মাটির কথা
যে-যার রাজ্যে থিতিয়ে বসল, বিজ্ঞান ও হাজির হল মানুষের খিদমত করতে; তবু কেন যে-মরু সেই মরু খাঁ খাঁ করছে।
ইমারত যত উঁচু, ভিত তার মতো-মতো চওড়া না হলে যা হয়, মানুষের সেই রকমের দশাটা হয়েছে—তার হৃদয় উদার না হতেই বুদ্ধিটা বেজায় চড়ে গেছে। মানুষে মানুষে ভালোবাসার টান না থাকলে বুদ্ধিকে বাগ মানাবে কী দিয়ে। তাই মাঝে মাঝে হালছাড়া বিজ্ঞানের কেরামতি দেখে অবাক হতে হয়—দুঃখ না হলে হাসি পেত।
সবে সেদিন খবরের কাগজে পড়া গেল মার্কিনদেশে দর বাড়াবার জন্যে হাজার হাজার বস্তা গম পুড়িয়ে ফেলার অদ্ভুত কাণ্ড।
য়ুরোপেরও একটা গল্প বলি। ১৯৩৪ সালে জর্মানীর বিজ্ঞানের ঠেলায় গমের এমনি ফলন হল যে, দেশের লোকে খেয়ে শেষ করতে পারে না, পাঠিয়ে দিলে দিনেমার-গোরুকে খাওয়াতে। সেখানে আবার গোরু এত বেড়ে গেল যে, গো-খাদক জাতেও তার সদ্ব্যবহার করে উঠতে পারল না, কলে পিশে তাদের হাড়েমাসে পিণ্ডি পাকিয়ে ওলন্দাজ শুয়োরের খাবার বলে চালান গেল। সেখানে শুয়োর বংশের বাড়াবাড়ি আরম্ভ হওয়ায়, শুয়োরখেকোরও হল অরুচি, শুয়োর মেরে সার দিতে লাগল নতুন আবাদী জমিতে,—যাতে আবার বোনা হল গম। বলিহারি যাই চক্করের বাহার:
সার দিয়ে বেড়ে যায় গম
গোরুতে খায় সেই বাড়তি গম
বাড়তি গোরু দিয়ে খাওয়াল শুয়োর
খেতের সার হল বাড়তি শুয়োর
২৯