বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ - জওহরলাল নেহরু - সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার (১৯৫১).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ইংরেজী চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞপ্তি

“বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গে”র শেষ সংস্করণটি প্রকাশিত হইবার পর যে তিন বৎসর অতীত হইয়াছে, তাহাতে ভারত তথা সমগ্র পৃথিবীতে বহু ঐতিহাসিক পরিবর্তন সংঘটিত হইয়াছে। ঐ সকল পরিবর্তনের অর্থ এবং আঘাত যেমন ব্যাপক তেমনি বৈপ্লবিক। যাঁহারা ইতিহাস হইতে প্রেরণা ও পথের সংকেত পাইতে চাহেন, যাঁহারা ইতিহাসের সতর্কবাণী এবং তাহার পৌর্বাপৌর্য চেতনার প্রয়োজন উপলব্ধি করেন, তাঁহাদের নিকট এই গ্রন্থ এখন অর্থে ও ইঙ্গিতে আরও সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে।

 উপরন্তু এই ঘটনাবলী গ্রন্থকারকে একজন শ্রেষ্ঠ ইতিহাসকাররূপে অভিব্যক্ত করিয়াছে। তিনি নির্ভুল এবং দঃসাহসিক অন্তর্দৃষ্টি দিয়া আমাদের জন্য ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহের তাৎপর্যালোচনা করিয়াছেন। সংগ্রামের পথে ভারত স্বাধীনতা লাভ করিয়াছে এবং বর্তমানে সে দৃঢ়তার সহিত শান্ত সমাহিতভাবে বিরাট সমস্যাসমূহের সম্মুখীন হইতেছে। ফলে, যে-সকল ঘটনাবলীর সমাবেশে চলতি ইতিহাস রচিত হয় তাহাতে নবভারতের প্রধান মন্ত্রী ও বহবাঞ্ছিত নেতা পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু এতটা বিজড়িত আছেন যে এই গ্রন্থখানিকে বর্তমান কালপর্যন্ত টানিয়া আনিবার মতো অবসর তাঁহার নাই।

 আমরা অবশ্যই আশা করিয়া থাকিব যে, অনতিদূর ভবিষ্যতে তিনি তাঁহার ব্যাখ্যানপ্রতিভার দ্বারা আমাদিগকে ও ভবিষ্যদ্বংশীয়গণকে উপকৃত করিবার সুযোগ পাইবেন। যাহাই হউক, বর্তমানে যেমনটি আছে তাহাতেও “বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ”কে সমকালের বলা চলে, কারণ, ইহা সর্বকালের।

মে, ১৯৪৮