পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্ৰহলোক সে-কথাটা বলবার আগে বুঝিয়ে দেওয়া দরকার ধূমকেতুর কী রকম ধরনের জ্যোতিষ্ক । ধূমকেতু শব্দের মানে ধোয়ার নিশান । ওর চেহারা দেখে নামটার উৎপত্তি। গোল মুণ্ড আর তার পিছনে উড়ছে উজ্জ্বল একটা লম্বা পুচ্ছ । সাধারণত এই হোলো ওর আকার । এই পুচ্ছটা অতিসূক্ষ্ম বাম্পের। এত সূক্ষ্ম যে কখনো কখনো তাকে মাড়িয়ে গিয়েছে পৃথিবী, তবু সেটা অনুভব করতে পারিনি । ওর মুণ্ডটা উল্কাপিণ্ড দিয়ে তৈরি । এখনকার বড়ো বড়ো পণ্ডিতেরা এই মত স্থির করেছেন যে ধূমকেতুর সূর্যের বাধা অনুচরেরই দলে । কয়েকটা থাকতে পারে যারা পরিবারভুক্ত নয় যারা আগন্তুক । একবার একটি ধূমকেতুর প্রদক্ষিণপথে ঘটল অপঘাত । বুধের কক্ষপথের পাশ দিয়ে যখন সে চলছিল তখন বুধের সঙ্গে টানাটানিতে তার পথের হয়ে গেল গোলমাল । রেলগাড়ি রেলচু্যত হোলে আবার তাকে রেলে ঠেলে তোলা হয় কিন্তু টাইম-টেবিলের সময় পেরিয়ে যায়। এক্ষেত্রে তাই ঘটল । ধূমকেতুটা আপন পথে যখন ফিরল তখন তার নির্দিষ্ট সময় হয়েছে উত্তীর্ণ। ধূমকেতুকে যে পরিমাণ নড়িয়ে দিতে বুধগ্রহের যতখানি টানের জোর লেগেছিল তাই নিয়ে চলল অঙ্ককষা । যার যতটা ওজন সেই পরিমাণ জোরে সে টান লাগায় এটা জানা কথা, এর থেকেই বেরিয়ে পড়ল brQ