(৪)
দৃষ্টি গোচর হয়নাই। এই সত্য আমরা ইতিহাস পাঠে অবগত হইতেছি। কেমন করিয়া এই রোগ ব্যাপ্ত হয় ইহার কারণ অনুসন্ধান করা ভারতবর্ষের ন্যায় বৃহৎ ও নিরক্ষর দেশে অতিশয় কঠিন। কেননা ইহা সর্ব্বদাই এদেশে উপস্থিত হইয়া থাকে। এবং তজ্জন্যই আমরা কোন্ বাটী অথবা কোন্ মনুষ্য হইতে এই রোগের প্রথম সূত্র হয় তাহার অনুসন্ধানে অসমর্থ।
কিন্তু ইংলণ্ডের ন্যায় দেশে যেখানে এ রোগ কখন কখন আবির্ভাব হয় এবং যাহা সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত এবং যথায় জাহাজ ব্যতিরেকে উপস্থিত হইবার অন্য কোন উপায় নাই, সেই স্থানে কেমন করিয়া প্রথম ব্যক্তি এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহা আমরা অনুসন্ধান করিতে সমর্থ হইয়া থাকি।
ইহা আমাদের সর্ব্বদাই দৃষ্টি গোচর হয় যে, সমুদ্রতীরবর্ত্তী নগরে এই রোগ প্রথম আবির্ভূত হয়, এবং যেদেশে এরোগ উপস্থিত ছিল তথা হইতে আগত ব্যক্তিই প্রথম এরোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই রোগাক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি হইতে অন্য ব্যক্তির অনুসরণে সমর্থ হই। একারণ আমরা বিশ্বাস করি যে, যে দেশে বিশেষ অনুসন্ধানের উপায় আছে, সে দেশে যে সকল কারণে এরোগ এক ব্যক্তি হইতে অন্য বক্তিকে আক্রমণ করে, সেই সকল কারণ দ্বারাই অবশ্য এরোগ বঙ্গদেশেও বিস্তৃ ত হইয়া থাকে এখানে এবিষয়ের অনুসন্ধান করা অতিশয় কঠিন; কারণ এদেশে এরোগ সর্ব্বদাই বর্ত্তমান থাকে। যেরূপ নিম্ববৃক্ষ, যাহা বঙ্গদেশে অতি সাধারণ এবং যাহা ইংলণ্ডে জন্মে না, তাহা যদি কেহ ইংলণ্ডের কোন উদ্যানে দৃষ্টি করে, তবে সে অবশ্যই আশ্চর্য্য হইয়া কহিবে যে, ইহা নূতন বৃক্ষ, ইহা কখনই পূর্ব্বে দৃষ্টি করি নাই, ইহা কেমন করিয়া এস্থলে আসিল? এখানে ঐ উদ্যানাধিকারীর নিকট ইহার অনুসন্ধান জানা অতি সহজ। তিনি বলিবেন যে, কোন ব্যক্তি দ্বারা বঙ্গদেশ হইতে এই গাছের বীজ প্রেরিত হইয়াছে এবং এই অনুসন্ধানকারী ইহার উৎপত্তি ও অন্যান্য বিষয় ঐ ব্যক্তি হইতে সমুদায় জ্ঞাত হইতে