পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কোলে করে পালন করেছে তারই রক্তধারা মন্দিরের সোপান বেয়ে পড়ছে এই দৃশ্ব দেখে সে কেঁদে উঠল । জয়সিংহের মন তাতে নাড়া খেল, সে প্রতিমার দিকে ফিরে বলল, “এ কী তোমার মায়া! এই হত্যায় মানুষের প্রাণ কেঁদে উঠছে, আর তুমি বিশ্বজননী হয়ে এতে সায় দিচ্ছ, তোমার কি দয়া নেই ! জয়সিংহের মন প্রথার বন্ধনে আবদ্ধ ছিল ; সে এই প্রথম আঘাত পেল, তার পর ক্রমে তার মনের মধ্যে এই সংগ্রাম বর্ধিত আকার ধারণ করল। দুই শক্তি জয়সিংহকে দুই দিক হতে আকর্ষণ করতে লাগল। এক দিকে অপর্ণ তাকে মন্দির ত্যাগ করতে বলছে, অপর দিকে রঘুপতি তাকে মন্দিরের সীমানায় ধরে রাখতে চায়। রঘুপতির মনে দয়ামায়া নেই, সে নিষ্ঠুর প্রথাকে পালন করে এসেছে এবং এমনিভাবে শক্তিলাভ করে বড়ো হয়ে উঠেছে। সে দেবীর সেবক বলে লোকের কাছে সন্মান ও প্রতিপত্তি পেয়ে এসেছে। সে জয়সিংহকে তার স্বপক্ষে আনতে চায়, মন্দিরের প্রথার গণ্ডির মধ্যে বাধতে চায়। কিন্তু অপর্ণ আর-এক বিরুদ্ধ শক্তি নিয়ে জয়সিংহের কাছে এসে দাড়িয়েছে। সে বললে, “এই নির্দয় পূজার মধ্যে তুমি বাস কোরো না, তুমি মন্দির ত্যাগ করে বেরিয়ে এসো। জয়সিংহের মনে তখন বিরোধ বেধে গেল। এক দল লোক বাহ্য শক্তি ও প্রাচীন প্রথাকে চিরন্তন করে রাখতে চায় ; অন্য দল বলছে প্রেমই সব চেয়ে বড়ো জিনিস । জয়সিংহ এই দোটানার মাঝখানে পড়ল এবং কোনটা শ্রেষ্ঠ পথ তা চিন্তা করে বার করবার চেষ্টা করতে লাগল । রঘুপতি পণ্ডিত, বৃদ্ধ, সন্মানিত ও শক্তিশালী। আর, অপর্ণ বালিকা, ভিখারিনী ও সমাজে অখ্যাত। কিন্তু, যে শক্তি এই নাটকে জয়ী হয়েছে অপর্ণ তাকেই প্রকাশ করছে। বাইরে থেকে তাকে দুর্বল বলে মনে হয়, কিন্তু কার্যত তারই জয় হল । অথচ, রঘুপতি শক্তিশালী— তার 》食位