পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/১৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


枣 [ ব্ৰহ্মপুত্ৰনদই এখানকার প্রধান। বর্ষার সময় এই নদে সদিয়া পৰ্যন্ত ষ্টীমার যাতায়াত করে, কিন্তু অন্তান্ত ঋতুতে ডিব্ৰুগড় পৰ্যন্ত যায়। ঐ সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৌকাগুলি "ব্রহ্মকুও’তীর্থ পৰ্য্যস্ত গমন করিতে পারে। দিবঙ্গ ও দিহঙ্গ নামক শাখানদীদ্বয় হিমালয়পাদনিঃস্থত হইয়া এখানে ব্ৰহ্মপুত্রে মিলিত হইয়াছে। দিহঙ্গই তিব্বতের প্রসিদ্ধ ৎসানপু নদী। এতদ্ভিন্ন সুবর্ণী নব-দিহিঙ্গ, ডিব্ৰু, বুড়ী-দিহিঙ্গ, তিঙ্গরাই নদী ও লোহিতনী ব্ৰহ্মপুত্রের কলেবর বৃদ্ধি করিয়া এই জেলার মধ্যে প্রবাহিত আছে । কৃষিকার্য্যের উন্নতি ও বৃদ্ধির জন্য এখানকার কোন নদী বা জলার বাধ দেওয়া হয় নাই। প্রাচীন আসামরাজগণ রাজ্যের মঙ্গলার্থ যে সকল স্থান বাধ স্বারা রক্ষা করিয়াছিলেন, তাহাই অদ্যাপি সেইভাবে রক্ষিত আছে। উহার কোন কোনটী সামান্তরূপে সংস্কৃত হইয়াছে মাত্র। বন্যবিভাগের উৎপন্ন দ্রব্যের মধ্যে “রবার” নামক প্রসিদ্ধ বৃক্ষনিৰ্য্যাসই প্রধান। এতদ্ভিন্ন রেশম, মোম ও নানাবিধ ওষধি পাওয়া যায়। হস্তী, গণ্ডার, যন্তমহিষ, মিথুন নামক বহুগোরু, হরিণ ও ভল্লুক প্রভৃতি পশু ও নান জাতীয় পক্ষী বনপ্রদেশে স্বচ্ছন্দে বিহার করিতে দেখা যায়। ব্ৰহ্মকুণ্ড বা পরশুরামকুও এখানকার প্রধান তীর্থ। এখানে ব্ৰহ্মপুত্রের একটা শাখা প্রবাহিত। প্রতি বৎসর বহু তীর্থযাত্রী পৰ্ব্বতোপরিস্থ এই তীর্থসন্দর্শনে আসিয়া থাকে। নিকটস্থ প্রসিদ্ধ দেও ডুবি (রাক্ষসকুও)—একটা গভীর পর্বতগহবর। দিসঙ্গ নদী যেখানে নাগাশৈল পরিত্যাগ করিয়াছে, সেইস্থানে অবস্থিত । এই স্থানের ইতিবৃত্ত অনেকাংশে আসামের ইতিহাসের সহিত সংশ্লিষ্ট। আসাম অধিকার-মানসে পুৰ্ব্বাঞ্চলবাসী রাজন্তবর্গ ব্ৰহ্মপুত্র বাহিয়া প্রথমেই লখিমপুরে প্রবেশলাভ করিয়াছিলেন। কিংবদন্তী এই, বাঙ্গালার পালরাজগণ এক সময়ে এতদ্দেশে প্রভাববিস্তারপূৰ্ব্বক হিন্দু উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিলেন। তৎপরে বাঙ্গালার বারভূয়ারাজগণ আত্মকলহে প্ৰপীড়িত হইয়া লখিমপুর বিবাদবিরহিত এই নিবিড় প্রদেশপ্রাস্তে আসিয়া আর একটা উপনিবেশ স্থাপন করেন। অদ্যাপি বঁাশকাটা ও লখিমপুরনগরসন্নিহিত দীখিকাদ্বয় তাহদের কীৰ্ত্তিস্বরূপ বিদ্যমান রহিয়াছে । শানবংশীয় চুটিয়াগশই প্রথমে পুৰ্ব্ব হইতে আসাম আক্রমণ করে। তাহার বারভুয়াদিগকে এখান হইতে তাড়াইয়া দিয়া সুবর্ণগ্ৰ নদীতীরে বাস করিয়াছিল ; কিন্তু এই রাজ্যসম্ভোগ তাহাদের জঃ অধিক কাল ঘটে নাই। খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাৰে আহম রাজগণ আসাম অধিকারপূর্বক প্রাধান্ত স্থাপন করেন। চুটিয়াজাতি ঐ সময়ে কিছুকালের জষ্ঠ আপনাদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখিতে চেষ্টা করে, কিন্তু অকৃতকাৰ্য্য হইয়া পার্শ্ববৰ্ত্তী দরঙ্গজেলায় XVII

లిలి ]

·ෙ5 লখিমপুর পলাইয়া আইসে। এখানে তাহার মে স্থানে বাস করিয়াছিল তাহা অস্থাপি চুটিয়া নামে পরিচিত। এই আহমগণও শানজাতীয়। তাহার পোঙ্গ-রাজ্যের পাৰ্ব্বত্যভূভাগ হইতে দলবলে অগ্রসর হইয়া পশ্চিমাভিমুখে আসামে আসিয়া সমুপস্থিত হয় এবং বলসঞ্চয় করিয়া ক্রমে একটা ছদ্ধর্ষ জাতি হইয় উঠে। এই সময়ে তাহারা বাহুবলে উন্দুপ্ত হইয়া ব্ৰহ্মপুত্র প্রবাহিত উপত্যকাভূমে আপনাদের আধিপত্য বিস্তার করে। মোগলসম্রাট অরঙ্গজেবের প্রেরিত সেনাপতি মীরকুমাকে তাহারা পরাভূত করিয়া বঙ্গসীমান্ত হইতে তাড়াইয়া দেয় । এই বংশীয় মহাপ্রতাপাৰিত রাজা রুদ্রসিংহের শাসনকালে আসামরাজ্যে শাস্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করিয়াছিল। [ আহম ও আসাম দেখ । ] রাজা গৌরীনাথের রাজ্যকালেই লখিমপুরে আহমবংশের শাসকশক্তির লোপ হয় । দুর্বল রাজা গৌরীনাথ বিদ্রোহিদলের ষড়যন্ত্ৰে পড়িয়া রাজ্যচু্যত ও নিম্ন আসামে নিৰ্ব্বাসিত হন। তদনন্তর শক্রপক্ষীয়েরা সেই সমৃদ্ধ রাজধানী ধ্বস্ত করিয়া দেয় । এই সময়ে মোয়ামারিয়া বা মরনজাতি ব্ৰহ্মপুত্র নদের দক্ষিণকুলে স্বাধীনতা স্থাপন করিয়া আপনাদের প্রভাব বিস্তার করে এবং খমৃতীর সদিয়া-বিভাগ লুণ্ঠন করিয়া উৎসাদিত করিতে থাকে । সেই অরাজক রাজ্যে কোনরূপ শৃঙ্খলা স্থাপিত হয় নাই, রাজ্যাপহীরক বড় গোসাঞী কিছুতেই সুশাসনব্যবস্থা করিতে পারিলেন না। প্রভাবর্গ উপদ্রব ও অত্যাচারের হস্ত হইতে পরিত্রাণ পাইবার জন্ত রাজ্য ছাড়িয়া পলায়ন করিল। অবসর বুঝিয়া ব্ৰহ্মরাজ উপযুপিরি লখিমপুর আক্রমণ করিলেন,যুদ্ধবিগ্রহে আরও জনক্ষয় ঘটিল। জনশূন্ত প্রজাবৰ্গ নিরুপায় হইয়াও লখিমপুর নগরের সম্মুখে পুনরায় যুদ্ধার্থ আয়োজন করিল, দুৰ্দ্ধৰ্ষ ব্ৰহ্ম-সৈন্তের সমক্ষে হতবল আসামীগণ দাড়াইতে পারিল না। তাহার পরাস্ত হইয়া পলাইতে চেষ্টা করিল, কিন্তু बिस्नकुन्ज পশ্চাদ্ধাবিত হইয়া তাহাদের সমুলে নিহত করিল। ১৮২৫ খৃষ্টাব্দে ব্রহ্মসৈন্ত লখিমপুর হইতে বিতাড়িত ੱਸ. বটে, কিন্তু লখিমপুরের অদৃষ্টি অত্যাচারস্রোত সমভাবে প্রবাহিত হইতে লাগিল। ইংরাজরাজ নামে মাত্র আসাম প্রদেশ অধিকার করিলেন । তাহারা তখনও এতদ্দেশে স্বশাসন ব্যবস্থা করিতে পারেন নাই। ডিব্ৰুগড় উপবিভাগের অন্তর্গত মটকবিভাগ তৎকালে দেশীয় সর্দারের অধীনে শাসিত হইত। ১৮৩৯ খৃষ্টাৰো বৃদ্ধসর্দারের মৃত্যুর পর, তাহার বংশধরগণ ইংরাজরাজের প্রস্তাবমত রাজ্যশাসন করিতে অস্বীকৃত হওয়ায় পদচ্যুত হন। এই বৎসরে ইংরাজরাজ উত্তর-লখিমপুর ও শিবসাগর-বিভাগ রাজা পুরন্দর সিংহের নিকট হইতে কাড়িয়া লন। কারণ ঐ রাজা