পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিশ্বপরিচয় লেগে গেলেন। প্রথমে অতি ছোটো চারিটি গ্রহ দেখা দিল । তারপরে দেখা গেল ওখানে বহুহাজার টুকরো-গ্রহের ভিড় । বাকে বীকে তা’র ঘুরছে সূর্যের চারিদিকে। ওদের নাম দেওয়া যাক গ্রহিক । ইংরেজিতে বলে asteroids । প্রথম যার দর্শন পাওয়া গেল তার নাম দেওয়া হয়েছে সীরিস ( Ceres ), তার ব্যাস চারশো পচিশ মাইল । ঈরোস ( Eros ) ব’লে একটি গ্রহিক আছে, সূর্যপ্রদক্ষিণের সময় সে পৃথিবীর যত কাছে আসে, এমন আর কোনো গ্রহই আসে না । এরা এত ছোটো যে এদের ভিতরকার কোনো বিশেষ খবর পাওয়া যায় না। এদের সবগুলোকে জড়িয়ে যে ওজন পাওয়া যায় তা পৃথিবীর ওজনের শিকি ভাগেরও কম। মঙ্গলের চেয়ে কম, নইলে মঙ্গলের চলার পথে টান লাগিয়ে কিছু গোল বাধাত । এই টুকরো-গ্রহগুলিকে কোনো একটা আস্ত-গ্রহেরই ভগ্নশেষ ব’লে মনে করা যেতে পারে । কিন্তু পণ্ডিতেরা বলেন সে-কথা যথার্থ নয় । বলা যায় না কী কারণে এরা জোট বেঁধে গ্রহ অণকার ধরতে পারেনি । এই গ্রহিকাদের প্রসঙ্গে আর-এক দলের কথা বলা উচিত। তা’রাও অতি ছোটো, তারাও বৰ্ণক বেঁধে চলে এবং নির্দিষ্ট পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণও করে থাকে, তা’র উল্কাপিণ্ডের দল। পৃথিবীতে ক্রমাগতই তাদের বর্ষণ চলছে, ধুলার সঙ্গে ৯২