পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/২২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লামা একটা সঙ্ঘারামের অন্তভূক্ত প্রত্যেক মঠেই এক একজন ধৰ্ম্মীচার্ষ্য থাকেন। তাহারা তথায় শ্রেষ্ঠ-লামার পদে অধিষ্ঠিত। স্বত্র, বিনয় ও অভিধৰ্ম্ম নামক ধৰ্ম্মশাখার একটী বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ না করিতে পারিলে কেহই লামা পদ পান না। লামাদিগের মধ্যে যিনি যত অধিক ধৰ্ম্মশাস্ত্র পাঠ করিয়াছেন, তিনি পণ্ডিতমহলে তত অধিক পূজ্য। এই কারণে গেংযুলগণও স্ব স্ব উপাধ্যায়ের অধ্যাপনায় এক একটী বিষয়ে পারদর্শিত লাভ করিয়া থাকেন। প্রত্যহ পাঠের সময়ে ঘণ্টা-শব্দ হয়। ঐ শব্দ শুনিয়া তাহারা পাঠ গৃহে গিয়া পাঠাভ্যাস করে এবং স্বীয় আচার্যের নিকট নূতন পাঠ লয়। এইরূপে আবশ্বকীয় পাঠ সমাপ্ত হইলেই তাহদের পরীক্ষা লওয়া হইয়া থাকে। প্রথমে এক বৎসর পরে এবং তদনন্তর এক বা দুই বৎসর পরে পরীক্ষা গৃহীত হয়। এই হুইট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পৰ্য্যন্ত তাহাদিগকে চ প্রস্তুত ও সঙ্ঘের বৃদ্ধ যতিদিগের আজ্ঞাবহন করিতে হইয় থাকে । পরীক্ষাকালে প্রত্যেক সত্তারামের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধ্যায় ও ধতিগণ একটা প্রকোষ্ঠে সমবেত হন। তথায় সকলেই নিস্তব্ধ ভাবে বসিয়া থাকেন এবং তাহার মধ্যস্থলে গেংষুল দাড়াইয়া স্বীয় নির্দিষ্ট পাঠ আবৃত্তি করে। যদি সে কোন স্থান ভুলিয়া যায়, তাহা হইলে তাহার পাঠ স্মরণার্থ অপর একজন তাহার পার্শ্বে ধাড়াইয়া সেই স্থানবিশেষ ধরাষ্টয়া দেয়। প্রথম পরীক্ষায় সমস্ত পাঠ্য-পুস্তকগুলি এইরূপে আবৃত্তি করিতে প্রায় ৩ দিন লাগে এবং প্রত্যেক দিনে সেই বালক নয় বার বিশ্রাম করিতে পায়। ঐ অবসরে সে পরবর্তী গ্রন্থখানি পুনরায় দেখিয়া লইতে পারে। যে সকল যুবক এই পরীক্ষার উত্তীর্ণ হইতে না পারে, তাহাকে বিশেষ লাঞ্ছনার সহিত ঐ গৃহ হইতে বাহিরে আনিয়া "ওদখুনস্পা' উত্তম-মধ্যম প্রহার করিয়া থাকে। যদি এক বালক উপযুপিরি তিন বৎসর পরীক্ষা অন্থীর্ণ হয়, তাহ হইলে তাহাকে মঠ হইতে বাহির করিয়া দেয়। কেবলমাত্র ধনী সন্তানেরাই এরূপ স্থলে অধিক অর্থদও দিয়া মঠে লামাপদ প্রার্থী থাকিয়া বিদ্যাভ্যাস করিতে পারে। নিধনীপুত্রেরা এরূপ অবস্থায় ধৰ্মজীবন অতিবাহন করিতে প্রয়াসী হইলে সাধুচেত। গৃহীরূপে নিপাত করিতে পারে; কিন্তু তাহাকে সম্রামের কোন কোন মঠের দ্বাস্তবৃত্তি করিতে হয়। যদি সে পরে পারদৰ্শিতা লাভ করে, তাহা হইলে তাহাকে কোন গ্রাম্য মঠের जाभान्नेरी कब्रिग्न cन७द्र श्ब्र। क्ढि उक्न সে লামার স্থায় মধ্যাযুক্ত হইলেও তৎপদাধিকারে প্রকৃত অধিকারী নহেন । উপরোক্ত পরীক্ষ অপেক্ষ ছাত্রসঙ্গের পরম্পর বিচার वृक्लई [ ২১৯ ] লামা মনোরম। উহাতে ছাত্রের শিক্ষা কিরূপ কইয়াছে তাহা বিশেষ ভাবে পরীক্ষিত হইয়া থাকে। তিব্বতের সুপ্রসিদ্ধ দে-পুঙ্গ, তৰিল পো, সের ও গাংলান সঙ্ঘারামে সময় সময় ঐক্ষপ বিচার-সভা আহূত হইয়া থাকে। ঐ স্থলে প্রায় ৪ হইতে ৮ হাজার পর্য্যস্ত বৌদ্ধ-যতি সমবেত হয়। ইহাকে তিব্বতীয় ভাষায় মৃৎধাঞি বলে। শিষ্যগুণ ধৰ্ম্মশাস্ত্র ও ধৰ্ম্মতত্বের সারমর্থ অবগত হইয়াছেন কি মাতাহা এই বিচার সভা আলোচিত হয়। যেস্থানে এই সভা হয়, তাহা শালগাছেয় গুড়ি ও পাথর দিয়া ঘেরা। বৌদ্ধযতি ভিন্ন অপর লোকের তথায় প্রবেশ নিষেধ। উহার মধ্যস্থিত সৰ্ব্বোচ্চ প্রস্তরাসনে স্ব্যবস্-গোন, তন্নিয়ের ক্ষুদ্রাসনে মূখাৰ্‌-পো এবং তদপেক্ষা নিম্নতম নির্দিষ্ট আসনে প্রধান গায়ক উপবেশন করে। তাহার চতুর্দিকে সাতভাগে বিভক্ত দর্শকবৃন্দের বসিবার স্থান। প্রশ্নকারী হরিদ্রাবর্ণের উধীয পরিশোভিত হইয়া দর্শকমণ্ডলীর সমক্ষে করযোড়ে স্বীয় প্রশ্ন উত্থাপন করেন । সমবেত ছাত্রমণ্ডলীর মধ্যে যে কেহ ঐ প্রশ্নগুলির সম্যক্ উত্তর দান করিতে পায়ে, সেই ছাত্র লামার আদেশে উচ্চ শ্রেণাতে উন্নীত হইয়া থাকে। বৎসরের মধ্যে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্তকালে চারিবার এই বিচার-সভা আহূত হইয়া থাকে। এইরূপে স্বাদশবর্ষকাল শিক্ষা করিয়া সুপণ্ডিত বলিয়া পরিচিত হইতে পারিলে, অন্ততঃপক্ষে বিংশ হইতে চতুৰ্ব্বিংশতি বর্যের পর গেংখুল স্বীয় অধ্যবসায়বলে গে-লোঙ-পদ প্রাপ্ত হন। গেৎসুল হইবার সময় যেরূপ প্রথার অনুসরণ করিয়া উপাধ্যায় ও শ্রেষ্ঠ-লামার অভিমত গ্রহণ করিতে হইয়াছিল, এবারও তাহাকে সেইরূপ করিয়া মঠের তালিকায় নাম লিখাইয়া প্রকৃত যতি হইতে হয়। যে যতি স্বীয় অধ্যবসায় বলে প্রকাগু বিচার-সভায়, অথবা মঠের প্রধান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে পারেন তিনিই বৌদ্ধ-ধৰ্ম্মতত্বের শ্রেষ্ঠ উপাধি লাভ করিয়া থাকেন। উপাধি প্রাপ্তির পর তিনি সকল প্রকার আচাৰ্য্যমৰ্য্যাদা লাভের অধিকারী হন। গে-বে এবং রব জমৃ-পা বৌদ্ধধর্মের শ্রেষ্ঠ উপাধি। গে-লোও শিক্ষা বলে ‘গে ষে’ হইয়া কোন এক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বালোচনায় নিযুক্ত থাকিতে পারেন, কিন্তু যতদিন না তিনি ঐ পদে উন্নীত হইবেন । ততদিন তাহাকে ধৰ্ম্মশাস্ত্রই আলোচনা করিতে হইবে। গে-যে উপাধি প্রাপ্ত অনেক বৌদ্ধধতি তিব্বত, মোঙ্গলিয়া, আমুদে ও চীন-রাজ্যের গবমেন্টের পরিদর্শনে পরিচালিত স্যারামের প্রধান লামা ৰ স্ক্যবস্মূগোন পদে অভিষিক্ত আছেন। যাহারা মঠাচার্য্যের পদগ্রহণ করেন না, তাহারা মঠে থাকিয়া তন্ত্রশান্ত্র অধ্যয়নে রত হন। পরে তন্ত্রশস্ত্রের