পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/২৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লিঙ্গায়ত -TTF দের মধ্যে জাতীয়তার গোড়ামী অধিকতর পরিলক্ষিত হয়। এতর্বিজন তাহারা স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত থাকিয়া আপনাপন ধৰ্ম্মকৰ্ম্ম পালন করে, কখনও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক লোকের সহিত মিলিত হইয়া জাহারাদি করে না। মাম্রাজের দেশীয় সেনাবি ৪াগে লিঙ্গায়ৎ সম্প্রদায়ী বিরল। তাহারা নিরামিষাশী, কখনও ভোজনার্থে হস্তব্য পশু বিক্রয় করে না, এমন কি স্বীয় প্রভুকর্তৃক আদিষ্ট হইলেও উহা বাজার হইতে ক্রয় করিয়া আনে না। তাহারা মন্ত্র্যাত গুরুকে যথেষ্ট ভক্তি ও মান্ত করে। ওঁ, গুরু, লিঙ্গ ও জঙ্গম ভিন্ন তাহাদের ধৰ্ম্ম কৰ্ম্মের আচরণীয় আর কিছুই নাই। ব্রহ্মণ্যধর্মের আচরিত পৌরোহিত্যে তাহাদের বিখtল নাই। ব্রাহ্মণের পাছে গ্রাম মধ্যে আসিয়া বাস করে, এই ভয়ে তাহারা গ্রাম মধ্যেও কুপাদি খনন করে না । ঘাটপ্রভ নদীর অদূরবর্তী কালাগি নগরের নিকটবর্তী একটা গ্রামে ইহার নিদর্শন পাওয়া যায়। তথাকার লোঞ্চের গ্রামমধ্যে কূপ বা তড়াগ খনন না করিয়া ঘাটপ্রভার জল ব্যবহার করিয়া থাকে। সাম্প্রায়িক স্বাতন্ত্রীনিবন্ধন প্রতিমূৰ্ত্তি-উপাসক পৌত্তলিক ব্রাহ্মণ যাজকগণের পৃষ্ট দল গ্রহণীয় নহে বিচার করিয়া তাহারা এই বিদ্বেষ কল্পনা করিয়াছে । দাক্ষিণাত্যের সমগ্ৰ মহারাষ্ট্ররাজ্যে বিশেষতঃ কর্ণাটকবিভাগে এই সম্প্রদায়ের অধিক বাস আছে । তাহারা লিঙ্গোপাসন। ভিন্ন অন্ত কোন দেবতাই পূজা করে না ; কিন্তু হিন্দুর অপরাপর দেবমূৰ্ত্তি প্রতিষ্ঠিত মন্দির, মুসলমানের মসজিদ, অথবা খুষ্ঠানের গির্জার সন্মুখ দিয়া গমনকালে, তাহার শিবের উদ্দেশে প্রণাম করিয়া থাকে। তাহাদের বিশ্বাস, ঐ সকল ধৰ্ম্মগৃহে স্বয়ং মহাদেব লিঙ্গরূপে বিরাজিত আছেন । বাম বাহুতে অথবা গলদেশে কোঁটায় করিয়া লিঙ্গমূৰ্ত্তি ধারণ এবং কপালে ভস্মামুলেপন সাম্প্রদায়িক পুরুষ ও রমণীগণের প্রধান কৰ্ম্ম। তাহারা সাধারণতঃ আতিথেয়ী ও মিতব্যয়ী, ধীয় প্রকৃতি, কৰ্ম্মঠ ও সুসভ্য। সকলেই বাণিজ্যব্যবসায় জীবন পাত করে। তাহাদের মধ্যে জাতিগত শ্রেণীবিভাগ নাই, কেবল গদকর, হিঙ্গমীরে, জীরে, জীরেশল, কালে, মিতকর, পরমালে, ফুটানে, বৈকর ও বীরকর নামে কয়ট উপাধি আছে। ভিন্ন ভিন্ন উপাধিগত ব্যক্তির মধ্যেই আদান প্রদান হইয়া থাকে। পুরুষ ও রমণীগণের নাম প্রধানতঃ হরপাৰ্ব্বতীর নামেই রাখা হয়। সকলেই গৃহে কণাস্ত্রী এবং বাছিয়ে মরাঠী ভাষায় কথা কহিয়া থাকে। বেশভূষা মরাঠীদিগের ছায়,সকলেই নিরামিষাশী। তাহাদের পুরোহিত জঙ্গম নামে খ্যাত। এই পুরোহিতদিগকে তাহার বিশেষরূপ ভক্তি করিয়া থাকে। { २१8 } ஐ_ পুত্রবধূ গর্ভিণী হইলে তাহাকে তাহার পিত্রালয়ে পাঠাইয়া দেওয়া হয় এবং সেইখানেই সে প্রসব করে। বালকের জন্ম হইবার পর, ধাত্রী নাভিরজু ছেদন করিয়া দিলে, পুত্রের জন্মবাৰ্ত্ত তাহার পিত্রালয়ে পাঠান হয়। সংবাদ পাইয়া জাত বালকের পিতা স্বীয় আত্মীয়, বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশীদিগের গৃহে পাণ ও চিনি পাঠাইয়া থাকে। প্রথম, তৃতীয় বা পঞ্চমদিনে মাতার গলদেশে এবং জাত বালকের মাথার বালিসের নীচে একটা লিঙ্গ রক্ষা করা হয়। পঞ্চমদিনে সন্ধ্যা কালে স্থতিকাগৃহের এক কোণে একট চতুষ্কোণ ঘর আঁকিয় তাহাতে চাউল, ময়দা ও বালুক স্থাপন করে, পরে তাহার উপরে একথও কাগজ ও একটা কলম এবং তাহার নিম্নে নাভিকৰ্ত্তন ছুরিকাথানি রাখিয়া দেয় । তাহাই যষ্ঠদেবী জানিয়া প্রস্থতি প্রণাম করিয়া থাকে । ষষ্ঠ রাত্রে তাহার একট রৌপ্যনিৰ্ম্মিত পাৰ্ব্বতীমূৰ্ত্তি স্থতিকাগৃহে কাষ্ঠের চৌকিতে স্থাপন করে। তদনন্তর ধাত্রী তাহার সন্মুখে ফুল ছড়াইয় দেয় এবং কপূর ও ধূনা জালাইয়া থাকে। প্রস্তুতি সেই দেবীমূৰ্ত্তিকে পূজা ও প্রণাম করিবার পর, স্বতিকাগারের সম্মুখে জঙ্গমকে আনিয়া উক্ত চৌকীতে বসান হয়। বাটীর গৃহকত্রী তখন একখানি থালে পুরোহিতের পদদ্বয় প্রক্ষালন করিয়া দেন। সেই পাদোদক পরে বাটীর সকল ঘরেই ছড়াইয়া দেওয়া হয় এবং সকলে পান করে। ভোজনাস্তে দক্ষিণ লইয়া জঙ্গম বিদায় হয় । কস্তারত্ন প্রস্থত হইলে দ্বাদশ দিনে এবং পুত্র জন্মিলে ত্রয়োদশ দিনে জাত বালকের নামকরণ হইয়া থাকে। নামকরণ দিনে পাচট সধবা স্ত্রীলোক (এয়ো.) আসিয়া বালকের নামকরণাস্তে সমবেত কুটুম্বরমণীগণের সহিত একত্র ভোজন করে । অশৌচান্তদিনে প্রস্থতি স্নানাস্তে নিকটস্থ কোন মহাদেবমন্দিরে পুত্রসহ গমন করিয়া থাকে। তাহার পর পুত্র কোলে করিয়া সে পুতদেহে গৃহকৰ্ম্মে লিপ্ত হইতে পারে। ছয় মাসে অন্নপ্রাশন দিবার বিধি আছে। এক বৎসর বয়সে শিখ রাখিম৷ জাত বালকের মস্তকমুণ্ডন করিয়া দেওয়া হয়। বালিকা হইলে তাহার মাতুল আসিয়া "পঞ্জ ছাটিয়া দেয়। ইহাই সম্ভবতঃ তাহাদের চুড়াকরণ। বালক পঞ্চম বৎসরে দার্পণ করিলে তাহাকে বিদ্যালয়ে পাঠান হইয়া থাকে এবং দ্বাদশবর্ষে তাহাকে শৈব মন্ত্রে দীক্ষা দিয়া স্তোত্রাদি পাঠ করিতে শিক্ষা দেওয়া হয়। বালিকা ষোড়শবর্ষীয় না হইলে কখনই শিব-মন্ত্র অভ্যাসের অধিকারিণী হয় না । বালিকায় ৮ হইতে ১২ বৎসর এবং যুবকদিগের ১২ হইত্ত্বে ২৫ বৎসরে বিবাহ হইয়া থাকে। বালকের পিতাই প্রথমে কন্যাকৰ্ত্তার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। বরকত্ব, জঙ্গম 礦