পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩২৯ কাতিকে শান্তিনিকেতনে ‘বিসর্জন’ নাট্যের অধ্যাপনা-কালে রবীন্দ্রনাথ যাহা বলেন, তাহাতে নাটকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য সকলেই সহজে বুঝিতে পারিবেন ; উহা এ স্থলে সংকলন করা গেল— “বিসর্জন এই নাটকের নামকরণ কোন ভাবকে অবলম্বন করে হয়েছে ? আমরা দেখতে পাই যে, নাটকের শেষে রঘুপতি প্রতিমা বিসর্জন দিলেন, এই বাইরের ঘটনা ঘটল। কিন্তু, এই নাটকে এর চেয়েও মহত্তর আর-এক বিসর্জন হয়েছে। জয়সিংহ তার প্রাণ বিসর্জন দিয়ে রঘুপতির মনে চেতনার সঞ্চার করে দিয়েছিল। সুতরাং, প্রতিমাবিসর্জন এই নাটকের শেষ কথা নয়, কিন্তু তার চেয়েও বড়ো কথা হল জয়সিংহের আত্মত্যাগ ; কারণ, তখনই, রঘুপতি সুস্পষ্ট ভাবে এই সত্যকে অনুভব করতে পারল যে, প্রেম হিংসার পথে চলে না, বিশ্বমাতার পূজা প্রেমের দ্বারাই হয়। এই মৃত্যুতে সে বুঝতে পারল যে, সে যা হারালো তা কত মূল্যবান। ছাগশিশুর পক্ষে প্রাণ কত সত্য জিনিস সে কথা অপৰ্ণাই বুঝেছিল, কিন্তু রঘুপতির পক্ষে তা বুঝতে সময় লেগেছিল। সে প্রিয়জনকে নিদারুণভাবে হারিয়ে তার পর অনুভব করতে পারল যে, প্রাণের মূল্য কত বেশি, তাকে আঘাত করলে তার মধ্যে কত বেদন । এই নাটকে বরাবর এই দুটি ভাবের মধ্যে বিরোধ বেধেছে— প্রেম আর প্রতাপ। রঘুপতির প্রভুত্বের ইচ্ছার সঙ্গে গোবিন্দমাণিক্যের প্রেমের শক্তির দ্বন্দ্ব বেধেছিল। রাজা প্রেমকে জয়ী করতে চান, রাজপুরোহিত নিজের প্রভুত্বকে । নাটকের শেষে রঘুপতিকে হার মানতে হয়েছিল । র্তার চৈতন্য হল, বোঝবার বাধা দূর হল, প্রেম হল জয়যুক্ত। নাটকের প্রথম অঙ্কে প্রথমেই দেখা দিলেন রানী গুণবতী। তার > २ २.