বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ.djvu/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

চতুর্বর্গের ফল বিচার

জায়গায় জাতিভেদ চেপে বসল, গুণকর্মের বদল হলে যে ভেদটা বাধা হত না, সেটা জীবন থাকতে পার হবার উপায় বন্ধ হল।

 তখন ধর্মের গায়ে লাগল আঘাত,—শুধু কর্তৃপক্ষের জবরদস্তির আঘাত নয়,শুধু ধর্মযাজকের ফরমাশি আঘাত নয়, ভেদের পর ভেদ বিনা প্রতিবাদে মেনে চলায় জাত-কে-জাত নিজের হাতে-দেওয়া আঘাতের অপরাধে লিপ্ত হওয়ায় সকলে মিলে সাজা পেলও তেমনি। কারো সঙ্গে মিলিনে মিশিনে করতে করতে হিন্দু জাতটাই হল একঘরে; যারা পরের ভালো দেখতে পারল না, এখন তাদের ভালো কেউ দেখতে পারে না।

 পরস্পর প্রীতি যে-পরম-ধর্ম তাকে চিনতে না পারায়, ত্যাগের দ্বারা ভোগ করার যে সনাতন উপদেশ, আমাদের দেশের লোক তার ঠিক তাৎপর্য পেল না। সম্পত্তি ত্যাগ করার মানে দাঁড়াল সম্পত্তি ছেড়ে পালানো। যে-রোগীর ওষুধ-পথ্যির খরচ জুটছে না, তাকে চেঞ্জে পাঠালে সে যেমন ধনেপ্রাণে মারা পড়ে, এতেও সে ধরনের ফল হল। বিষয়কে বিষময় যেমন বোঝা ওমনি স্ত্রীপুত্রকে তার মধ্যে ফেলে, গেরুয়া পরে গৃহস্থ দে পিট্টান, তাতে অন্য গৃহস্থদের গলগ্রহ হয়ে তাদের বিষাক্ত বিষয়ের ভাগ নিতে হয়, সে খেয়াল নেই। ভারতবর্ষেরই মধ্যযুগের সাধকদের জীবনে দেখা যায়, ঐহিক জীবিকার চেষ্টা পারত্রিক উন্নতি সাধনের বিঘ্ন নয়—তবে জীবিকা অর্জনে সন্তুষ্ট থাকা, আর লাভের লোভে মাতোয়ারা হওয়া, দুটো জিনিস আলাদা। শেষেরটা ত্যাগ করে প্রথমটা রাখলে নিজের জোরে থাকা যায়, কারও গলগ্রহ হতে হয় না।

 পরের কাঁধে চাপার এ সহজ উপায়টি জাহির হওয়ায় মেকী-ও চলছে বিস্তর; বিষয়ে যারা মোটেই বিরাগী নয়, তারাও ভেখ নিয়ে

১৫২