অনেক চেষ্টা করিয়াও তাহাকে প্রাপ্ত হইলাম না। অবশেষে মৃতদেহটী দেখিয়া বুঝিতে পারি যে, সে আর ইহজগতে নাই। আর যে বালিকাটীকে আজ আপনি প্রাপ্ত হইয়াছেন, ও আমার দ্বিতীয়া কন্যা মেহেরউন্নিসা।” এই বলিয়া স্ত্রীলোকটী চুপ করিল।
তাহার পর মেহেরউন্নিসা বলিতে লাগিল, “শৈশবাবস্থার কথা আমার অতি সামান্যই মনে হয়। এইমাত্র মনে আছে যে, এক দিবস বাগানে একাকী বেড়াইতেছি, এমন সময় দুই জন লোক আসিয়া—আমার মুখের উপর একখানি রুমাল ফেলিয়া দেয়। আমি অজ্ঞান হইয়া পড়ি। তাহার পর আমার অদৃষ্টে যে কি ঘটে, তাহা আমার মনে হয় না। বহু দিবস পরে আমি কোনও একটা থিয়েটারের দলে অভিনয় কারতেছিলাম। সেই সময় একটী লোক আমাকে তাহার কথা বলিয়া পরিচয় দিল।“
আমি। সে লোকটী কে?
বালিকা। যে দুইজন আমাকে চুরি করিয়া লইয়া আসে, এ ব্যক্তি তাহাদিগের একজন। সেও পূর্ব্বোক্ত থিয়েটারে অভিনয় করিয়া থাকে। তাহার নাম ইস্মাইল।
আমি। যখন তোমার চৈত্য হয়, তখন তুমি কেবল তাহাকেই দেখিতে পাও?
বালিকা। হাঁ মহাশয়।
আমি। তুমি যাহা যাহা অবগত আছ, বলিয়া যাও।
বা। এক দিবস অভিনয় শেষ হইবার পর আমি বিশ্রাম করিতেছি, এমন সময় “বিয়াম” নামক এক ব্যক্তি আসিয়া আমার প্রতিপালকের সহিত সাক্ষাৎ করে।