পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চম দৃশ্য মন্দির একদল লোকের প্রবেশ নেপাল । কোথায় হে তোমাদের তিনশো পাঠা, একশো-এক মোষ একটা টিকটিকির ছেড়া নেজটুকু পর্যন্ত দেখবার জো নেই। বাজনাবাছি গেল কোথায়, সব যে হুঁ-হঁা করছে ! খরচপত্র করে পুজো দেখতে এলুম, আচ্ছা শাস্তি হয়েছে। গণেশ। দেখ , মন্দিরের সামনে দাড়িয়ে অমন করে বলিস নে। মা পাঠ পায় নি, এবার জেগে উঠে তোদের এক-একটাকে ধরে ধরে মুখে পুরবে। হারু । কেন ! গেল বছরে বাছারা সব ছিলে কোথায় ? অার, সেই ও-বছর, যখন ব্রত সাঙ্গ করে রানীমা পুজো দিয়েছিল, তখন কি তোদের পায়ে কাটা ফুটেছিল ? তখন একবার দেখে যেতে পারে। নি ? রক্তে যে গোমতী রাঙা হয়ে গিয়েছিল। আর, আলুঙ্গুনে বেটার এসেছিস আর মায়ের খোরাক পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল ! তোদের এক-একটাকে ধরে মা’র কাছে নিবেদন করে দিলে মনের খেদ মেটে । কানু। আর ভাই, মিছে রাগ করিস। আমাদের কি আর বলবার মুখ আছে! তা হলে কি আর দাড়িয়ে ওর কথা শুনি ! হারু । তা যা বলিস ভাই, অল্পেতেই আমার রাগ হয় সে কথা সত্যি। সেদিন ও ব্যক্তি শালা পর্যন্ত উঠেছিল, তার বেশি যদি একটা কথা বলত, কিংবা আমার গায়ে হাত দিত, মাইরি বলছি, তা হলে আমি— নেপাল । তা, চলু-না দেখি, কার হাড়ে কত শক্তি আছে। ○げ