বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ.djvu/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

জমিদার-রাখালের কথা

টনটনে। আমায় সমবায়ভুক্ত হতে দেখে সে আহ্লাদে আটখানা। হাতে ধরে বললে—বেশ করেছ ভাই। টঙে চড়ে বসে থাকনি, আমাদের দলে নেমে এসেছ, তোমার সুবুদ্ধির উপযুক্ত হয়েছে। একল্‌সেঁড়েপনায় লাভটা কী। প্রতিবাসী যে জিনিসের নাগাল পায় না, তা একা ভোগ করে কি সত্যিকার তৃপ্তি হয়।

 “সেকালে এ প্রশ্ন শুনলে হেসে উড়িয়ে দিতাম, এখন তা পারি না, নিজের মনেই সে কথা দিনরাত উঠছে। এই কথাই তোমাকে বলবার আছে। আমাকে সমীকরণপন্থী কি অরাজকপন্থী, কি কোনো একটা পন্থী মনে ভেবো না। আমি যে কী তা নিজেই জানিনে, জানার দরকারও দেখিনে। মোট কথা পুরোনোর জঞ্জাল ঝেড়ে ফেলে বেঁচেছি, আগের ভাব এখন মনে করলে লজ্জা হয়।”

 আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার স্ত্রী, ছেলেরা,—তাঁদের ভাব কী।”

 “ছেলেরা তো অনেক দিন থেকে বিপ্লবের পক্ষে। স্ত্রীও আস্তে আস্তে মন ঘুরিয়ে আনছেন। ইহুদী ব’লে আমরা অনেক বিষয়ে রেহাই পেতাম, তবু জোতদার থাকতে এ টেক্স সে টেক্স দিতে শাঁস ক্রমশই কমে আসছিল। অন্যদিকে যে প্রশ্নের কথা তোমায় বললাম, মনের মধ্যে তাও খেলছিল—আমরা খাব মাংস মাখন পনীর সাদা ময়দার রুটি, আর আশপাশের মানুষের জুটবে খালি শাকসবজির ঝোল দিয়ে বাজরার কালো রুটি, এটা কি ঠিক?

 “বুঝলাম, ঐহিক পারত্রিক দুদিকের ঠেলায় দু-নৌকোয় পা দিয়ে থাকা চলে না। গত শরৎকালে একদিন পরিবারের সকলকে ডেকে পরামর্শে বসলাম। আমি বললাম—দেখো এভাবে থাকা পোষাচ্ছে না; এসো, পুরোনোর মায়া কাটিয়ে নতুনকে ধরা যাক।

১২৩