বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ - জওহরলাল নেহরু - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১৯৫১).pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পশ্চিম এশিয়ার সাম্রাজ্য
১৫

কারণে, তারা তাদের পূর্বমত ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে পারশ্য দেশে বড়ো বড়ো রাষ্ট্র এবং সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল দেখতে পাই। ভারতবর্ষেও ক্রমে বড়ো বড়ো রাজ্য স্থাপনের দিকেই ঝোঁক দেখা দিল। গ্রীস দেশে কিন্তু বহুকাল ধরে ঐ নগর-রাষ্ট্রই চলে এসেছে। অবশেষে এক ইতিহাসবিখ্যাত গ্রীক বীর সমস্ত পৃথিবী জয় করবারই চেষ্টা করলেন। এর পূর্বে এ ধরনের চেষ্টা কেউ করেছিলেন বলে আমরা জানি না। ইনি হচ্ছেন মহাবীর আলেকজাণ্ডার। পরে তাঁর কথা তোমাকে আরও বলব।

 কাজেই দেখতে পাচ্ছ, গ্রীকরা তাদের ছোটো ছোটো নগর-রাষ্ট্রগুলোকে একত্র করে বড়ো রাজ্য কিংবা রাষ্ট্র স্থাপনের চেষ্টা করে নি। তারা একদিকে যেমন নিজ নিজ স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনতা রক্ষা করে এসেছে অপরদিকে তেমনি একে অন্যের সঙ্গে নিরন্তর মারামারি-কাটাকাটিও করেছে। এদের মধ্যে বিষম রেষারেষি ছিল, তার ফলে প্রায়ই লড়াই বেধে যেত।

 তা সত্ত্বেও কিন্তু এই রাষ্ট্রগুলির মধ্যে কয়েকটি যোগসূত্র ছিল। এদের সকলেরই এক ভাষা, এক সংস্কৃতি, এক ধর্ম। তাদের ধর্মে অনেক দেবদেবীর পূজো ছিল। হিন্দুদের পুরাণের গল্প যেমন চমৎকার, গ্রীক পুরাণের গল্পও তেমনি চিত্তাকর্ষক। গ্রীকরা ছিল সৌন্দর্যের পূজারী। তাদের তৈরি মর্মর এবং প্রস্তর মূর্তি এখনও কিছু কিছু রয়েছে, সেগুলো দেখতে অপূর্ব সুন্দর। সুঠাম সুন্দর দেহকান্তির প্রতি তাদের খুব অনুরাগ ছিল এবং শরীরচর্চার জন্যে তারা নানাবিধ ক্রীড়ামোদের প্রবর্তন করেছিল। মাঝে মাঝে অলিম্পাস পর্বতে বিরাট আকারে ক্রীড়ামোদের ব্যবস্থা হত। তখন গ্রীস দেশের সকল প্রান্ত থেকে বহু লোক এসে সেখানে জড়ো হত। তুমি নিশ্চয় শুনে থাকবে, অলিম্পিক খেলা আজকালও হচ্ছে। নামটা কিন্তু এসেছে গ্রীকদের সেই অলিম্পাস পাহাড়ের খেলাধূলো থেকে। ঐ নামে এখন বিভিন্ন দেশের ক্রীড়ামোদীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়।

 এখন দেখা গেল, গ্রীক রাষ্ট্রগুলো বরাবর পৃথকভাবেই ছিল, খেলাধুলোর উপলক্ষে মাঝে মাঝে এক জায়গায় মিলেছে, আবার সারাক্ষণ নিজেরা নিজেরা লড়াই করেছে। অবশেষে একদা যখন বিদেশী শত্রু এসে দেশ আক্রমণ করল তখন কিন্তু এরা সবাই মিলিত হয়ে শহরে প্রতিরোধ করেছে। এই আক্রমণ হচ্ছে পারশ্যরাজের আক্রমণ। এ বিষয়ে আমরা আবার পরে আলোচনা করব।


পশ্চিম এশিয়ার সাম্রাজ্য

১৩ই জানুয়ারি, ১৯৩১

 কাল তোমাদের দেখা পেয়ে খুব ভালো লাগল। তোমার দাদুকে এতটা অসুস্থ ও দুর্বল দেখব আশা করি নি। ওঁর জন্য ভারি দুশ্চিন্তা বোধ করছি। তোমাদের সেবাশুশ্রূষার দ্বারা ওঁকে আবার সুস্থ ও সবল করে তুলো। এ বিষয়ে কাল তোমাকে বিশেষ কিছু বলতেই পারি নি। এত অল্প সময়ের সাক্ষাতে কতটুকুই-বা বলা চলে। দেখাশোনা ও আলাপের অভাবের দরুন মনের এই শূন্যতা আমি চিঠি লিখে ভরে নিতে চাই। কিন্তু এ তো আসল জিনিষ নয়, এ যেন কেবল মনকে চোখঠারা। তবু মাঝে মাঝে মনকে এভাবে সান্ত্বনা দেওয়া মন্দ কী?

 পুরোনোকালের কথায় ফিরে যাওয়া যাক। এই সেদিন প্রাচীন গ্রীকদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছে। তোমার হয়তো মনে প্রশ্ন জাগবে, সে সময় অন্যান্য দেশের কীরকম অবস্থা ছিল। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিতে তখন জানবার মতো বিশেষ কিছু ছিল না—সুতরাং তাদের কথা আমরা সহজেই বাদ দিতে পারি। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের উত্তরপ্রান্তের দেশগুলিতে তখন নূতন নূতন অবস্থার আবির্ভাব হচ্ছিল। তুমি হয়তো জানো, বহু যুগ আগে