পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রহলোক অনেকটা ভাগ মরুর মতো শুকনো । কেবল গ্রীষ্মঋতুতে কোনো কোনো অংশ শু্যামবর্ণ হয়ে ওঠে, সম্ভবত জল চলার রাস্তায় বরফ গলার দিনে গাছপালা গজিয়ে উঠতে থাকে। মঙ্গলগ্রহকে নিয়ে পণ্ডিতে পণ্ডিতে একটা তর্ক চলেছে অনেকদিন ধরে । একদা একজন ইতালীয় বিজ্ঞানী মঙ্গলে লম্বা লম্বা আঁচড় দেখতে পেলেন, বললেন, নিশ্চয়ই এ গ্রহের বাসিন্দের মেরুপ্রদেশ থেকে বরফ-গলা জল পাবার জন্তে খাল কেটেছে । আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানী বললেন, ওটা চোখের ভুল। ইদানীং জ্যোতিষ্কলোকের দিকে মানুষ ক্যামের চালিয়েছে । সেই ক্যামেরা-তোলা ছবিতেও কালো দাগ দেখা যায়। কিন্তু ওগুলো যে কৃত্রিম খাল, আর বুদ্ধিমান জীবেরই কীতি সেটা নিতান্তই আন্দাজের কথা । অবশ্য এ গ্রহে প্রাণী থাকা অসম্ভব নয়, কেননা এখানে হাওয়া জল আছে । দুটি উপগ্রহ মঙ্গলগ্রহের চারিদিকে ঘুরে বেড়ায় । একটির একপাক শেষ করতে লাগে ত্রিশ ঘণ্টা, আর-একটির সাড়ে সাত ঘণ্টা, অর্থাৎ মঙ্গলগ্রহের একদিনরাত্রির মধ্যে সে তাকে ঘুরে আসে প্রায় তিনবার। আমাদের চাদের চেয়ে এর প্রদক্ষিণের কাজ সেরে নেয় অনেক শীঘ্ৰ । মঙ্গল আর বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথের মাঝখানে অনেকখানি ফণক জায়গা দেখে পণ্ডিতেরা সন্দেহ ক’রে খোজ করতে S