(৬)
করিয়া থাকে, তথাপি ঐ সকল দেশের মধ্যে কোন কোন দেশে অদ্যাপি এই রোগের আবির্ভাব হয় নাই।
এই সকল সত্য ঘটনা পাঠে অবগত হওয়া যায় যে, ইহা কখনই সংস্রব ভিন্ন উৎপন্ন হয় না। এবং যাহা আমরা পান আহার করি কেবল সে সকল দ্রব্য হইতেও ইহার উৎপন্ন হয় না। এবং যদ্যপি এমত হইত তাহা হইলে যে সকল দ্রব্য ভারতবাসীরা আহার করিয়া থাকে, ঐ সকল দ্রব্য যেসকল দেশের লোকে ব্যবহার করিয়া থাকে তথায় এই রোগ দৃষ্টিগোচর হইত। এই কারণ বশতঃই বায়ু ঝটিকা অথবা বৃষ্টি এই রোগের কারণ বলিয়া গণ্য হইতে পারে না। কারণ এই সকল নৈসর্গিক অবস্থা এদেশেও যদ্রূপ এবং যে দেশে এরোগ দৃষ্টি গোচর হয় না সে দেশেও তদ্রূপ। এবিষয় আমরা এই রোগের ইতিহাস পাঠে অবগত হইতেছি। কেবল জল এই রোগের কারণ হইতে পারে না; কেন না পৃথিবীস্থ সমুদায় জাতিই জলপান করিয়া থাকে, কিন্তু কেবল বাঙ্গালার এবং ভারতবর্ষের অন্য কোন কোন অংশের লোকেরাই এই রোগের দ্বারাই প্রায় সর্ব্বদাই আক্রান্ত হয়। এই ইতিহাস দ্বারা স্থির সিদ্ধান্ত হইতেছে যে, কি খাদ্য সামগ্রী কি বৃষ্টি কি জল বায়ু কিছুই এই রোগের কারণ বলিয়া গণ্য হইতে পারে না। তবে উপরোক্ত বিষয় ভিন্ন এ রোগের অন্য কোন কারণ অবশ্যই থাকিবে, কারণ যদি উপরোক্ত বিষয়ের একটী কিম্বা অনেকটা এই রোগোৎপন্নের কারণ হইত, তাহা হইলে ঐ সকল বিষয় যে স্থানে ভারতবর্ষের তুল্য সমভাবে রহিয়াছে সেই সকল স্থানের মনুষ্যগণও এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হইত; কিন্তু এ প্রকার আমাদের দৃষ্টিগোচরকদাচ হয় নাই।
ইহা পূর্ব্বে উল্লেখ হইয়াছে যে, যেদেশে এই রোগ বর্ত্তমান আছে, তথা হইতে সমাগত কোন ব্যক্তি অথবা ওলাউঠা রোগীর বস্ত্রাদি না আসিলে ইংসণ্ডের ন্যায় দেশ সকলে এরোগের আবির্ভাব হইত না। ইহার বিষয় বিশেষ অনুসন্ধান করা আমাদিগের অতি আবশ্যক। যেহেতু এই রোগের যে প্রকারেই প্রথম উদ্ভব হউক না কেন, এক স্থানে