরাজ অম্বররাজের নিকট জেভিয়ার ডি সিলভা নামে এক সন্ত্রাস্ত জ্যোতিৰ্ব্বিদকে পাঠাইয়া দেন । ডি সিলভা এখানে মাসিয়া জয়সিংহকে পর্তুগালে ডি সোহায়ার আবিষ্কৃত কএকটা যন্ত্র প্রদান করেন। এ ছাড়া জয়সিংহ তুর্কী জ্যোতিৰ্ব্বিজগণের ব্যবহৃত সমরকন্দে স্থাপিত কএকটা যন্ত্র ও বিস্তর বৈজ্ঞানিক শাস্ত্র সংগ্রহ করেন। বাস্তবিক তৎকালপ্রচলিত প্রায় সমস্ত জ্যোতিষ-সমুদ্র মন্থন করিয়া জয়সিংহ প্রকৃত জ্যোতিষামৃত আহরণ করিয়াছিলেন। জগতের প্রাচীন ও আধুনিক সমস্ত ইতিহাস পাঠ করিলেও আমরা কোন নৃপতিকেই জয়সিংহের মত জ্যোতিৰ্ব্বিস্তায় পারদর্শী দেখিতে পাই না। বলিতে কি, রাজা জয়সিংহই ভারতে প্রকৃত জ্যোতিষশাস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করিয়াছিলেন ও অনেকাংশে সফলও হইয়াছিলেন । জয়সিংহ স্বরচিত “জিজ মহম্মদশাহী” নামক গ্রন্থে লিখিয়া গিয়াছেন, তিনি অনবরত সাতবর্ষকাল জ্যোতিষশাস্ত্র অনুশীলন করিয়াছিলেন। বাস্তবিক তাহার জ্যোতিষশাস্ত্রে অসাধারণ পাণ্ডিত্য শ্রবণ করিয়াই সমাট মহম্বদশাহ তৎকাল প্রচলিত পঞ্জিক-সংস্কারের ভার জয়সিংহের উপর অর্পণ করেন । সেই জন্যই সম্রাট তাহাকে “সবাই” অর্থাৎ সকল রাজকুমার অপেক্ষা শ্ৰেষ্ঠ, এই উপাধি প্রদান করেন। এই সময়ে (১৭২৮ খৃষ্টাবে) তিনি উপহার মন্ত্রী ও জ্যোতির্বিদ বিদ্যাধরের পরামর্শ মত বর্তমান জয়পুর নগর স্থাপন করিলেন । [ জয়পুর দেখ। ] कदम नबाहे बघ्ननिशrरुद्र शश्वाजिब्र कश्व छांब्रङभद्र ब्राहे হইয় পড়িল । নানাস্থান হইতে প্রধান প্রধান জ্যোতির্বিদ ও শাস্ত্রবিন্ধ পণ্ডিতগণ তাছার সত্তায় জাসিতে লাগিলেন । জ্যোতির্বিদ কৃপারাম ও কবি কৃষ্ণরাম তাহার সভায় থাকিতেন । সম্রাট মহম্মদশাহ তাহাকে পঞ্জিক-সংস্কারের ভার অর্পণ করিলে, তিনি গ্রহনক্ষত্রাদির গতিবিধি, চন্দ্র সূর্য্যের উদয়ান্ত, রাশিফট, গ্রহণ প্রভৃতির বিশুদ্ধ গণনা, পরিদর্শন ও অভিনৰ নক্ষত্র আবিষ্কারের জন্ত নিজ ক্ষমতায় যে সকল যন্ত্রাদির আবিষ্কার করিয়াছিলেন--দিল্লী, জয়পুর, উজ্জয়িনী, মাগ্রা ও মথুরায় বহু অর্থব্যয়ে বৃহৎ বৃহৎ মানমন্দির নির্মাণ করিয়া সেই । সকল যন্ত্র স্থাপন করিলেন । পাশ্চাত্য ও অাধুনিক জ্যোতিৰ্ব্বিদগণ স্বষ্টিতত্ত্ব পরিদর্শন করিয়া এক প্রকার নাস্তিক হইয়া পড়িয়া ছিলেন । কিন্তু পণ্ডিতপ্রবর জয়সিংহ সুহ্মামুহুৰ্ম্ম গভীর বৈজ্ঞানিক তত্ত্বলোচনা করিয়াও সৰ্ব্বত্রই ভগবানের ঐশ্বৰ্য্য দর্শন করিতেন । তিনি স্বরচিত “জিজ মহম্মদশাহী" নামক পারসিক গ্রন্থের প্রারম্ভে মুক্ত কণ্ঠে লিথিয়া গিয়াছেন— “ভগবানের সর্বমঙ্গলময় অনন্তশক্তির তত্ত্ব অবগত হইতে না পারিয়াই ছিপার্কাস নিৰ্ব্বেtধ কৃষকের ন্যায় কেবল বিরক্তি দেখাইয়া গিয়াছেন। বিশ্বস্রষ্টার মহান শক্তিকল্পনায় টলেমি বাদুড়ের মত সত্যরূপ সুৰ্য্যের সমীপবৰ্ত্তী হইতে পারেন নাই । ইউক্লিডের স্বত্রগুলি ( সেই বিশ্বপাতার ) অনন্তস্থষ্টির অসম্পূর্ণ আলেখ্যের কল্পিত রেখামাত্র । জমশেদ দসি অথবা নাসিরতুসি এইরূপে বৃথা পণ্ডশ্রম করিয়া গিয়াছেন।” পর্তুগালের রাজা তাহার নিকট যে সকল যন্ত্র পাঠাইয়া ছিলেন, তৎসম্বন্ধে জয়সিংহ বলিয়াছেন—“প্রকৃত পরীক্ষা ও সমালোচনা দ্বারা দেখা যাইতেছে, এই যন্ত্রে চন্দ্রের যে অবস্থান স্থিরীকৃত হইয়াছে তাহ অৰ্দ্ধ অংশ কম, সুতরাং ঠিক নহে । অন্তান্ত গ্ৰহগণের অবস্থান সম্বন্ধে যদিও ইহাতে কোন গোল নাই, কিন্তু গ্রহণসম্বন্ধীয় গণনায় ৪ মিনিট সময় কম বেশী দেখা যায়।” এইরূপ অবিশুদ্ধ যন্ত্র হইতেই হিপার্কাস, টলেমি, ডিলাহায়র প্রভৃতির গণনায় ভুল হইয়াছে, তাহাও তিনি স্পষ্ট লিথিয়া গিয়াছেন। তাহার অক্ষয় ও অপূৰ্ব্ব কীৰ্ত্তি স্বরূপ মানমন্দিরগুলি এখনও ভারতে বিদ্যমান রহিয়াছে। [ মানমন্দির শব্দে বিস্তৃত বিবরণ দ্রষ্টব্য । ] তিনি বিখ্যাত “জিজ মহম্মদশাহী” গ্রন্থ রচনার পূৰ্ব্বে র্তাহার সভাস্থ জগন্নাথ পণ্ডিত দ্বারা সম্রাটুসিদ্ধাস্তু, রেখাগণিত নামে ইউক্লিডের এবং নেপিয়ার রূক্ত গণিত পুস্তকের সংস্কৃত অনুবাদ প্রকাশ করিয়াছিলেন ।