আক্বতিও তাহাই করিল। তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে বলিয়া উঠিলাম “দাড়াও”। সে আমার কথায় কর্ণপাতও না করিয়া ক্রমে পলাইতে লাগিল। আমিও পশ্চাৎ পশ্চাৎ ছুটিলাম। এইরূপে কিছুদূর গমন করিবার পর, হঠাৎ তাহা অদৃশ্য হইয়া পড়িল। অনেক চেষ্টা করিয়াও তাহাকে দেখিতে পাইলাম না। তখন আমার পকেট হইতে ক্ষুদ্র আলোকটী বাহির করিয়া জ্বালিলাম এবং উহার সাহায্যে উত্তমরূপে ইতস্ততঃ অনুসন্ধান করিতে লাগিলাম। কিয়ৎক্ষণ পরে একটা সমাধি মন্দিরের নিকট আগমন করিয়া বোধ হইল, যেন উহার পশ্চাতে কে লুকাইয়া রহিয়াছে। আমিও একবারে উহার নিকট গিয়া উপস্থিত হইলাম। তখন একটি স্ত্রীকণ্ঠে নিম্নলিখিত কথা কয়টী মৃদুভাবে উচ্চারিত হইল।—
“মহাশয়! আপনি কেন আমার অনুসরণ করিতেছেন?”
আমি। আপনিই বা এত রাত্রিতে এখানে কি করিতেছেন?
স্বর। আমি ত কাহারও অনিষ্ট করিতেছি না।
ইহার উত্তরে আমি আরও অগ্রসর হইয়া আলোকটী উহার মুখের উপরে ধরিলাম। যাহা আমি হিতাহিত-জ্ঞানশূন্য হইয়া গেলাম লাগিল। চতুর্দ্দিক অন্ধকার দেখিতে। দেখিলাম, তাহাতে আমার মস্তক ঘুরিতে লাগিলাম। কিয়ৎক্ষণ পরে প্রকৃতিস্থ হইয়া দেখিলাম, এই স্ত্রীলোকটীর সহিত মৃতদেহের কিছুমাত্র প্রভেদ নাই।
আমি জিজ্ঞাসা করিলাম “তোমার নাম কি? আয়েষা!”
উত্তর আসিল- “আমার নাম যাহাই হউক, তাহাতে আপনার কি?”