| খৃঃ অঃ | হিঃ | বঙ্গেশ্বর | সাময়িক দিল্লীশ্বর
|
| ১৬৮০ | ১০৯০ | সায়েস্তা খাঁ | ঐ |
| ১৬৮৯ | ১০৯৯ | ইব্রাহিম খাঁ ২য় | ঐ |
| ১৬৯৭ | ১১০৮ | আজিম উস্সান | ঐ |
| ১৭০৪ | ১১১৬ | মুরশিদ কুলি খাঁ | ঐ |
| ১৭২৫ | ১১৩৯ | সুজা উদ্দিন খাঁ | মহম্মদ শাহ্ |
| ১৭৩৯ | ১১৫১ | আলা উদ্দৌলা সরফরাজ খাঁ | ঐ |
| ১৭৪০ | ১১৫৩ | আলিবর্দ্দী খাঁ মহব্বত জঙ্গ | ঐ |
| ১৭৫৬ | ১১৭০ | সিরাজ উদ্দৌলা | আলম্গীর |
| ১৭৫৭ | ১১৭১ | মীর জাফর আলী খাঁ | ঐ |
| ১৭৬০ | ১১৭৪ | কাশিম আলী খাঁ | শাহআলম্ |
| ১৭৬৩ | ১১৭৭ | মীর জাফর আলী খাঁ | ঐ |
| ১৭৬৫ | ১১৭৯ | নজিমউদ্দৌলা | ঐ |
১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে জানুয়ারী মাসে মীর জাফরের মৃত্যুর পর, তৎপুত্র নজম্ উদ্দৌলা ইংরাজ কোম্পানীর সহিত সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হইয়া ইংরাজকরে বঙ্গরাজ্য-রক্ষাভার সমর্পণ করেন। তিনি কেবলমাত্র নামে নবাব-নাজিমের পদাভিষিক্ত রহিলেন, বাঙ্গালায় ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিচারের পরিদর্শনভার তাঁহার উপর ন্যস্ত থাকিল না; তিনি বস্তুতঃই বিচারবিভাগের ব্যবস্থাপকত্ব ও সর্ব্বময়কর্ত্তৃত্ব হারাইলেন। তাঁহার অধীনস্থ এক জন দেওয়ানের তত্ত্বাবধানে নিজামতের কার্য্য চলিতে লাগিল। অযোধ্যার উজীর সুজা উদ্দৌলার পরাভবের পর, ইংরাজ কোম্পানী আলাহাবাদ ও কাড়া প্রদেশ দিল্লীশ্বরকে উপঢৌকন দিয়া তৎপরিবর্ত্তে বঙ্গ, বেহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী সনন্দ লাভ করেন, তাহাতে নবাব-নাজিমের “নিজামৎ” রক্ষার জন্য বার্ষিক ৫৩৮৬১৩১ সিক্কা টাকা বৃত্তি ধার্য্য হইয়াছিল। ইংরাজগণ সেই সূত্রে মুর্শিদাবাদের নবাবদিগকে ঐ বৃত্তি দিতে বাধ্য হন। পরে ইংরাজের কূটনীতিতে উহা ক্রমশঃ হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। বাস্তবিক পক্ষে এই সময় হইতে ইংরাজ কোম্পানী বাঙ্গালার প্রকৃত শাসনকর্ত্তা হইয়াছিলেন। নিজামৎ মস্নদের উপসত্ত্বভোগী বাঙ্গালার পরবর্ত্তী নবাব নাজিমগণের বংশ-তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হইল;—
বৃত্তিভোগী বাঙ্গালার নবাববংশ।
| ১৭৬৫ | নজম্ উদ্দৌলা—মীরজাফর আলীর পুত্র, ১৭৬৬ খৃষ্টাব্দের ৩রা মে? ইহার মৃত্যু ঘটে। ইনি দেওয়ান ইংরাজ কোম্পানীর নিকট হইতে বার্ষিক ৫৩৮৬১৩১ সিক্কা টাকা বৃত্তি প্রাপ্ত হন। |
| ১৭৬৬ | শৈফ উদ্দৌলা—মীরজাফরের ২য় পুত্র; ১৭৭০ খৃষ্টাব্দের ১০ই মার্চ্চ মৃত্যু হয়। ইঁহার সময় বার্ষিক বৃত্তির হার কমিয়া ৪১৮৬১৩১ সিক্কা টাকা ধার্য্য হইয়াছিল। |
| ১৭৭০ | মুবারক উদ্দৌলা—মীরজাফর ৩য় পুত্র; ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যু। বৃত্তি ৩১৮১৯৯১ সিক্কা টাকা প্রাপ্ত হন। ইঁহারই অধিকারকালে ১৭৭২ খৃষ্টাব্দে উক্ত বৃত্তির টাকা কমাইয়া বার্ষিক ১৬ লক্ষ রৌপ্যমুদ্রা ধার্য্য হয়। সেই হার অদ্যাপিও চলিয়া আসিতেছে। |
| ১৭৯৩ | নাশির উল্ মুল্ক উজীর উদ্দৌলা দেলবার জঙ্গ—মুবারকের পুত্র, ১৮১০ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে তাঁহার মৃত্যু ঘটে। |
| ১৮১০ | সৈয়দ জৈন্ উদ্দীন আলী খাঁ ওরফে আলী জাহ্—নাশির-উল্ মুল্কের পুত্র। |
| ১৮২১ | সৈয়দ আহ্মদ আলী খাঁ ওরফে বালা জাহ্—আলী জাহের ভ্রাতা, ১৮২৪ খৃষ্টাব্দে ৩০এ অক্টোবর মৃত্যু। |
| ১৮২৫ | সৈয়দ মুবারক আলী খাঁ ওরফে হুমায়ুন জাহ্—বালা জাহের পুত্র। |
| ১৮৩৮ | ফরিদূন্ জাহ্ সৈয়দ মনসুর আলী খাঁ নসরৎ জঙ্গ—হুমায়ুন জাহের পুত্র। ইনি নানা কারণে ঋণজালে জড়িত হওয়ায় ইংলণ্ড প্রবাসী হন। |
এই সময়ে ইংরাজ-গবর্মেণ্ট তাহাকে অর্থসাহায্য করিতে স্বীকৃত হওয়ায়, তিনি বার্ষিক লক্ষ টাকা মাসহরা ও ঋণমুক্তির জন্য ১০ লক্ষ টাকা প্রাপ্তির আশায় ১৮৮০ খৃষ্টাব্দের ১লা নবেম্বর (মতান্তরে ১৮৮৩ খৃষ্টাব্দে) চিরপোষিত নবাব নাজিম মর্য্যাদা ত্যাগ করিতে স্বীকৃত হইয়া স্বীয় অভিপ্রায় জ্ঞাপন করেন। ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে তাঁহার পুত্র সৈয়দ হসন আলী খাঁ সনদ দ্বারা মুর্শিদাবাদের নবাব বাহাদুর উপাধি পান। ১৮৯১ খৃষ্টাব্দের ১২ই মার্চ্চ তারিখে নবাব সর্ সৈয়দ হসন আলী খাঁ বাহাদুর জি, সি, আই, ই ১৮৮০ খৃষ্টাব্দের ১লা নবেম্বর তারিখে স্বীয় পিতৃকৃত নবাব-নাজিম পদত্যাগাঙ্গীকার সাব্যস্ত ও স্বীকার করিয়া সেক্রেটারী অব্ ষ্টেটসের ইণ্ডেঞ্চার পত্রে স্বীয় অভিমত জ্ঞাপন করেন। উক্ত বর্ষের উক্ত মাসের ২১এ তারিখে সকৌঁসিল ভারতপ্রতিনিধি কর্ত্তৃক (by the Council of his Excellency the Viceroy and Governor General of India) ১৮৯১ সালের ১৫ নং রাজবিধিতে (Act XV of 1891) তাহা স্থিরীকৃত ও পরিগৃহীত হয়। এই মর্য্যাদা ত্যাগ করিয়া তিনি তৎপরিবর্ত্তে ইংরাজরাজের নিকট হইতে একটী বংশানুক্রমিক বার্ষিক বৃত্তি এবং মুর্শিদাবাদ, কলিকাতা, মেদিনীপুর, ঢাকা, মালদহ, পূর্ণিয়া, পাটনা, রঙ্গপুর, হুগলী, রাজশাহী, বীরভূমি ও সাঁওতাল-পরগণার মধ্যে কতকগুলি নির্দ্দিষ্ট আয়ের ভূসম্পত্তি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। ইঁহার পাঁচপুত্র—আসফ কাদর সৈয়দ