পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিশ্বপরিচয় এইটুকু দেরিতে বিশেষ কিছু আসে যায় না। প্রায় তাজা খবরই পাওয়া গেছে । কিন্তু সৌরজগতের সব চেয়ে কাছে আছে যে নক্ষত্র, অর্থাৎ নক্ষত্রমহলে যাকে আমাদের পাড়াপড়শি বললে চলে, যখন সে জানান দিল “এই যে আছি” তখন তার সেই বার্তা বয়ে আনতে আলোর সময় লাগছে। চার বছরের কাছাকাছি । অর্থাৎ এইমাত্র যে খবর পাওয়া গেল সেটা চার বছরের বাসি । এইখানে দাড়ি টানলেই যথেষ্ট হোত, কিন্তু আরো দূরের নক্ষত্র আছে যেখান থেকে অালো আসতে বহু লক্ষ বছর লাগে । আকাশে আলোর এই চলাচলের খবর বেয়ে বিজ্ঞানে একটা প্রশ্ন উঠল, তার চলার ভঙ্গীট কী রকম । সেও এক আশচর্য কথা । উত্তর পাওয়া গেছে তার চলা অতি সূক্ষ্ম ঢেউয়ের মতো । কিসের ঢেউ সে কথা ভেবে পাওয়া যায় না ; কেবল আলোর ব্যবহার থেকে এটা মোটামুটি জান৷ গেছে ওটা ঢেউ বটে । কিন্তু মানুষের মনকে হয়রান করবার জন্যে সঙ্গে সঙ্গেই একটা জুড়ি খবর তার সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ নিয়ে হাজির হোলো, জানিয়ে দিলে অালো অসংখ্য জ্যোতিষ্কণা নিয়ে ; অতি খুদে ছিটে-গুলির মতে ক্রমাগত তার বর্ষণ । এই দুটো উলটো খবরের মিলন হোলো কোনখানে তা ভেবে পাওয়া যাও না। এর চেয়েও আশ্চর্য একটা পরস্পর উলটো কথা আছে, সে হচ্ছে এই যে বাইরে যেটা ঘটছে। br