বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিসূচিকার নিগূঢ় তত্ত্ব - লালমাধব মুখোপাধ্যায় (১৮৭১).pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

(১০)

তাহার ভেদ বা বমন বাটীর বাহিরে নিক্ষেপ করিবার অনেক সম্ভাবনা। এই ভেদও বমন মৃত্তিকাতে শুষ্ক হইয়া বৃষ্টিদ্বারা ধৌত হইয়া নালা মধ্য দিয়া কোন নিকটস্থ পুষ্করিণীতে পড়িতে পারে; অথবা কোন ওলাউঠা রোগী সংক্রান্ত পদার্থ, মৃত্তিকায় শুষ্ক হইয়া বৃষ্টিদ্বারা কূপে পতিত হইতে পারে। যথা হইতে নিকটস্থ ব্যক্তিগণ পানার্থ জল আহরণ করে, অথবা যে পূষ্করিণী হইতে পানীয় জল লইয়া যায়, তথায় উক্ত রোগী তদবস্থায় পরিধান বস্ত্র সহ স্নান করিলেও ঐ জল দুষিত হইতে পারে।

 এই প্রকারে এবং অন্যান্য অনেক প্রকারে এতদ্দেশে পুষ্করিণীর অথবা কূপের জল দুষিত হয়, ঐ জল পান করিয়া ব্যক্তি দিগের এই রোগ হইতে পারে। অতএব যদ্যপি নদী পুষ্করিণী অথবা কূপ সাবধান পূর্ব্বক রক্ষিত না হয়, তাহা হইলে যে সকল লোক তাহাতে জল পান করে তাহাদিগের এই রোগ হইতে পারে। আমরা পূর্ব্বে উল্লেখ করিয়াছি যে শরীরের সুস্থতা হেতু সকলের শরীর ওলাউঠা রোগ গ্রহণে উপযুক্ত নাহওয়াতে ব্যক্তি সকল উক্ত জলপান করিলেও তাহাদিগের সকলেরই এরোগ হয় না। অপর, কিছু কাল মধ্যে আপনা আপনি এই জল সংস্কত হইতে পারে। তখন আর এই জল পান করিলে ওলাউঠা রোগ হইবার কোন সম্ভাবনা নাই।



বিসূচিকা রোগের নিবারণের উপায়।

 পূর্ব্বে আমরা উল্লেখ করিয়াছি যে, ওলাউঠা রোগ এক ব্যক্তি হইতে অন্য ব্যক্তিতে গমন করিতে পারে, অথবা রোগীর বস্ত্রাদি যদি এক স্থান হইতে অন্য স্থানে আনীত হয়, তাহা হইলেও উক্ত রোগ হইতে পারে। অবশেষে আমরা ইহার প্রমাণ দেখাইয়াছি যে এ রোগ কেবল দুষিত জল পান দ্বারাই এক জন হইতে অন্য জনে যাইতে পারে। এক্ষণে আমাদিগের জিজ্ঞাস্য এই যে, কি প্রকারে স্ব স্ব শরীর এমত ভাবে রাখিতে পারি যে উক্ত রোগ না হইতে পারে।