পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/২০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লাখনে

  • [ ১৯৮ ]

তাহার যুবক পুত্রের গাত্রে তৎকালে প্রায় ২•লক্ষ টাকার হীরাজহরতের অলঙ্কার শোভিত হইয়াছিল। তাহার এই অতুল সম্পত্তি তিনি যে ভারতীয় প্রজার রক্তশোষণ দ্বারা সংগৃহীত করিয়াছিলেন, তাহা Teunaut এর বিবরণী পাঠে জানা যায়। তিনি লখলে সম্বন্ধে লিখিয়াছেন— “l never wituessed so many varied forms of wretchedness, filth sud *" অর্থাৎ এরূপ ভীষণ পাপকলঙ্ককালিমালিপ্ত নগরী জামি ক্ষীর কুয়াপি দেখি নাই। তৎকালে খোজামিঞা আলমাসের শাসিত প্রদেশ ভিন্ন আসফ উদ্দৌলায় অধিকৃত সমগ্র অযোধ্যারাজ্য শ্মশানভূমে পরিণত হইয়াছিল। আলফ, উদ্দৌলার পুত্র সরাদং আলী খ (১৭৯৮ খৃষ্টাব্দে) ইংরাজরাজের আনুগত্য স্বীকার করিয়াছিলেন। তিনি ইংরাজসেনার আশ্রয়ছায়ায় নিৰ্ব্বিল্পে নিদ্রিত থাকিয় ঐশ্বৰ্য্যমুখের ভোগবিলাস স্বপ্ন দেখিতেছিলেন। সরাদৎ পূৰ্ব্বপুরুষদিগের স্তায় বলবীৰ্য্যে জাতীয় গৌরবের পুষ্টিসাধন মা করিয়া ভোগৰিলাসে উন্মত্ত হইয়াছিলেন। তিনি ইংরাজকরে স্বীয় সম্পত্তির অৰ্দ্ধেকাংশ সমর্পণ করিয়া অবশিষ্ট লইয়াই আত্মতৃপ্তির পথে অগ্রসর হইলেন। মসজিদ, কূপ, তুর্গ, সেতু প্রভৃতি নিৰ্ম্মাণ দ্বারা রাজ্যের শ্ৰীবৃদ্ধি সাধন না করিয়া তিনি গলিসের জন্ত উপযুপরি কএকটা প্রাসাদ নিৰ্ম্মাণ করান, ঐ প্রাসাদগুলি উত্তরোত্তর নূতন ভাবে ও মুণ্ঠন প্রণালীতে গঠিত হইয়াছিল। তৎপরবর্তী রাজাদিগের অধিকারকালেও ঐরূপ প্রাসাদনিৰ্ম্মাণেরই প্রয়াস বাড়িয়াছিল। অট্টালিকার অধিকাংশ স্থলেই যুরোপীয় স্থাপিত্য-শিল্পের অনুকরণ দৃষ্ট হয়। যে সয়াদৎ খ ও র্তাহার বংশধরদ্বয় সামান্ত একটী বাসভবনে থাকিয় এই সৌভাগ্য অর্জন করিয়াছিলেন ; ইমামবাড়া, চক্র ও বাজারারি প্রতিষ্ঠাতা জাকজমকপ্রিয় যে আসক্ষউদৌল একটা মাত্র প্রাসাদ লইয়া সন্তুষ্ট ছিলেন, সেই বংশে সয়াদং আলী বহুসংখ্যক প্রাসাদ নিৰ্ম্মাণ করিয়া ভৌগৰিলাসের পরাকাঠা দেখাইয়া গিয়াছেন। এই বংশে নশীয় উদ্দীন হাইদার অপরিমিত অর্থব্যয়ে রাজপরিৰার ও রাজমহিষীগণের জন্ত কএকটা অত্যুৎকৃষ্ট প্রাসাদ প্রস্তুত করাইয়াছিলেন। তাহার। বিবাহিত-পত্নীগণয়ে প্রাসাদে বাস করিতেন, তাহা ছত্রমজিল নামে খ্যাত। কৈসর-পসঙ্গ ও অস্তান্ত জালয়ে তাহার রক্ষিত রমণীবৃন্দ স্থান পাইয়াছিল। শাহমঞ্জিল নামক প্রসিদ্ধ ভবনপ্রাঙ্গণে তাহার কৌতুহল উদ্দীপনাৰ বস্ত পশুসমূহ রক্ষিত इझेब्राझिण। मदाय त्रग्रः फेब्रश्९षन्न, श्कून दांश्न, बिबिब्रांगूब ও অম্লান্ত প্রাসাদে বাস করিতেন । ওয়াজিদ আলী শাহ ৩৬• জন রমণীকে পত্নীত্বে বরণ না করিয়া আশ্রিতারূপে স্বীয় বেগম লাখনেী মহলে রক্ষা করিয়াছিলেন। উহাদের প্রত্যেকের জন্ত প্রাসাদ তুল্য অট্টালিকা নিৰ্ম্মিত হইয়াছিল। সয়াদং আলী খাঁ ফরহৎবল্প সামক প্রমোদভবন নিৰ্ম্মাণ করাইয়া রাজপ্রাসাদ পরিবর্তন করিয়াছিলেন। তিনি হিন্দুগণের বাসবিভাগের (হিন্দু টােলার ) পূৰ্ব্বাংশ হইতে লিখুল পৰ্য্যস্ত নগরবহিঃপ্রান্তে কতকগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাসাদ নিৰ্ম্মাণ করাইয়াছিলেন। ঐ গুলি বর্তমান সেনানিবাসের উত্তরাংশে অবস্থিত। উহাম্বারা নদীকূল, নগর ও তাহার চতুষ্পার্শ্ববর্তী স্থানের সৌন্দৰ্য্য দ্বিগুণ পরিবর্ধিত হইয়াছিল। তৎপরে ওয়াজিদ আলী নদীতীরে কৈসর-বাগ নামক নন্দনকাননে দেবপুরী সদৃশ নানা শিল্পপূর্ণ অত্যুৎকৃষ্ট অট্টালিকা নিৰ্ম্মাণ করাইয় তাহাই স্বীয় বাসভবনকপে পরিণত করেন। তিনি পূৰ্ব্বোক্ত জেনারল মার্টিনের নিকট হইতে এই প্রাসাদের নদীতীরবর্তী কতকাংশ ক্রয় করিয়া লন। পয়ে বহু অর্থব্যয়ে সেই সুরম্য হম্ম্যের সংস্কারসাধন করিয়া তাহাকে অভিনব ও স্বীয় অভিলষিত প্রাসাদে পৰ্য্যবসিত করিয়াছিলেন। উহার রাজদরবার গৃহ, অর্থাৎ যেখানে সুবিস্তৃত নানা শিল্পনৈপুণ্যমণ্ডিভ রাজসিংহাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল, উহা লালবার দ্বারা বা কসর উষ, সুলতান নামে পরিচিত। ওয়াজিদের রাজত্বকালে লখনে নগরী চিত্র-বৈচিত্র্যের চরম সীমা প্রাপ্ত হইয়াছিল। যে দিন হইতে এই মুসলমান-রাজবংশ ইংরাজরাজের আনুগত্য স্বীকার করেন এবং যে সময় হইতে লখনেী নগরে ইংরাজ রেসিডেন্ট থাকিবার ব্যবস্থ হয়, তৎপরবৰ্ত্তিকাল হইতেই কোন নবীন নবাবের রাজ্যাভিষেক সময়ে ইংরাজ-রেসিডেন্ট আসিয়া তাহাকে সিংহাসনে বসাইতেন এবং এই প্রদেশে তাহার রাজশক্তির প্রাধান্তজ্ঞাপনার্থ তাহাকে রাজনঞ্জর দিতেন। সয়াদং আলী খায় পুত্র গাজি উদ্দীন হাইদার ১৮১৪ খৃষ্টাব্দে অযোধ্যার রাজপদে অভিষিক্ত হন । তিনিই এ বংশে প্রকৃত রাজনার্মের অধিকারী হইয়াছিলেন। তিনি স্বীয় পিতার অনুঠিত মোতিমহল গম্বুজের চতুষ্পার্থে মোতিমহল প্রাসাদ নিৰ্ম্মাণ । করান। নদীর প্রাচীন নৌকা-সেতুর উভয় তীরবর্তী মুবারক মঞ্জিল ও শাহ মঞ্জিল নামক প্রাসাদ তাহার আগ্রহে সংস্কৃত হইয়াছিল। এই শেষোক্ত প্রাসাদে তিনি রোমক-সম্রাট গণের স্থায় দুরন্ত বস্ত পশুদিগের রণকৌতুক সপার্শন করিতেন । লখনেী-রাজ- ” বংশের অবসান পৰ্য্যস্ত এই প্রাসাদে ভয়াবহ পাশব যুদ্ধ সংঘটিত হইয়াছিল। এতদ্ভিন্ন গাজি উদ্দীন হাইলার চানি-বাজর, স্বপ্রসিদ্ধ 'ছত্রমঞ্জিল কলা ও তৎপশ্চাতে 'ছত্রমজিল খৃষ্ঠা নিৰ্ম্মাণ করাইয়াছিলেন। * * তাছার সমাধির জন্ত তিনি গোমতীতীরে শাহ নজফ নামে