পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হয়েছ, আর তার জন্য বিশ্বমাতার কাছে প্রার্থন জানাচ্ছ— তবে কেন অন্য প্রাণকে বলি দিয়ে উদেশ্বসাধন করতে চাও ! বিশ্বমাতা কি প্রাণকে বোঝেন না, তিনি কি প্রাণীহত্যায় খুশি হন ? যদি তিনি তা বোঝেন তবে কেমন করে এ [ ভাবে ] ভিক্ষণ র্তার কাছে করছ ?’ মায়ের ভিতর দিয়ে প্রাণের মমতা কী করে বিশ্বে প্রকাশ পায়, অপর্ণ প্রথম দৃশ্বে সেই কথাটা বলে গেল। গুণবতী সন্তান পাবার জন্য এক শত ছাগ বলি দিতে চান, তিনি এত প্রাণের অপচয় করতে রাজী আছেন— অথচ চিন্তা করে দেখলেন না যে, এই ভিক্ষার মধ্যে কতখানি নিষ্ঠুরতা আছে। প্রাণের মূল্য কত গভীর এক দল সে কথা বুঝেছে, অন্য দল তা বোঝে নি— তাই দুই দলে বিরোধ বাধল। গুণবতী ও রঘুপতি এক দিকে এবং গোবিন্দমাণিক্য জয়সিংহ ও অপর্ণা অন্য দিকে । জয়সিংহ রঘুপতিকে পিতার মতো ভক্তি করত, সে বাল্যকাল থেকে মন্দিরের সকল অনুষ্ঠান ও পশুবলি দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই, যেখানে ভালোবাসা সেখানে রক্তপাত চলে না এই উপলব্ধি তার মনে সম্পূর্ণরূপে স্থান পেতে দেরি হয়েছিল। অপর্ণার ক্ৰন্দনেই প্রথমে তার পূর্ববিশ্বাস সম্বন্ধে সংশয় হতে শুরু হল। গোবিন্দমাণিক্য এই পশুবলির মধ্যে লিপ্ত ছিলেন না, কিন্তু জয়সিংহ শিশুকাল থেকে রঘুপতির কাছে মানুষ হয়েছে, যখন তার বিচার করবার শক্তি জন্মায় নি তখন থেকে এই রক্তপাত দেখে দেখে তার অভ্যাস হয়ে গেছে । তাই তার মনে দুই ভাবের বিরোধ উপস্থিত হল— রঘুপতির প্রতি ভক্তি ও বলির জন্য চিরাভ্যাসের জড়তা, এই অভ্যাসের কঠিন বন্ধন তার মনকে কতকটা অসাড় করে দিয়েছিল, অথচ সে ক্রমে ক্রমে বুঝতে পারছিল যে কত বড়ো অন্যায়কে সে সমর্থন করে এসেছে । অপর্ণা এসে জয়সিংহের মনকে চঞ্চল করে দিল। যে জীবকে অপর্ণা ১২8