বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তদশ খণ্ড.djvu/৪৬৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বঙ্গদেশ (ইংরাজ-শাসন)
[৪৬১]
বঙ্গদেশ (ইংরাজ-শাসন)

দিগকে বধ করিয়া তাহাদের যথাসর্ব্বস্ব অপহরণ করিত। কর্ণেল শ্লীমানের যত্নে ঠগদিগের দৌরাত্ম্য নিবারিত হয়।

 এই সময়ে এতদ্দেশীয় লোকদিগকে সংস্কৃত কিংবা ইংরাজী ভাষায় শিক্ষা দেওয়া উচিত কি না, এই বিষয়ে ঘোর আন্দোলন উপস্থিত হয়। অধ্যাপক উইলসন্ সাহেব সংস্কৃতের পক্ষ ছিলেন এবং প্রসিদ্ধ লর্ড মেকলে[ব্যাখ্যা ১] ও ট্রীবেলিয়ান সাহেব পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চ্চার প্রয়োজনীয়তা দেখাইয়া ইংরাজীর পক্ষ সমর্থন করেন। গভর্ণর জেনারলের বিচারে ইংরাজীরই জয় হয়। ১৮৩৫ অব্দে কলিকাতায় ‘মেডিকেল কলেজ’ সংস্থাপিত হইয়াছিল।

 লর্ড বেণ্টিঙ্কের সময়ে বিচার বিভাগের অনেক পরিবর্ত্তন ঘটে—“প্রভিন্সিয়াল কোর্টগুলি” উঠিয়া যায় এবং “রেভিনিউ কমিসনরী”-পদের সৃষ্টি হয়। “কালেক্টরেরা” ফৌজদারী মোকদ্দমার বিচার ক্ষমতা পান এবং জজেরা দেওয়ানী ও দায়রায় মোকদ্দমা করিবেন, স্থির হয়।

 ১৭৯৩ খৃঃ অব্দে “মুন্সেফী” এবং ১৮০৩ খৃঃ অব্দে “সদর আমিনী” পদের সৃষ্টি হয়। এপর্য্যন্ত দেশীয় লোকেই ঐ পদ পাইতেন। লর্ড বেণ্টিঙ্ক এদেশীয়ের নিমিত্ত “প্রধান সদর আমিনী” পদেরও সৃষ্টি করেন। ঐ পদের মাসিক বেতন ৫০০ টাকা নির্দ্ধারিত হয় এবং প্রধান সদর আমিন সকল প্রকার দেওয়ানী মোকদ্দমা করিতে অধিকারী হন। ১৮৩৩ খৃষ্টাব্দে “ডেপুটী কলেক্টার” নিযুক্ত হইবার নিয়ম হয়। এই কর্ম্মও এতদ্দেশীয় লোকে পাইতেন।

 লর্ড বেণ্টিঙ্কের শাসনকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত “প্রভাকর” নামক সংবাদপত্র প্রচার করেন (১৮৩০ খৃঃ) এবং রাজা রামমোহন রায় কলিকাতা ব্রাহ্মসমাজ সংস্থাপন করিয়াছিলেন (১৮২৯ খৃঃ)। ভারতবাসী হিন্দু ভদ্রলোকদিগের মধ্যে বোধ হয়, রাজা রামমোহন রায়ই প্রথম ইংলণ্ডে যান (১৮৩৪ খৃঃ) এবং তথায় তিনি মানবলীলা সংবরণ করেন (১৮৩৩ খৃঃ)। রামমোহন রায় অনেক বাঙ্গালা গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। [রামমোহন রায় ও ব্রাহ্মসমাজ দেখ।]

 ১৮৩৫ খৃঃ অব্দে লর্ড বেণ্টিঙ্ক স্বদেশে যাত্রা করেন; এবং স্বতন্ত্র গভর্ণর জেনারল না আসা পর্য্যন্ত মেটকাফ্ সাহেব তৎকার্য্যে নিয়োজিত হন। তাঁহার শাসন সময়ে ও তাঁহারই যত্নে ইংরাজী ও বাঙ্গালা মুদ্রাযন্ত্রের স্বাধীনতা সংস্থাপিত হয়। মেকলে সাহেব এ বিষয়ে যথেষ্ট পোষকতা করিয়াছিলেন।

 ১৮২৬ হইতে ১৮৪২ খৃঃ অব্দ পর্যন্ত লর্ড অক্‌লাণ্ড গবর্ণর


  1. লর্ড মেকলে এদেশে “ল’কমিশন” নামক বিধি প্রণয়ন সভার অধ্যক্ষ হইয়া আসেন। তিনিই “ভারতবর্ষীয় দণ্ডবিধির” প্রথম পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করিয়াছিলেন।
জেনারল ছিলেন। তাঁহার সময়ে কাবুলে ইংরাজদিগের বিলক্ষণ দুর্দ্দশা ঘটে। বাঙ্গালায় হুগলী কলেজ (১৮৩৬ খৃঃ) এবং ঢাকা কলেজ (১৮৪১ খৃঃ) স্থাপিত হয়।

 ১৮৪২ হইতে ১৮৪৪ খৃঃ অব্দ পর্য্যন্ত লর্ড এলেনবরোর শাসনকাল; তাঁহার আমলে কাবুলে ইংরাজেরা জয়ী হইয়া মানে মানে ফিরিয়া আসেন এবং সিন্ধুদেশ কোম্পানির রাজ্যভুক্ত হয়। লর্ড এলেনবরো “ডেপুটী মাজিষ্ট্রেটী” পদের সৃষ্টি করেন। তাঁহার শাসনকালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয় (১৮৪৩ খৃঃ) এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ঐ পত্রিকার সম্পাদক হন। [বাঙ্গালা ভাষা দেখ।]

 ১৮৪৪ হইতে ১৮৪৮ খৃঃ অব্দ পর্য্যন্ত হার্ডিঞ্জ সাহেব গবর্ণর জেনেরল ছিলেন। তিনি শিখদিগের সহিত যুদ্ধে জয়লাভ করেন। তাঁহার সময়ে “হার্ডিঞ্জ স্কুল” নামে কতকগুলি গবর্মেণ্ট বাঙ্গালা ব্যিালয় ও কৃষ্ণনগর কলেজ ১৮৪৬ পৃষ্ঠাব্দে সংস্থাপিত হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় এই সময়ে বেতালপঞ্চবিংশতি প্রকাশিত করেন (১৮৪৭ খৃঃ)।

 ১৮৪৮ খৃঃ অব্দে লর্ড ডালহৌসী এ দেশের গবর্ণর জেনেরল হন। তাঁহার শাসনকালে পঞ্জাব, পেগু, সাতারা, নাগপুর, ঝাঁসি, অযোধ্যা ও বেরার কোম্পানীর অধিকারভুক্ত হইয়াছিল। বহরমপুর কলেজ সংস্থাপন ১৮৫৩ খৃঃ অঃ ঘটে ও ১৮৫৫ খৃষ্টাব্দে হিন্দু কলেজ “প্রেসিডেন্সি কলেজে” পরিণত হইয়া যায়। অনেকগুলি গবর্মেণ্ট আদর্শ বঙ্গবিদ্যালয় এবং বাঙ্গালায় স্ত্রীজাতির বিদ্যাশিক্ষার জন্য কলিকাতায় বেথুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে সর চার্লস্ উড্ প্রণীত ১৮৫৪ খৃঃ অব্দের শিক্ষাবিষয়িণী অনুমতিলিপি আইসে এবং তদনুসারে “কলিকাতা বিশ্বব্যিালয়ের” সূত্রপাত হয়। ঐ সঙ্গে বিদ্যালয় সম্বন্ধে গবর্মেণ্টের “গ্রাণ্ট ইন এড” প্রথাও প্রবর্ত্তিত হইয়াছিল। এই উপলক্ষে শিক্ষাবিষয়ক কমিটি উঠিয়া যায়, এবং বিদ্যাধ্যাপনের “ডাইরেক্টর,” “ইনস্পেক্টর” প্রভৃতি পদের সৃষ্টি হয়।

 লর্ড ডালহৌসীর যত্নে এ দেশে ইষ্ট ইণ্ডিয়া রেলওয়ে এবং তারের খবর স্থাপিত হয় (১৮৫২ খৃঃ অঃ)। “পোষ্টাল ডিপার্টমেণ্ট” সংস্থাপিত হইয়া ডাকের মাশুল কমিয়া যায়। ১৮৫৩ অব্দে ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি পার্লিয়ামেণ্ট মহাসভা হইতে যে সনন্দ প্রাপ্ত হন, তদ্দ্বারা বাঙ্গালায় “লেফ্‌টেনাণ্ট গবর্ণর” নামে একজন স্বতন্ত্র শাসনকর্ত্তা নিয়োগের আদেশ হয় এবং এতদ্দেশবাসিগণ বিলাতে যাইয়া “সিবিল সার্ব্বিস” পরীক্ষা দিতে অনুমতি পান। সর ফ্রেডারিক হেলিডে বাঙ্গালার প্রথম লেফ্‌টেনাণ্ট গবর্ণর হইয়া আসেন (২৮ এপ্রিল, ১৮৫৪ খৃষ্টাব্দ)। ১৮৫৬ অব্দে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের চেষ্টায় বিধবাবিবাহ ব্যবস্থা বিধিবদ্ধ হয়।