পাতা:বিসর্জন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রঘুপতি । বৃষ্টিধার। দগ্ধ ধরণীর বক্ষ-’পরে— গ’লে আসে পাষাণ হইতে দয়াময়ী স্রোতস্বিনী মরুমাঝে— কোটি কন্টকের শিরোভাগে, কেন ফুল ওঠে বিকশিয়া — ছলনা করেছ মোরে প্রভু ! দেখিতেছ মাতৃভক্তি রক্তসম হৃদয় টুটিয়া ফেটে পড়ে কিনা আমারি হৃদয় বলি দিলে মাতৃপদে । ওই দেখে হাসিতেছে মা আমার স্নেহপরিহাসবশে ।— বটে, তুই রাক্ষসী পাষাণী বটে, মা আমার রক্তপিয়াসিনী’। নিবি মা আমার রক্ত, ঘুচাবি সন্তানজন্ম এ জন্মের তরে ! দিব ছুরি বুকে ? এই শিরা-ছেড়া রক্ত বড়ো কি লাগিবে ভালো ? ওরে, মা আমার রাক্ষসী পাষাণী বটে ! ডাকিছ কি মোরে গুরুদেব ? ছলনা বুঝেছি আমি তব । ভক্তহিয়া-বিদারিত এই রক্ত চাও ! দিয়েছিলে এই-যে বেদনা, তারি প’রে জননীর স্নেহহস্ত পড়িয়াছে । দুঃখ চেয়ে সুখ শতগুণ। কিন্তু রাজরক্ত ! ছিছি ! ভক্তিপিপাসিত মাতা, তারে বলে। রক্তপিপাসিনী । বন্ধ হোক বলিদান তবে ! 丝总