বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বের উপাদান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৯৫২).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮
বিশ্বের উপাদান

গ্লাস জল লও; কল্পনায় মনে কর, এই জলের প্রত্যেক অণুর গায়ে একটি করিয়া লেবেল মারিয়া দেওয়া হইল। এই জল এখন সমুদ্রের জলের সহিত মিশাইয়া দাও; অপেক্ষা কর যতদিন পর্যন্ত না পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, নদনদীর জলের সহিত এই জল সম্পূর্ণরূপে মিশিয়া যায়। এইবার সমুদ্র বা নদী হইতে এক গ্লাস জল লও। এখন দেখিবে, তোমার সেই আগেকার লেবেলযুক্ত অন্তত দু-হাজার অণু এই মাসের জলে আসিয়াছে। পরমাণুর ভরের যে হিসাব দেওয়া হইয়াছে সেখানে কোনও উপমাও মানব হৃদয়ঙ্গম করিতে পারে না।

 এই পৃথিবী, ঐ সূর্যগ্রহতারকা, ব্রহ্মাণ্ডে যত কিছু ভৌতিক পদার্থ আছে সবই পরমাণুর সমষ্টি-মাত্র। মোটের উপর বিশ্বে কত রকমের মৌলিক পদার্থ আছে? ৫০, ৬০, ৭০, ৮০—বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন রকমের মৌলিক পদার্থের সংখ্যা ৯২টিতে দাঁড়াইয়াছে; তন্মধ্যে ৯০টির সহিত বিজ্ঞানী বিশেষভাবে পরিচিত। এই ব্রহ্মাণ্ড ঐ ৯২টি রকমের পরমাণু লইয়া গঠিত। স্থানে স্থানে উহারা মৌলিকভাবে বিদ্যমান, বেশীর ভাগ যৌগিক ভাবে অবস্থিত। মৌলিক পদার্থ মাত্র ৯২টি, কিন্তু মানুষ প্রায় ৪ লক্ষ বিভিন্ন রকমের যৌগিক পদার্থের সন্ধান পাইয়াছে। মৌলিক পদার্থের মধ্যে দেখা যায় যে, হাইড্রোজেন সর্বাপেক্ষা হালকা, ইয়ুরেনিয়ম সর্বাপেক্ষা ভারী। মৌলিক পদার্থের অধিকাংশই সাধারণ অবস্থান কঠিন, কতকগুলি গ্যাসীয়, এবং খুব অল্পসংখ্যক তরল অবস্থায় বিদ্যমান। ইহাদের মধ্যে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, লৌহ, অ্যালুমিনিয়ম, সিলিকন খুব বেশী পরিমাণে পৃথিবীতে ছড়াইয়া আছে, খাইতে শুইতে বসিতে আমরা ইহাদের সাক্ষাৎ লাভ করি। পক্ষান্তরে রেডিয়ম, ঈট্রিয়ম, ক্রিপ্টন প্রভৃতির পরিমাণ খুবই কম। সমস্ত পৃথিবী হইতে এক পাউণ্ড রেডিয়ম পাওয়া দুষ্কর।