পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্রন্থপরিচয় স্বপ্ন দেখিলাম, কোন্‌-এক মন্দিরের সিড়ির উপর বলির রক্তচিহ্ন দেখিয়া একটি বালিকা অত্যন্ত করুণ ব্যাকুলতার সঙ্গে তাহার বাপকে জিজ্ঞাসা করিতেছে, “বাবা, এ কী । এ-যে রক্ত !’ বালিকার এই কাতরতায় তাহার বাপ অন্তরে ব্যথিত হইয়া অথচ বাহিরে রাগের ভান করিয়া কোনোমতে তার প্রশ্নটাকে চাপা দিতে চেষ্টা করিতেছে।. এই স্বপ্নটির সঙ্গে ত্রিপুরার রাজা গোবিন্দমাণিক্যের পুরাবৃত্ত মিশাইয়া রাজর্ষি গল্প মাসে মাসে লিখিতে লিখিতে বালকে বাহির করিতে লাগিলাম । —রবীন্দ্রনাথ । জীবনস্মৃতি ১২৯২ বঙ্গাব্দে বালক পত্রে আর ১২৯৩ সালে গ্রন্থাকারে ‘রাজর্ষি’ উপাখ্যান প্রচারিত হয় ; ‘রাজর্ষি উপন্যাসের প্রথমাংশ হইতে নাট্যাকারে রচিত বিসর্জন ১২৯৭ সালে (২ জ্যৈষ্ঠে ?) প্রথম প্রকাশিত ; ইহাতে পাচটি অঙ্ক ও প্রথমাদিক্রমে বিভিন্ন অঙ্কে তিন, সাত, চার, সাত ও আট (মোট উনত্রিশ ) দৃশ্ব দেখা যায়। উহাতে, প্রচলিত নাটকে যে-সকল পাত্ৰপাত্রী দেখা যায় তাহা ছাড়া বালক "তাতা' বা ধ্ৰুব’র দিদি ‘হাসি’ এবং অপর্ণার বৃদ্ধ অন্ধ পিতা এই দুটি বিশেষ চরিত্র অধিক ছিল । প্রথম-প্রচারিত বিসর্জন, বহুবিধ সংস্কার সাধন করিয়া, ১৩০৩ আশ্বিনের কাব্যগ্রন্থাবলী’তে গৃহীত হয় ; ইহাতে পূর্বোক্ত পাত্রপাত্রীগণের মধ্যে ‘অন্ধ বৃদ্ধ’ ও ‘হাসি’ এই দুইটি চরিত্র বাদ দেওয়া হয়, এবং পাঁচটি অঙ্কে দৃশ্বসংখ্যাও হয় একুশটি মাত্র। মোটের উপর এই “কাব্যগ্রন্থাবলী’ সংস্করণের অনুসরণ করিয়া ‘১ আষাঢ়, ১৩০৬ সাল -অঙ্কিত ‘দ্বিতীয় সংস্করণ পরে প্রচারিত হয়। পূর্বোক্ত সংস্করণ ১২ ই