বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কুলশীলের রহস্য

আমাদের বোঝা নিয়ে বিষয়, তার জন্যে যেটুকু দরকার, তাই সাদা করে ভাবার চেষ্টা করা যাক।

 বাপের মতো হাত, কি মায়ের মতো নাক, এ সব সন্তানে পেয়েই থাকে; তবে হাত-ভাঙা বাপের নুলো ছেলে, কি নাক-কাটা মায়ের বোঁচা ছেলে, তা হয় না। আবার সন্তানের এমন গুণ-দোষও দেখা যায়, যা মা-বাপে নেই। এই হের-ফেরের হিসেবটা পেলে তবেই বোঝা যাবে একটা প্রাণীকুলের ভিতর কোনো বিশেষ গুণ আনতে হলে তার কী উপায় করা যায়।

 প্রাণীর দেহ কত অগুন্তি, রকম বেরকমের কোষ দিয়ে গড়া; সে দেহ তো মা-বাপের কাছ থেকে সন্তান আস্ত পায় না, পায় শুধু একটি যুগল জননকোষ। জননকোষ বলতে দেহের নিভৃত স্থানে কতকগুলি বিশেষ কোষ, যারা স্ত্রী বা পুরুষের মধ্যে অর্ধাঙ্গ অবস্থায় থাকে। সুযোগ পেয়ে দু’ রকম দুটো জননকোষের মিলন হলে একটি পূর্ণাঙ্গ কোষ হয়ে, সে আলাদা জীবন আরম্ভ করে, পিতৃকুল মাতৃকুল দুই দিক থেকে পাওয়া গুণ অনুসারে নতুন দেহ গড়তে থাকে।

 আরো একটু কথা আছে। অশরীরী গুণগুলি সন্তানকোষে চলে আসে না,—সে মা-বাপের জননকোষ থেকে পায় শুধু গুণের কারিগর। জননকোষগুলি নিজেই এত ক্ষুদ্র যে, অণুবীন দিয়ে কষ্টে দেখা যায়। তাদের মধ্যে আবার গুণের জননিকা (genes) যেগুলি আছে, তারা অণুর তুলনায়ও অণু, তারা ধরা পড়েছে মনোবীন দিয়ে, অর্থাৎ যুক্তির জোরে। এই জননিকাগুলির ক্রিয়ায় সন্তানের নতুন দেহ বংশের সনাতন দেহের সাদৃশ্য পায়।

 এই জননিকা-সমেত জননকোষগুলি দেহের নিভৃত স্থানে থাকায়, বাইরের আঘাতে দেহের অন্য কোষগুলি জখম হলেও সেখানে সে

৮১