কুলশীলের রহস্য
জনন-কোষগুলোকে এক একটা গ্রামের মতো ভাবা যাক, যার মধ্যে গুণের জননিকাগুলি যেন তাঁতি ছুতোর কামার কুমোর কাঁসারি, পাঁচ রকমের কারিগর। তার পর মনে করা যাক, কতৃপক্ষের একটা নুতন গ্রাম পত্তন করার ইচ্ছে হয়েছে।
হুকুম জারি হল—“ক, খ, এই দুই গ্রাম থেকে পাঁচ রকমের পাঁচ জন করে, মোট দশ জন কারিগর সদরে পাঠানো হোক, তার মধ্যে থেকে পাঁচজন বাজাই করে গ-গ্রামে বসানো হবে।”
এই পাঁচ জোড়া কারিগর জড় হলে তাদিকে একটা অন্ধকার ঘরে পোরা হল, যার দরজা কোন্দিকে তারা কেউ জানে না হাতড়াহাতড়ি করে দরজা পেয়ে সেখান থেকে প্রথমে যে পাঁচজন বেরিয়ে এল, তারা যে যার বাড়ি ফিরে গেল। যে পাঁচজন পিছিয়ে থেকে আটক পড়ে গেল, তাদিকে পাঠানো হল গ-গ্রামে বাস করতে।
এই যে অন্ধকারে টিল-মারা গোছের কারিগর বাছাই, নতুন গ্রাম সম্পর্কে এর ফলাফল একটু ভেবে দেখা যাক।
প্রথমেই তো বোঝা যাচ্ছে যে, গ-গ্রামে পাঁচজন গেল বটে, কিন্তু তারা পাঁচরকমের কারিগর নাও হতে পারে। অন্ধকারে ঠেলাঠেলির পর হয়তে ক-খ-গ্রামের দুই তাঁতি নতুন গ্রামে যাবার দলে ধরা পড়ল, দুই কামারই ছাড়া পেয়ে নিজের গ্রামে ফিরে গেল। গুনতিতে ঠিক রইল, রকমে হল বেশ কম। সে অবস্থায় প্রথম ফল এই দেখা যাবে যে, গ-গ্রামে তাঁতের কাজ চলবে জোরে, কিন্তু সে গ্রামের লোককে লোহার জিনিস বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে।
আবার ধরে, ক-গ্রামের তাঁতি বোনে শুধু মোট ধুতি, খ-গ্রামের তাঁতি ফুল-পেড়ে শাড়ি বুনতে জানে; অথচ গ-গ্রামে
৮৩