সেই পরিবর্তনের ছাপ এই পত্রগুলির মধ্যেও অত্যন্ত স্পষ্ট হইয়া উঠিয়াছে, ইতিহাসের বর্ণনা যেরূপে নির্লিপ্ত ও নৈর্ব্যক্তিক হওয়া উচিত, এই পত্রের বর্ণনা সেরূপ হয় নাই। আমি ইতিহাসকার নহি, ইতিহাস লিখি নাই। এই পত্রাবলীর মধ্যে বহু স্থলে অপরিণত শিশুর নিকটে বলা সহজ আলোচনা এবং পরিণতবুদ্ধি ব্যক্তির যোগ্য গুরু-গম্ভীর আলোচনার অসম মিশ্রণ ঘটিয়াছে, বহু স্থলে একই কথার পুনরাবৃত্তি হইয়াছে। বস্তুত, কত রকম ত্রুটি যে এই পত্রগুলির মধ্যে আছে তাহার সীমা নাই। এগুলি আর কিছুই নয়, কতকগুলি ভাসাভাসা বর্ণনা আর কাহিনী, গল্প বলার সূক্ষ্ম সূত্র দিয়া কোনক্রমে একত্র গাঁথা, এই মাত্র। কাহিনীর মধ্যে যেসকল তথ্য ও জল্পনার উল্লেখ করিয়াছি, তাহাও আমি সংগ্রহ করিয়াছি বিশৃঙ্খল ভাবে—যখন যে-বইটি হাতের কাছে পাইয়াছি তাহা হইতে। অতএব এই বিবরণের মধ্যে ভুলত্রুটিও অনেক থাকা সম্ভব। আমার ইচ্ছা ছিল—কোন দক্ষ ইতিহাসবেত্তাকে দিয়া পত্রগুলি আগাগোড়া সংশোধন করাইয়া লইব। কিন্তু কারাগারের বাহিরে যে অল্প কয়টা দিন কাটাইয়া যাইতেছি, তাহার মধ্যে সেরূপ কোন ব্যবস্থা করিবার অবসর আমি পাইলাম না।
এই পত্রগুলির মধ্যে আমি বহু স্থলে আমার মতামত অত্যন্ত তীব্র ভাষায় ব্যক্ত কারিয়াছি; সে মতামত আমার এখনও বদলায় নাই। কিন্তু পত্রগুলি যেসময়ে লিখিতেছিলাম সেই সময়ের মধ্যেই জগতের ইতিহাস সম্বন্ধে আমার ধারণা ক্রমশ বদলাইয়া যাইতেছিল। পত্রগুলি তখন লিখিয়াছি; এখন যদি লিখিতে হইত তবে ইহার অনেক কথা আমি অন্যভাবে ও অন্যভঙ্গীতে লিখিতাম। কিন্তু যেকথা একবার বলিয়াছি তাহা মুছিয়া ফেলিয়া আবার নূতন করিয়া বলিব, ইহাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
৷৷৵৹