বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ - জওহরলাল নেহরু - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১৯৫১).pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ

দিকে আর কোনো দেশ নেই, তাই ঐ নাম দিয়েছিলেন। এই কিৎসির আগমনকাল থেকেই কোরিয়া ইতিহাস শুরু—আর তাও ঘটেছিল খৃষ্টজন্মের এগারো শো বছর আগে। কিৎসি যখন এই নূতন দেশে এলেন তখন তাঁর সঙ্গে আনলেন চীনাদের শিল্পকলা, তাদের গৃহনির্মাণপ্রণালী, কৃষিবিদ্যা এবং রেশমশিল্প। কিৎসির পরে আরও সব চীনা দলে দলে এসে এ দেশে বসবাস শুরু করে দিলে। কিৎসির বংশধরেরা চো-শেনে ন শো বছরেরও বেশি কাল রাজত্ব করেছিল।

 অবশ্য চো-শেন পূর্বাঞ্চলের শেষ প্রান্তে অবস্থিত নয়। তারও পূর্বে রয়েছে জাপান। কিন্তু কিৎসি যখন চো-শেনে আগমন করেন তখন জাপানের অবস্থা কী ছিল আমরা জানি নে। জাপানের ইতিহাস চীন দেশের ইতিহাসের মতো অত প্রাচীন নয়, এমনকি কোরিয়া বা চো-শেনের মতোও নয়। জাপানিরা বলে, তাদের প্রথম সম্রাটের নাম জিম্মু টেনো, খৃষ্টজন্মের ছ-সাত শো বছর আগে তিনি রাজত্ব করেছিলেন। জাপানিদের মতে তিনি নাকি সূর্যদেবীর বংশধর। ও দেশে আবার সূর্যকে দেবতা না বলে দেবী বলা হয়। জাপানের বর্তমান সম্রাট নাকি ঐ জিম্মু টেনোরই বংশধর, কাজেই ইনিও সূর্য বংশসম্ভূত।

 তুমি বোধহয় জানো আমাদের দেশের রাজপুতেরাও এমনিভাবে চন্দ্রসূর্যের সঙ্গে সম্পর্ক পাতিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান দুটি বংশের একটি হল সূর্যবংশী আর একটি চন্দ্রবংশী। উদয়পুরের মহারাণা হলেন সূর্যবংশীদের কুলপতি। তিনি বলেন, প্রাচীনতম কাল থেকে তাঁদের এই বংশ চলে আসছে। আমাদের এই রাজপুতরা সত্যি এক আশ্চর্য জাত। এদের শৌর্যবীর্যের কাহিনী বলে শেষ করা যায় না।


১২

অতীতের আহ্বান

১৭ই জানুয়ারি, ১৯৩১

 আড়াই হাজার বছর আগে পৃথিবীর চেহারাটা যেমন ছিল তার মোটামুটি একটা আন্দাজ আমরা পেয়েছি। খুব স্বল্পপরিসরের মধ্যে আমাদের আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হয়েছে। যে দেশগুলি অপেক্ষাকৃত উন্নত ছিল অথবা যাদের সম্বন্ধে ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্য নজির আছে, কেবল তাদের সম্বন্ধেই দু-এক কথা বলা হয়েছে। এই দেখো-না, মিশরের সভ্যতা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে কেবলমাত্র পিরামিড ও স্ফিংকস্-এর কথাই বললাম। আরও অনেক উল্লেখযোগ্য কথা ছিল যার সম্বন্ধে কিছুই বলা হয় নি। মিশরীয় সভ্যতা যে কত প্রাচীন তা একটা কথা থেকেই বুঝতে পারবে—আমরা যে সময়কার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করছি তখন মিশরের পড়তি অবস্থা, তার বহু আগেই ও দেশের গৌরবময় যুগের অবসান হয়ে গেছে। নোসসের সভ্যতায়ও তখন ভাঙন ধরেছে। আগের চিঠিতে তোমাকে চীন দেশের কথা বলেছি। সে যুগে চীনে খুব বড়ো বড়ো সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল; দীর্ঘকালের জন্য সমস্ত দেশকে একতাবদ্ধ করে এই সাম্রাজ্যগুলি চীনের প্রভূত উন্নতিসাধন করেছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ লিখনপদ্ধতির প্রবর্তন, রেশমের আবিষ্কার প্রভৃতির উল্লেখ করা যেতে পারে। প্রাচীনকালে কোরিয়া ও জাপানের অবস্থা কেমন ছিল সে সম্বন্ধে ইতিপূর্বেই দু-এক কথা তোমাকে বলেছি। ভারতবর্ষের কথা বলতে গিয়ে এখানকার প্রাচীন সভ্যতার তিনটি স্তরের কথা উল্লেখ করেছি—প্রথমত সিন্ধু নদের তীরবর্তী মোহেঞ্জোদারো-যুগের সভ্যতা, দ্বিতীয়ত দ্রাবিড়সভ্যতা, ও তার পরবর্তী কালের আর্যসভ্যতা। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতি আর্যদের লেখা কয়েকটি বিখ্যাত পুস্তকের কথাও বলেছি। আর্যরা কেমন করে প্রথম প্রথম উত্তর-ভারতে ছড়িয়ে পড়ে ও তার পর দক্ষিণ ভারতের দ্রাবিড়দের সংস্পর্শে এসে ‘আর্য-দ্রাবিড়’ নামে একটা নূতন সংস্কৃতি ও সভ্যতা গড়ে তোলে—এ সবই তুমি শুনেছ। আর্য গ্রামগুলির