যোগের সহিত পাঠ করিতে লাগিলাম। উহাতে লেখা ছিল
“ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড!!!
গত কল্য অপরাহে দুইটা বালক নৌকারোহণে নিকটস্থ নদীতে ভ্রমণ করিতে করিতে একটী পর্ব্বতের পাদদেশে গিয়া উপস্থিত হয়। নৌকাখানি সেইস্থানে রাখিয়া তাহারা খন পর্ব্বতের উপর উঠিতেছিল, সেই সময় সহসা তাহাদিগের দৃষ্টি একটা কৃষ্ণবর্ণ ভাসমান পদার্থের উপর পতিত হইল। বিশেষ করিয়া লক্ষ্য করায়, স্পষ্ট বুঝা গেল, উহা একটী মনুষ্যমস্তক। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্যে বালকদ্বয় সাতিশয় ভীত হইয়া পড়ে ও নিকটবর্ত্তী ময়দানে কয়েকজন লোককে দেখিতে পাইয়া তাহাদিগের নিকট গমন করতঃ সমস্ত বিষয় প্রকাশ করে। উহারাও এই সংবাদপ্রাপ্তে অনতিবিলম্বে নদীতীরে গমন করিয়া জানিতে পারে যে, বালকদ্বয় যাহা বলিয়াছে, তাহার সমস্তই সত্য। উহা সত্য সত্যই একটী মনুষ্যমস্তক। উহাদিগের মধ্যে একব্যক্তি হস্তপ্রসারণ পূর্ব্বক মস্তকটীকে তীরে উত্তোলন করে। তখন সকলেই বুঝিতে পারে যে, উহা একটা পরমাসুন্দরী যুবতী স্ত্রীলোকের দেহান্তরিত মস্তক। কেশাবলী স্বর্ণের ন্যায় উজ্জ্বল ও প্রায় ত্রিশ ইঞ্চি লম্বা। চক্ষুদ্বয় উৎপাটিত হইয়া গিয়াছে। মুখে দুই তিনটি আঘাতের চিহ্ন।
এরূপ ভয়ঙ্কর ঘটনা এই প্রদেশে মধ্যে মধ্যে ঘটিতেছে; কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় এই যে, স্থানীয় পুলিস-কর্ম্মচারিগণের কার্য্যপটুতার কোনটীরও কিনারা হইতেছে না।”