পাতা:বিশ্বকোষ সপ্তম খণ্ড.djvu/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জtলন্ধর জালন্ধর বিভাগের দক্ষিণসীমায় অবস্থিত। ইহার উত্তর পূৰ্ব্বকোণে হসিয়ারপুর, উত্তরপশ্চিমে কপূরখলা মিত্ররাজ্য, ও দক্ষিণে শতদ্রু নদী। জালন্ধর বিভাগের লোকসংখ্যার শতকরা ৪.১৯ জন এবং সমস্ত ভূপরিমাণের শতকরা ১.২৪ বর্গমাইল ভূমি জালন্ধর জেলায় আছে। এই জেলা ৪টা তহসীল অথপা মহকুমায় বিভক্ত। জালন্ধর তহীলের উত্তরাংশ নবসহর ফিল্লেীর এবং দক্ষিণাংশ নাকেদের। এই জেলার ভূপরিমাণ ১৩২২ বর্গমাইল । রাজ্যসংক্রান্ত প্রধান কৰ্ম্মচারিগণ জালন্ধরে অবস্থিতি করেন । শতদ্রু ও বিপাশা নদীর মধ্যবর্তী একটা ত্রিকোণাকার ভূমি জলন্ধর অথবা বিসংদোয়াব নামে খ্যাত। এই ভূখণ্ডের কতকাংশ কপূরথলা রাজ্যের অন্তর্গত ও কতক অংশ বৃটিশ অধিকারভুক্ত। পঞ্জাবের মধ্যে এই দোয়াবই সৰ্ব্বাপেক্ষা উৰ্ব্বর। । ইহার কোম কোন স্থান বালুকাস্তরাবৃত দেখা যায়, কিন্তু বালুকাকীর্ণ স্থান অতি বিরল। ইহার প্রায় সকল স্থলেই নানা প্রকার উদ্ভিজ্জ জন্মে। এই দোয়াবের মধ্যপী স্থানে কোন পাহাড়াদি নাই। ইহার রাহণ মালভূমিট সমুদপৃষ্ঠ হইতে ১•১২ ফিটু উচ্চ, কিন্তু হিউন্‌ সহরের দিকে ইহা অতিশয় নিয় । এই প্রদেশের নদীর গভীরস্থানে শীতকালে ১৫ কিটু জল থাকে । মাঝারি নৌকা এই নদীতে বারমাস গন্ত{য়াত করিতে পারে । শিল্পেীলের নিকট শতদ্রু নদীর উপর পঞ্জাব ও দিল্লী রেলের একটা সেতু আছে। গ্রাগুট্রাঙ্ক বাস্তায় মালপত্রের আমদানী রপ্তানীর জন্ত শীতকালে নদীর উপর নৌকার সেতু প্রস্তুত হয়। হসিয়ারপুর জেলায় শিবালিক পাহাড় হইতে ছুইটী ক্ষুদ্র স্রোত নির্গত এবং ক্রমে মিলিত হইয়া ছুইটী বড় নদীর আকার ধারণ করিয়াছে। একটী শ্বেত অগলা পূৰ্ব্ব-কেন, অপরটা কৃষ্ণ অথবা পশ্চিম-বেন । দ্বিতীয়ট কপূরথলী ও প্রথমটা জলন্ধর প্রদেশে প্রবাহিত । এই জেলায় কতক গুলি ঝিল আছে ; তাহতে বৃষ্টির জল সঞ্চিত হয়। গ্রীষ্মকালেও সেই জল একেবারে শুকাইয়া যায় না। রাহণের নিকটের ঝিলই সৰ্ব্বাপেক্ষ বৃহৎ, তাহ ৮৬৫০ ফিটু দীর্ঘ এবং ৩• • • ফিট্র প্রস্থ । ফিল্পেীরের নিকটবৰ্ত্তী ঋিলট ও অতিশয় বৃহৎ । এই সকল ঝিলে নানারূপ জলচর পক্ষী বাস করে । জালন্ধরে বহুপরিমাণে কঙ্কর পাওয়া যায়। এস্থানে হিংস্র পশু বিরল। সম্রাট আকবরের সময় জালন্ধর সরকার প্রদেশের অন্তভূক্ত করা হইয়াছিল । এই প্রদেশের শাসনকর্তাগণ দিল্লীর সম্রাটুকে কিছু কর দিয়া কতক স্বাধীনভাবে রাজত্ব করিতেন । এই প্রদেশের শেষ* মুসলমান শাসনকর্তা আদিনাবেগ ইতিহাসে সুপরিচিত। মুসলমান অবনতিকালে [ to J জালন্ধর কতকগুলি শিখ সর্দার অন্ত্রবলে জালন্ধরের স্থানে স্থানে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করিতেন। ১৭৬৬ খৃঃ অঙ্গে এই প্রদেশ ফয়জউল্লাপুরিয়া শিখ মিশিলের (দলের) হস্তগত হয় ; সেই সময়ে খুযালসিংহ এই মিশিলের সভাপতি ছিলেন। খুসালের পুত্র ও উত্তরাধিকারী বুধসিংহ এই সহরে একটী দুর্গ নিৰ্ম্মাণ করিয়াছিলেন । ১৮১১ খৃঃ অব্দে রণজিৎসিংহ দেওয়ান মোকামৰ্চাদকে ফয়জউল্লাপুরিয়া রাজ্য অধিকার করিতে প্রেরণ করেন। বুধসিংহ ভয়ে পলায়ন করেন । সেই অবধি এই জেলা রণজিৎসিংহের রাজ্য মধ্যে পরিগণিত এবং সর্দারদিগকে তাহাদিগের অধিকার হইতে বিচ্যুত করা হয়। প্রথম শিখযুদ্ধের অবসানে শতক্র ও বিপাশা নদীর মধ্যবৰ্ত্তী ভূভাগ বৃটিশ সাম্রাজ্যভূক্ত হয় এবং একজন কমিসনর এই প্রদেশের শাসনকর্তা রূপে নিযুক্ত হন। ১৮৪৮ খৃঃ অব্দে এই প্রদেশ পরোক্ষে লাহোরস্থ বৃটিশ রেসিডেন্টের শাসনাধীন করা হয়। পরে সমস্ত পঞ্জাবপ্রদেশ ইংরাজাধিকারভুক্ত হইলে এই প্রদেশের শাসনকাৰ্য্য সাধারণ নিয়ম অনুসারেই চলিতে থাকে। জালন্ধর কমিসনরের বসতিস্থল রূপে নিৰ্দ্ধারিত হইয়াছে এবং এই প্রদেশ জালন্ধর, হুসিয়ারপুর ও কাঙ্গড়া এই ৩ তিন জেলায় বিভক্ত করা হইয়াছে । এই প্রদেশ যখন লাহোর দরবারের অধীন ছিল, তখন গোলাম মোহিউদ্দীন অত্যধিক রাজস্ব আদায় করিয়া অধিবাসিদিগকে যেরূপ উৎপীড়িত করিয়াছিলেন, ইংরাজগণ সেরূপ নীতি অবলম্বন করেন নাই। পূৰ্ব্বে ফয়জউল্লাপুরিয়া মিশিলের অধীনে অতিশয় দয়ালু ও ন্যায়বান শিখশাসনকর্তা রূপলাল যেরূপ ভাবে কর আদায় করিতেন, ইংরাজগণও সেইরূপ ভাবে কাৰ্য্য করিয়া আসিতেছেন । জালন্ধর প্রদেশে ১৪টা প্রধান সহর- জালন্ধর, কর্তারপুর, আলবালপুর, আদমপুর, বঙ্গ, নবসহর, রাহণ, ফিল্পেীর, নুরমহল, মহাতপুর, নাকোদর, বিলগা, জানদিবালা, রুক্কrও কলন । সাধারণতঃ এই প্রদেশে পঞ্জাবী ভাষা প্রচলিতনিম্নশ্রেণীর লোকগণ হিন্দি ভাষায় কথাবার্তা কছে । প্রদেশের ১৩৬৬৩২৮৩ একর অাবাদী জমীর মধ্যে ২২৫৭২২ একর জমীতে জলসিঞ্চন করিতে হয় । জলসিঞ্চনের জন্ত স্থানে স্থানে কূপ আছে। এই প্রদেশে ইক্ষু অধিক পরিমাণে জন্মে এবং তাহা বিক্রয় করিয়াই চাষী প্রজাগণ তাহাদিগের রাজকর পরিশোধ করে। এখানে গাভী, } বৃষ, অশ্ব, অশ্বতরী, গর্দভ, ভেড়া ও ছাগল যথেষ্ট পাওয়া যায়। কোন জমী চাস করিবার জন্ত যে সমস্ত চাকর নিযুক্ত হয়, তাহার বেতন স্বরূপ কিঞ্চিৎ ফসল পাইয়া থাকে।