বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্বের উপাদান - চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৯৫২).pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

উপসংহার

 প্রসঙ্গক্রমে কথাটা উঠিয়াছে যে, পদার্থ হইল শক্তির রূপান্তরিত অবস্থা। মানব ঔৎসুক্যের সহিত প্রশ্ন করিতেছে, আজও কি পদার্থের জন্ম হইতেছে এবং যদি হয় তবে কোথায় কিভাবে হইতেছে। সম্পূর্ণ উত্তর সে আজও পায় নাই, তবে বর্তমান কালের বিভিন্ন পরীক্ষা হইতে মনে হয়, যেন তিমিরদুয়ার একটু একটু করিয়া খুলিয়া যাইতেছে। এইসব পরীক্ষার সামান্য একটু আভাস দেওয়া হইতেছে।

 রেডিয়ম, এক্‌স্-রশ্মি যখন আবিষ্কৃত হয় সেই সময় হইতে দেখা গিয়াছিল যে, উহাদের চারিদিকের গ্যাস তড়িৎ-পরিবাহক হয়। বর্তমান শতাব্দীর প্রারম্ভে গাইটেল তেজষ্ক্রিয় পদার্থ হইতে কোনও রকম রশ্মি আসিতে না পারে এইরূপ বন্দোবস্ত করিয়াও দেখিলেন যে, বায়ুকে সম্পূর্ণরূপে তড়িৎপরিবাহকত্বহীন করা যায় না। তাহার পর গোকেল, হেম, কোল্‌হর্‌স্‌টার স্বর্ণপত্রযুক্ত তড়িৎ-নির্দেশক যন্ত্র (gold-leaf electroscope) খুব উচ্চে লইয়া গেলেন; তড়িৎপরিবাহকত্ব কমিল না বরং দেখা গেল, পাঁচ মাইল উচ্চে উহা সাতগুণ বাড়িয়া গিয়াছে। গাইটেলের পরীক্ষা সম্বন্ধে এতদিন রাদার্‌ফোর্ড্‌ বলিয়া আসিতেছিলেন যে, মাটির মধ্যে লুক্কায়িত কোনও তেজষ্ক্রিয় পদার্থ হইতে নির্গত রশ্মি দ্বারা ঐরূপ ঘটিতেছে। কিন্তু এখন আর সে কথা বলা চলিল না। মাটি হইতে যদি ঐ রশ্মি নির্গত হয় তবে পাঁচ মাইল পথ ভ্রমণ করিবার পর উহা হয় লুপ্ত হইবে না-হয় খুব কমিয়া যাইবে, বাড়িয়া যাইতে পারে না। নিশ্চয় পৃথিবীর বাহির হইতে আগত কোনও রশ্মি দ্বারা ঐরূপ ঘটিতেছে।