পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অর্থাৎ দ্বিতীয় সংস্করণে ঝড়ের মধ্যে এই শেষ দৃশ্বের অবতারণা। জয়সিংহের প্রবেশ ও আত্মদান, অপর্ণার মূৰ্ছা, রঘুপতির প্রতিমার পদতলে ‘ফিরে দে’ ‘ফিরে দে’ বলিয়া ব্যর্থ কাতরতা— ইহাতেই এই দৃশ্বের উপর সাময়িক যবনিকাপাত হয় নাই ; অল্প পরেই রঘুপতি উঠিয়া, রোষে ক্ষোভে বলেন— দেখ, দেখ, কি করে দাড়ায়ে আছে জড়— পাষাণের স্তৃপ, মূঢ় নিৰ্ব্বোধের মত এবং তাহার পর প্রতিমা নদীস্রোতে নিক্ষেপ হইতে গুণবতীর প্রবেশ ও প্রস্থান, অপর্ণার প্রবেশ' ( মূৰ্ছাপগম ? মূৰ্ছাভঙ্গ বা প্রস্থানের কথা পূর্বে বলা হয় নাই) ও রঘুপতিকে ‘পিতা-সম্বোধন, রাজার প্রবেশ, গুণবতীর পুনঃপ্রবেশ– এ-সবই অবিচ্ছেদে চলিতে থাকে। অপর্ণার মূৰ্ছা ও রঘুপতির শোক এক দিকে আর অন্য দিকে অপর্ণার মূৰ্ছাভঙ্গে রঘুপতিকে পিতৃ-সম্বোধন, উভয়ের মধ্যেপ্রাসাদের বিভিন্ন দৃশ্ব আনা হয় নাই। মনে হয় অভিনয়ের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভাবিয়াই কবি কাব্যগ্রন্থাবলীর দৃশ্ব-ভাগ ও সন্নিবেশকে পুনরায় বহাল করেন। কাব্যগ্রন্থাবলী আবার এ বিষয়ে পূর্বগামী প্রথম-প্রচারিত গ্রন্থের অনুরূপ।

  • বিসর্জনের একাধিক অভিনয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রযোজনা ও ভূমিকাগ্রহণ করিয়াছেন। তন্মধ্যে ১৮৯০ ও ১৯•• খৃস্টাব্দে রঘুপতির ভূমিকায় অভিনয় করেন জানা যায় আর ১৯২৩ খৃস্টাব্দে জয়সিংহের ভূমিকায় । প্রত্যেক অভিনয়-কালে তৎকাল-প্রচলিত গ্রন্থের উপর নানা পরিবর্তন হইয়া থাকিবে ইহা সহজেই অনুমান করা যায় আর নূতন গান

সংযোজন করা হয় তাহারও প্রমাণ আছে । ১৯২৩ সনের বিসর্জন-অভিনয় তিন দিন হইয়াছিল এ ধারণা বহুপ্রচলিত হইলেও, শ্ৰীমতী সাহানাদেবী বলেন চার দিন আর তৎকালীন খবরের কাগজ দেখিলেও তাহাই জানা যায়। ১২৭