পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তম খণ্ড.djvu/২৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্ঞান ন হইলে সকল পদার্থই আমাদিগের অপরিচিত থাকে। অতএব বাহ বস্তু আর কিছুই নয়—আমাদিগের ঐস্ক্রিয়জ্ঞানসভূত মানসিক চিত্রবিশেষ। আমাদিগের ঐন্দ্রিয়জ্ঞান জন্মিবার পূৰ্ব্বে মানসিক সজ্ঞানত উপস্থিত হয় ; এই সজ্ঞানতা বা চৈতন্তই জ্ঞানের সর্বপ্রকার মিশ্রণ ও একীকরণ । এই চৈতন্যহেতুই আমরা পদার্থের চিত্র কল্পনা করিতে সমর্থ হই । আমরা ঐক্রিয়জ্ঞান বশত: মনোমধ্যে যে ভিন্ন ভিন্ন ভাব অনুভব করি, সেগুলি আপনা হইতে সামঞ্জস্ত প্রাপ্ত হয় না ; আমাদিগের বুদ্ধি অথবা চিন্তাশক্তিসাহায্যে সেগুলির ঐক্য সাধিত হয়। সেলিং (Schelling) বলেন, আঙ্গাদিগের মানসিক চিত্র এবং বাহ পদার্থ পরস্পর অতি নিকট সংস্থষ্ট, একটী অপরটর সুচনা করে। একটা বলিলেই অপরটর সত্ত্বা উদিত হয় । সৰ্ব্বপ্রকার জ্ঞানই এই মানসিক চিত্রের সহিত বাহ বস্তুর ঐক্য হেতু উৎপন্ন হয় । স্পিনোজার মতে ইঞ্জিয় দ্বারা যে পৰ্য্যন্ত প্রত্যক্ষসিদ্ধি না হয়, ততক্ষণ মন আপনাকে জানিতে পারে না। এই প্রত্যক্ষ জ্ঞান প্রথমতঃ অস্ফুট থাকে, মনের আভ্যপ্তরিক ক্রিয়া দ্বারা তাহা স্পষ্টীকৃত হয় । কিন্তু মনের কার্য্য করিবার কোন স্বাধীনতা নাই—পূৰ্ব্বধৰ্ত্তী কারণ দ্বারা মনের কার্য নিয়মিত হয়, সে কারণও আবার পূর্ববর্তী কারণ দ্বারা নিয়মিত হয় । কোন এক নিত্য নিয়মের দ্বারা সকল বস্তুরই বিকাশ ও পরিণতি হয় । স্পিনোজা বলেন, প্রথমতঃ ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষসিদ্ধি হয় । তৎপরে আমাদের প্রত্যক্ষের ধারণা বা স্মরণশক্তি দ্বারা শ্রেণী বিভক্ত হয়, পরে কল্পনাশক্তিপ্রভাবে বাক্য দ্বারা সে শ্রেণীর নামকরণ হয় ; তৃতীয়তঃ চিন্তা বা যুক্তিদ্বারা বিচারিত হয় । পরিশেষে সহজ জ্ঞান দ্বারা বাহ ঘটনার স্বরূপ জ্ঞান আমরা লাভ করি । জ্ঞানের প্রথম উপায় বা প্রত্যক্ষের অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণভাব হইতে আমাদের ভ্রম বা বিপৰ্য্যয় হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উপায়ে যে জ্ঞান উৎপন্ন হয়, তাহাই প্রকৃত জ্ঞান । সুপ্রসিদ্ধ ফরাশী পণ্ডিত কোমতের মতে সকল বিষয়েরই জ্ঞানের উন্নতিপথে ক্রমান্বয়ে তিনটী সোপান আছে, প্রথম পৌরাণিক, আধ্যাত্মিক বা ইচ্ছামূলক, দ্বিতীয় দার্শনিক, কাল্পনিক বা শক্তিমূলক, তৃতীয় বৈজ্ঞানিক, প্রামাণিক বা নিয়মমূলক। লোকে বাহ বস্তু দেখিলে তাহার একটা সচেতন ইচ্ছাবিশিষ্ট কৰ্ত্ত অনুমান করিয়া থাকে। ইহার কারণও দৃষ্ট [ २88 ] छठाँनं হয় । আমাদিগের সকল কাৰ্য্যই সচেতন ইচ্ছাবিশিষ্ট আত্ম। হইতে উৎপন্ন হয় ; এই জম্ভই কোন কাৰ্য্য দেখিলেই আমরা তাহার একটা সচেতন ইচ্ছাবিশিষ্ট কৰ্ত্তার কল্পনা করি। ক্রমে জ্ঞান যত স্ফৰ্ত্তি পাইতে থাকে, ততই লোকের ধারণা হয় যে, পূৰ্ব্বে যাহাকে সচেতন মনে করা হইয়াছিল, প্রকৃতপক্ষে তাহার চৈতন্তের কোন লক্ষণ নাই । চৈতন্তের পরিবৰ্ত্তে তাহার কোন অদৃশু কাৰ্য্যসাধিক শক্তি আছে। প্রথমাবস্থায় লোকে মনে করে, অগ্নি ইচ্ছাপূৰ্ব্বক বস্তু দগ্ধ করে, পরে নিশ্চিত হয় যে, অগ্নির নিজের কোনরূপ ইচ্ছা নাই ; ইহার দাহিকাশক্তিপ্রভাবেই বস্তু দগ্ধ হয়। এই দ্বিতীয় অবস্থাকে দার্শনিক কাল্পনিক বা শক্তিমূলক জ্ঞান কহে । পরে অনেক দেখিয়া শুনিয়া অভিজ্ঞতার ফলে আমর! জানিতে পারি যে, সকল কার্য্যেরই এক একটী নিয়ম আছে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট পূৰ্ব্বোত্তরত্ব এবং সাদৃপ্ত সম্বন্ধ আছে । নিয়মাতিরিক্ত আর কিছুই জানিবার ক্ষমতা আমাদিগের নাই, এইরূপ বিবেচনা করিয়া যখন আমরা সকল কার্য্যেরই নিয়ম অনুসন্ধান করি, তপন আমরা তদ্বিষয়ের বৈজ্ঞানিক সোপানে উপস্থিত হই । আমরা সকল বিষয়ে জ্ঞানের বৈজ্ঞানিক সোপান লাভ করিতে পারি না । কোন বিষয়ে অামাদিগের জ্ঞান প্রথম সোপানেই রহিয়া গিয়াছে ; আবার কোন কোন বিষয়ে আমরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় সোপানে উত্থিত হইয়াছি । কোমৎ বলেন, যাহার বিষয় যত সরল, তাহা তত শীঘ্র বৈজ্ঞানিক সোপানে উপস্থিত হয় । বিষয়ের জটিলতা নিবন্ধন কোনটা বা প্রথম কোনটা পা দ্বিতীয় সোপানে রহিয়া গিয়াছে । কোমৎ বলেন, আন্তরিক ঘটনা পৰ্য্যবেক্ষণ করিবার ক্ষমতা আমাদিগের নাই । ( কিন্তু এমত সত্য বলিয়া গ্রহণ করা যাইতে পারে না ; কারণ আমাদিগের সুখ দুঃখ আমরা প্রতিক্ষণই অনুভব করিতেছি । ) কোমতের মতে জ্ঞানের প্রথম ভিত্তিতে উপস্থিত হইবার তিনটী উপায় আছে—পৰ্য্যবেক্ষণ, পরীক্ষা এবং উপমা । যখন যে নৈসর্গিক ব্যাপার স্বতঃ আমাদিগের ইঞ্জিয়গোচর হয়, তাহার পর্য্যালোচনাকে পর্যবেক্ষণ কহে। ইচ্ছাপূর্বক অবস্থা পরিবর্তিত করিয়া পৰ্য্যালোচনাকে পরীক্ষা কহে । অনুসন্ধেয় বিষয়টা উত্তমরূপে বুঝিবার জন্য যে পর্য্যালোচনা করা যায়, তাহাকে উপমা কহে । অতএব দেখা যাইতেছে যে, জ্ঞান সম্বন্ধে অনেক মতভেদ অাছে। যাহা আমরা জানি, তাছাই জ্ঞান, যাহা জানি, তাহ! কি প্রকারে জানিয়াছি । to -