পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গ্রহলোক

সময়। তাহলে গ্রহণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রহণের ঘটনাটা দেখা যেত। পৃথিবী থেকে এই উপগ্রহের দূরত্ব মেপে ও গ্রহণের মেয়াদ কতকটা পেরিয়েছে সেটা লক্ষ্য করে আলোর বেগ প্রথম হিসাব করা হয়।

 বৃহস্পতির নিজস্ব আলো নেই তার প্রমাণ পাওয়া যায় বৃহস্পতির নয় নয়টি উপগ্রহের গ্রহণের গ্রহণটা হয় কী করে ভেবে দেখো। কোনো এক যোগাযোগে যখন সূর্য থাকে পিছনে, আর গ্রহ থাকে আলো আড়াল করে সূর্যের সামনে, আর তারো সামনে থাকে গ্রহের ছায়ায় উপগ্রহ, তখনি সূর্যালোক পেতে বাধা পেয়ে উপগ্রহে লাগে গ্রহণ। কিন্তু মধ্যবর্তী গ্রহের নিজেরই যদি আলো থাকত, তাহলে সেই আলো পড়ত উপগ্রহে, গ্রহণ হোতেই পারত। আমাদের চাঁদের গ্রহণেও সেই একই কথা। চাঁদের কাছ থেকে সূর্যকে যখন সে আড়াল করে, তখন জ্যোতিহীন পৃথিবী চাদকে ছায়াই দিতে পারে, নিজের থেকে আলো দিতে পারে না।

 বৃহস্পতি গ্রহের পরের পংক্তিতে আসে শনিগ্রহ।

 এ গ্রহ আছে সূর্য থেকে ৮৮ কোটি ৬০ লক্ষ মাইল দূরে। আর ২৯॥ ৩ বছরে এক পাক তার সূর্য প্রদক্ষিণ। শনির বেগ বৃহস্পতির চেয়েও কম—এক সেকেণ্ডে ছ মাইল মাত্র। বৃহস্পতি ছাড়া সৌরজগতের অন্য গ্রহের চেয়ে এর আকার

৯৭