পাতা:বিশ্বপরিচয়-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরমাণুলোক কামড়িয়ে আচড়িয়ে চারদিকে অনর্থপাত করতে থাকে । আমাদের সর্বাঙ্গে এবং দেহের বাইরে এই পোষমান বিভীষিকা নিয়ে অদৃশ্য ডুগডুগির ছন্দে চলেছে সৃষ্টির নাচ ও খেলা। স্বষ্টির আখড়ায় হই খেলোয়াড় তাদের ভীষণ দ্বন্দ্ব মিলিয়ে বিশ্বচরাচরের রঙ্গভূমি সরগরম করে রেখেছে। কোনো কোনো বিজ্ঞানী পরমাণুজগৎকে সৌরমণ্ডলীর সঙ্গে তুলনীয় করে বললেন, পরমাণুর কেন্দ্র ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন চক্রপথে ঘুর খাচ্ছে ইলেকট্রনের দল । অারেক পণ্ডিত প্রমাণ করলেন যে, ঘূর্ণিপাক-খাওয়া ইলেকট্রনরা তাদের এক কক্ষপথ থেকে তার-এক কক্ষপথে ঠাই বদল করে, আবার ফেরে অাপম নির্দিষ্ট পথে । পরমাণুলোকের যে ছবি সৌরলোকের ছাদে, তাতে আছে পজিটিভ বৈদ্যুতওয়ালা একটা কেন্দ্রবস্তু, আর তার চারদিকে ইলেকট্রনদের প্রদক্ষিণ । এ মত মেনে নেবার বাধা আছে । ইলেকট্রন যদি একটানা পথে চলত তাহলে ক্রমে তার শক্তি ক্ষয় হয়ে ক্রমে পথ খাটাে ক’রে সে পড়ত গিয়ে কেন্দ্রবস্তুর উপরে। পরমাণুর সর্বনাশ ঘটাত । এখন এই মত দাড়িয়েছে, ইলেকট্রনের ডিম্বাকার চলবার পথ একটি নয়, একাধিক। কেন্দ্র থেকে এই কক্ষগুলির দূরত্ব নির্দিষ্ট । কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের যে-পথ, কোনো ইলেকট্রন २१