দুর্গতিনাশন যজ্ঞারম্ভ
গল্তিটা কিসে কিসে হয়েছিল, সেটুকু কলির শেষে USSR-এর কাছে ধরা পড়েছে বলে মনে হয়।
প্রকাশ হয়েছে যে, নারায়ণীকে দ্বৈতরূপে দেখাটাই যত নষ্টের গোড়া। সরস্বতীর তো ভুবনভোলানো রূপ, চকিতেমাত্র তাঁর যে দেখা পায় সে থ হয়ে যায়, লক্ষ্মীর দিকে আর চায় না। আবার লক্ষ্মীকে অবহেলা করলে সরস্বতী অন্তর্ধান হন, অন্তত বাম হয়ে থাকেন। এই উভয় সংকটের মধ্যে মানুষ এত দিন হাবুডুবু খাচ্ছিল।
USSR বুঝতে পারলেন, নারায়ণীকে একেশ্বরী জেনে সংবর্ধনা না করলে তিনি নারায়ণকে ধরা দেবেন না। আমরাও আল্মা[১]-মায়ের দৌলতে সরস্বতীকে একটু আধটু চিনে নিয়েছি। শুধু “ফুল নে মা” ব’লে আদর কাড়তে গেলে তিনি গলেন না; গাধা-খাটুনি খেটে হদ্দ হলেও তিনি টলেন না; রসে কষে ঠিকমতো মিলিয়ে নিবেদন না করলে তিনি দক্ষিণ-মুখ ফেরান না, যাকে বলে “প্রসাদ” তা মেলে না। তাই USSR সরস্বতীর দুই বর পুত্র কবি-মনীষীর আশ্রয় নিয়ে তাঁর খাতির রাখলেন, আর উভয়কে কর্মী বানিয়ে লাগিয়ে দিলেন লক্ষ্মীর আরাধনায়। বুদ্ধিটা খেলিয়েছেন ভালো, স্বীকার করতে হয়।
পুরাকালে আরাধনা বলতে ঠিক-কে-ঠিক মন্ত্র উচ্চারণ করা, মান্ধাতার আমলের যত কিছু তুকতাক কোনোটি বাদ না পড়া, এই বোঝাত; মাঝে বোঝাতে লাগল ভক্তি-বিলাসের ঘটা—স্তব গান, বাতি ফুল-চন্দনের বাহার; হালে বোঝায় ভালো মনে সমানে খেটে চলা, পদে পদে দুর্গতির নিদান-জিজ্ঞাসা, দফে দফে জানা বা খুঁজে পাওয়া ওষুধ প্রয়োগ, এই উপায়ে সাধারণের সেবায় প্রত্যেকের সাগ্রহ
২৩
- ↑ Alma-mater ইলম দাতা মাতা।