বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিসূচিকার নিগূঢ় তত্ত্ব - লালমাধব মুখোপাধ্যায় (১৮৭১).pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

(১৩)

পুষ্করিণী হইতে জল আনয়ন করিয়া দুগ্ধের সহিত মিশ্রিত করিয়া দেয়। ইহাও হইতে পারে যে, উহার জল ওলাউঠার কোন বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা দোষপ্রাপ্ত হইয়াছে। সুতরাং দুগ্ধ পান করিলে বিসূচিকা রোগ হইতে পারে। এক্ষণে আমরা দেখিব আমরা ইহাকে নিবারণ করিতে পারি কি না।

 বোধ হয় নিজ নিজ গাভী না থাকিলে অনেকে ইহা নিবারণ করিতে পারেন না। কারণ তাহারা গোপদিগকে দুগ্ধে জল মিশ্রিত করা হইতে নিবারণ করিতে পারেন না। কিন্তু যদিও এরূপ নিবারণ করিতে না পারেন, এবং যদিও দুগ্ধ ওলাউঠা সংক্রান্ত জলের সহিত মিশ্রিত হয়, তাহা হইলেও জ্বাল দিয়া সিদ্ধ করিলে বিষাক্ত পদার্থ প্রায় দূর হইয়া যায়। অতএব যদ্যপি আমাদিগের স্ব স্ব গাভী না থাকে, অথবা গোপদিগকে বিশ্বাস না করি, তাহা হইলে আমরা কখনই অসিদ্ধ দুগ্ধ পান করিব না, বিশেষতঃ যে সময়ে অনেক ব্যক্তির ওলাউঠা হইতেছে এমন সময়ে আমরা ঐ প্রকার কখনই করিব না। আর যখন বিসূচিকার অতিশয় প্রাদুর্ভাব হয় তখন আমরা সর্ব্বাপেক্ষা এত অধিক সাবধান হইব যে আমরা কল হইতে জল তুলিয়াই এবং বায়ুতে ক্ষণমাত্র না রাখিয়া পান করিব। কলিকাতায় থাকিয়া যদ্যপি ওলাউঠা হইতে নিষ্কৃতি পাইবার ইচ্ছা থাকে তবে পরিষ্কার জল পরিষ্কার পাত্রে রাখিয়া এবং কল হইতে তুলিয়াই পান করিবে। আর অন্য কোন জল পান করিবেক না।

 ফাল্গুন, চৈত্র বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে যখন কলিকাতায় ওলাউঠা রোগ অতিশয় প্রবল হয়, তখন এই প্রকার সতর্ক হওয়া বিশেষ আবশ্যক এবং তখন আমরা কল হইতে জল আনিয়াই পান করিব, আর অন্য কোন জল পান করিব না। এই প্রকার করিলে এবং কোন কূপ বা পুষ্করিণীর জল ব্যবহার না করিলে আমাদিগের ওলাউঠা রোগ অবশ্যই হইবেক না।