বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বমানবের লক্ষ্মীলাভ.djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মনপ্রাণের উৎকর্ষ

এরোপ্লেন থেকে সমুদ্রে-ঢেউয়ে একাকার মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। তেমনি উদারদৃষ্টিতে বডো ঈশার সঙ্গে ছোটো ছোটো ঈশার যোগাযোগ ধরা পড়তে পারে। সেই আশায় খণ্ডশক্তিগুলোর ক্রিয়াকলাপ আরো ভালো করে বোঝার চেষ্টা করা যাক।

 একদল প্রাণীকণা সূর্যকিরণের তেজ শরীরের মধ্যে আটকে নিয়ে তার সাহায্যে সোজাসুজি জড়কণা দিয়ে প্রাণের ক্রিয়া চালাবার উপায় পেয়ে গেল। এরা উদ্ভিদশ্রেণীতে ফলাও হল। আর যে প্রাণীকণার দল তা করতে পারল না, তারা উদ্ভিদ খেয়ে তাদের তৈরি কোষ দিয়ে প্রাণক্রিয়া চালিয়ে নানা শাখার উদ্ভিদ-খেকো শ্রেণী বার করল।

 গোড়ায় গোড়ায় উদ্ভিদজাত সবই শেওলার মতো নরম ছিল, তখন তারা জলের তলায় বা ধারে শিকড় গাড়ত। ক্রমে তাদের কোনো কোনো দল শক্ত ছালের ঢাকা বানিয়ে, তার ভিতরে নিরাপদে রস চলাচলের ব্যবস্থা রেখে, ডাঙায় উঠে পড়ল, শেষে বিচি ছড়াবার নানা ফন্দি বার ক’রে পাহাড়ের মাথায় পর্যন্ত চড়ে গেল। উদ্ভিদ-খেকোরাও গায়ে শক্ত চামড়া মুড়ে ওদের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী ছেয়ে ফেলল। এদের মোটামুটি দুই শাখা,—পোকার মতো যাদের নরম দেহ, আর হাড়ের কাঠামো থাকায় যাদের দেহ শক্ত। এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রশাখা আরো সোজায় পুষ্টি আদায় করার চেষ্টায়, উদ্ভিদ খাওয়া ছেড়ে স্বশ্রেণীর পশুপাখি মাছপোকা খেতে লাগল।

 তবু, এত রকমের খাওয়া-খাওয়ি সত্ত্বেও জন্তুতে পাখিতে গাছে পোকায় পরস্পর সাহায্যেরও কিছু কিছু সম্বন্ধ রয়ে গেল, তার কিছু আভাস আমরা আগে পেয়েছি।

 এতেও ঈশার বৈজ্ঞানিক পরিচয়ের শেষ নয়। জৈবিক শক্তি যেমন নানা রকম প্রাণীকণার সমবায় বেঁধে জীবদেহ তৈরি করে চালায়,

৯৪