গমন করিতে না করিতেই সম্মুখে একখানি সোণার চিরুণী আমার নয়নপথে পতিত হইল। উহা উঠাইয়া লইয়া আরও অগ্রসর হইতেছি, এরূপ সময় পশ্চাদ্বর্ত্তী নদীতে দাঁড়নিক্ষেপের শব্দ শুনিতে পাইলাম। “একি! আমাকে কি কেহ অনুসরণ করিতেছে?” এই ভাবিয়া লণ্ঠনটীতে কিছুক্ষণপরে বোধ হইল যে, দুইজন মনুষ্য আস্তে আস্তে কথা কহিতেছে। এ অবস্থায় সেখানে আর স্থিরভাবে থাকিতে পারিলাম না। আপন নৌকার নিকট গমন করিবার চেষ্টা দেখিতে প্রবৃত্ত হইলাম। আবার সেই দাঁড়ের শব্দ। আরও কিছুক্ষণপরে শেষোক্ত নৌকার উপর একটা ক্ষীণ আলোক দৃষ্টিগোচর হইতে লাগিল। নৌকাস্থিত ব্যক্তিদিগের কথাবার্ত্তা শুনিয়া বোধ হইল, উহারা ইতর লোক।
আমি চুপ করিয়া দাঁড়াইয়া তাহাদিগের কথাবার্ত্তা শুনিতেছি, এমন সময় হঠাৎ একটী পিস্তলের আওয়াজ হইল। সঙ্গে সঙ্গে একটী গুলি শোঁ শোঁ করিয়া আমার মস্তকের উপর দিয়া চলিয়া গেল। আমি কালবিলম্ব না করিয়া বসিয়া পড়িলাম। দেখিতে দেখিতে আরও কয়েকটী গুলি একত্র আমার মস্তকের উপর দিয়া - চলিয়া গেল। এই সময় নিম্নলিখিত কপ্রোপকথন আমার কর্ণকুহরে প্রবেশ করিল।
“আমার বেশ বোধ হইতেছে যে, যদি কোন হিংস্র জন্তু থাকে, তাহা হইলে সে এতক্ষণ শমন- সদনে গমন করিয়াছে।” এই কথা শুনিয়া আমার হৃদকম্প উপস্থিত হইল! আমি কি করিব কিছুই স্থির করিতে পারিলাম না।