লওয়া হয় তাহার সহিত পার্থক্য এই যে, সেখানে প্রত্যেকটির উপর নিয়ম খাটাইয়া ফলাফলের একটা গড় লওয়া হয়; এখানে সমষ্টিগত হিসাব সোজাসুজি আসে, প্রত্যেকটির অবস্থা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান নাই।
পরীক্ষামূলক ঘটনায় তরঙ্গবলবিদ্যা প্রয়োগে দুইটি আপত্তির কারণ দেখা দিল। ইলেক্ট্রনের আবর্তন হইতেছে ধরিয়া যে-সব ঘটনা মীমাংসিত হইয়াছিল ইহা সে সব ব্যাপার নির্ণয় করিতে অসমর্থ হইল। তাহা ছাড়া প্রাচীন বলবিদ্যা ইহার ভিত্তি হওয়ায় আপেক্ষিকতাবাদ হইতে যে-সব সিদ্ধান্ত আসে সে-সব এখানে খাপ খায় না।
১৯২৮ সালে ডিরাক একসঙ্গে এই দুই আপত্তিরই খণ্ডন করিলেন। স্রডিংগারের গণনাসমূহে ডিরাক যে পরিবর্তন আনিলেন তাহাতে উহা সত্যে পৌঁছিবার পথে আরও কতকদূর অগ্রসর হইল।
কিন্তু পূর্ণসত্য কতদূরে? যত দিন যাইতেছে ততই মানব বিশ্ব সম্বন্ধে নব নব জ্ঞান, গভীরতর জ্ঞান আহরণ করিয়া চলিয়াছে বটে, কিন্তু ততই সে তাহার অজ্ঞানতার অন্ধকার উপলব্ধি করিতেছে। বহুকাল পূর্বে নিউটন বলিয়াছিলেন, “আমি বেলাভূমি হইতে উপলখণ্ডের সংকলন করিতেছি মাত্র, জ্ঞান-মহার্ণব পুরোভাগে অক্ষুণ্ন রহিয়াছে।” নিউটনের পর দীর্ঘ দুই শতাব্দী অতিবাহিত হইয়াছে, বিজ্ঞানের অগ্রগতি দেখিয়া সাধারণ মানব আজ স্তম্ভিত, কিন্তু বিজ্ঞানী তবুও আজ নিউটনের ঐ বাক্য একই ভাবে উচ্চারণ করিতেছেন।
শক্তি ও তড়িৎ
প্রথম যুগে বিজ্ঞানীরা স্থির করিলেন যে, বিশ্বের মূল উপাদান হইল বিভিন্ন রকমের পরমাণু। ইহারা বিভিন্ন গুণাবলির; ইহারা অবিভাজ্য। ইহাদের সংখ্যা দাঁড়াইল ১২টিতে।