পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিশ্বপরিচয় তৈরি করা তার স্বভাব । এমনি করে নিজেকে সে রূপান্তরিত করতে থাকে। তৎসত্ত্বেও পৃথিবীর হাওয়ায় এতটা পরিমাণ অক্সিজেন বিশুদ্ধ হয়ে টিকল কী ক’রে । তার প্রধান কারণ পৃথিবীর গাছপালা । উদ্ভিদের বাতাসের আঙ্গারিক গ্যাস থেকে অঙ্গারপদার্থ নিয়ে নিজেদের জীবকোষ তৈরি করে, মুক্তি দেয় অক্সিজেনকে । তার পরে প্রাণীদের নিশ্বাস ও লতাপাতার পচানি থেকে আবার আঙ্গারিক গ্যাস উঠে আপন তহবিল পূরণ করে । পৃথিবীতে সম্ভবত প্রাণের বড়ো অধ্যায়টা আরম্ভ হোলো তখনি যখন সামান্ত কিছু অক্সিজেন ছিল সেই অাদিকালের উদ্ভিদের মধ্যে । এই উদ্ভিদের পালা যতই বেড়ে চলল ততই তাদের নিশ্বাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে তুললে । কমে গেল আঙ্গারিক গ্যাস । অতএব সম্ভবত শুক্র গ্রহের অবস্থা সেই আদিকালের পৃথিবীর মতো । একদিন হয়তো কোনো ফাকে উদ্ভিদ দেখা দেবে, আর আঙ্গারিক গ্যাস থেকে অক্সিজেনকে ছাড়া দিতে থাকবে । তার পরে বহু দীর্ঘকালে ক্রমশ জীবজন্তুর পাল৷ হবে শুরু । চাদ আর বুধগ্রহের অবস্থা ঠিক এর উলটো । সেখানে জীবপালনযোগ্য হাওয়া টানের তুর্বলতাবশত দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গিয়েছিল । সৌরমণ্ডলীতে শুক্রগ্রহের পরের আসনটা পৃথিবীর । brb."